আমি কবিতা আবৃতিতে হাসির কবিতা আবৃতি করতে চাই |কিন্তু আমার হাসির কবিতা জানা নাই
3912 views

3 Answers

কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায় এর 

নন্দলাল  

কবিতাটি আবৃতি করতে পারেন ।

নন্দলাল তো একদা একটা করিল ভীষণ পণ -
স্বদেশের তরে, যা করেই হোক, রাখিবেই সে জীবন। 
সকলে বলিল, 'আ-হা-হা কর কি, কর কি, নন্দলাল?
নন্দ বলিল, 'বসিয়া বসিয়া রহিব কি চিরকাল? 
আমি না করিলে কে করিবে আর উদ্ধার এই দেশ?' 
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা বাহবা বেশ।' 
নন্দর ভাই কলেরায় মরে, দেখিবে তারে কেবা! 
সকলে বলিল, 'যাও না নন্দ, করো না ভায়ের সেবা' 
নন্দ বলিল, ভায়ের জন্য জীবনটা যদি দিই- 
না হয় দিলাম, -কিন্তু অভাগা দেশের হইবে কি? 
বাঁচাটা আমার অতি দরকার, ভেবে দেখি চারিদিক' 
তখন সকলে বলিল- 'হাঁ হাঁ হাঁ, তা বটে, তা বটে, ঠিক।' 
নন্দ একদা হঠাৎ একটা কাগজ করিল বাহির, 
গালি দিয়া সবে গদ্যে, পদ্যে বিদ্যা করিল জাহির; 
পড়িল ধন্য দেশের জন্য নন্দ খাটিয়া খুন;
লেখে যত তার দ্বিগুণ ঘুমায়, খায় তার দশ গুণ; 
খাইতে ধরিল লুচি ও ছোকা ও সন্দেশ থাল থাল, 
তখন সকলে বলিল- 'বাহবা বাহবা, বাহবা নন্দলাল।'
 নন্দ একদা কাগজেতে এক সাহেবকে দেয় গালি; 
সাহেব আসিয়া গলাটি তাহার টিপিয়া ধরিল খালি; 
নন্দ বলিল, 'আ-হা-হা! কর কি, কর কি! ছাড় না ছাই, 
কি হবে দেশের, গলাটিপুনিতে আমি যদি মারা যাই? 
বলো কি' বিঘৎ নাকে দিব খত যা বলো করিব তাহা।' 
তখন সকলে বলিল – 'বাহবা বাহবা বাহবা বাহা!' 
নন্দ বাড়ির হ'ত না বাহির, কোথা কি ঘটে কি জানি; 
চড়িত না গাড়ি, কি জানি কখন উল্টায় গাড়িখানি, 
নৌকা ফি-সন ডুবিছে ভীষণ, রেলে 'কলিসন' হয়; 
হাঁটতে সর্প, কুকুর আর গাড়ি-চাপা পড়া ভয়, 
তাই শুয়ে শুয়ে, কষ্টে বাঁচিয়ে রহিল নন্দলাল 
সকলে বলিল- 'ভ্যালা রে নন্দ, বেঁচে থাক্ চিরকাল।'
3912 views
মটু আর পাতলু

শেখ মাফিজুল ইসলাম

শুনশান পরিপাটি
ফুরফুরি নগরে
আলো করে ঝলমল
কতো রূপ আহারে।

নাগরিক জীবনে
আছে কতো ঝামেলা
আছে চোর-ডাকাতও
আছে মিস পামেলা।

‘আইডিয়া ভাণ্ডার’
পাতলুর পাবে খোঁজ
পেট মোটা মটু আছে
তাকে পাবে হর-রোজ।

‘চা-ওয়ালার’ সামুচা
বুদ্ধির বাতি দেয়
পেট মোটা মটুটার
সামুচাটা চা-ই চায়।

পুলিশের লোক আছে
‘চিংগাম’ নাম তার
চোরদের সর্দার
‘জন’ বোঝে দাম তার।

চোরদের সর্দার
দুই সাথী আছে তার
চুরি করে ধরা খায়
মার খায় বহুবার।

মটু আর পাতলু 
ঝামেলাতে পড়বেই
‘চিংগাম’ দারোগার
টনক তো নড়বেই।

পেট মোটা ডাক্তার 
ইয়া বড় নাক তার
ইয়া বড় টাক তার
ঝাটকা নাম তার।

বুদ্ধির প্যাঁচ আটে
ঘাচিটারাম আসে রোজ
মটু আর পাতলুর 
বুদ্ধির দেয় ডোজ।

বুদ্ধির ঢেকি আছে
মাথা মোটা বক্সার
অল্পেতে রেগে গেলে
মেরে করে ফ্যাক্সার।

মটু আর পাতলু
হরিহর আত্মা
ভুল করে মার খাই
তাড়া খাই কুত্তার।

বুদ্ধির কারসাজি
গিজগিজ মগজে
মটু আর পাতলু
হারে না তো সহজে।

মটু আর পাতলুর
কাণ্ডটা চলছে
খুব মজা খুব মজা
শিশুরাই বলছে।

3912 views

সফদার ডাক্তার

-হোসনে আরা

সফদার ডাক্তার
মাথা ভরা টাক তার
খিদে পেলেপানি খায় চিবিয়ে।

চেয়ারেতে রাত দিন
বসে গুনে দুই তিন
পড়ে বইআলোটারে নিভিয়ে।

ইয়া বড় গোফ তার
নাই তার জুড়ি দার
শুলে তারভুড়ি ঠেকে আকাশে।

নুন দিয়ে খায় পান
সারাক্ষন গায় গান
বুদ্ধিতেঅতি বড় পাকা সে।

রোগী এলে ঘরে তার
খুশিতে সে চার বার
কষে দেয় ডন আর কুস্তি।

তার পর রোগীটারে
গোটা দুই চাটি মারে
যেন তার সাথে কত দোস্তি।

ম্যালেরিয়া রোগী এলে
তার নাই নিস্তার
ধরে তারে দেয় কেচো গিলিয়ে।

আমাশার রোগী এলে
ই হাতে কান ধরে
পেটটারে ঠিক করে কিলিয়ে।

কলেরার রোগী এলে
দুপুরের রোদে ফেলে
দেয় তারে কুইনিন খাইয়ে।

তারপরে দুই টিন
পচা জলে তারপিন
ঢেলে তারে দেয় শুধু নাইয়ে।

ডাক্তার সফদার
নামডাক খুব তার
নামে গাও থরথরি কম্প,
নাম শুনে রোগীসব
করে জোরে কলরব
পিঠটান দেয় দিয়ে লম্ফ।

একদিন সক্ কাল
ঘটল কী জঞ্জাল
ডাক্তারে ধরে এসে পুলিশে,

হাত কড়া দিয়ে হাতে
নিয়ে গেল থানাতে
তারিখটা আষাঢ়ের উনিশে।

3912 views

Related Questions