আমার বাচ্চার বয়স ৮ মাস ৮দিন। আমি চাকরি করি। ওকে এখন কি পরিমান বাড়তি খাবার দিব এবং বুকের দুধ খাওয়াব?
1 Answers
2বছর পর্যন্ত বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ান বন্ধ করবেনা। যদি বাচ্চা বুকের দুধ না পায় সে ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ভালো কোন ফর্মুলা দুধ খাওাতে পারেন। দুধের পাশাপাশি তাকে চাল, ডাল, বিভিন্ন শব্জি যেমন পেঁপে, আলু, ঢেঁড়স ইত্যাদি দিয়ে পাতলা খিচুড়ি রান্না করে খাওয়ান। মসলা পরিহার করবেন। স্বাদের জন্য অল্প লবন দিতে পারেন। প্রথমে শুরু করবেন ১ টেবিল চামচ খাবার নিয়ে। খেয়াল রাখবেন খাবার যেন পাতলা হয় তবে জুসের মতন যেন না হয়ে যায়। বাচ্চা খিচুড়ি খেতে অভ্যস্ত হয়ে গেলে ধীরে ধীরে পরিমান বাড়াবেন। এক টেবিল চামচের জায়গায় তখন ২ টেবিল চামচ দিতে পারেন। এবং সেই সাথে খিচুরিটাও ধীরে ধীরে ঘন করে তৈরি করে দিতে হবে। খিচুড়ির সাথে সাথে বাচ্চাদের অনেকেই সেরিলাক দিয়ে থাকেন। সেক্ষেত্রে প্যাকেটের গায়ে পরিমাপ দেয়াই থাকে, সেভাবে বানিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু বাজারের জিনিস না দেয়াটাই ভালো হয়। যদি সে খেতে পছন্দ করে তবে শুধু সুজি বা সুজির সাথে বিভিন্ন ফলের টুকরা মিশিয়ে জ্বাল দিয়ে খাওাতে পারেন। অল্প চিনিও দিতে পারেন স্বাদের জন্য।
বাচ্চার ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নতুন নতুন জিনিস তার খাবারে যুক্ত করতে হবে। আয়রন যুক্ত খাবার বেশি দেয়ার চেষ্টা করবেন। দিতে পারেন কলা। বিভিন্ন ফলের জুস দিতে পারেন। তবে দোকানের জুস দিতে যাবেন না কিছুতেই। এবং গরুর দুধ আমাদের জন্য উপকারি হলেও বাচ্চার জন্য একদম নয়, তাই ১ বছরের আগে কিছুতেই গরুর দুধ দেয়া যাবেনা। বাচ্চার ৮ মাসের দিকে তাকে কিছুটা শক্ত খাবারে অভ্যস্ত করাবেন। যেন সে চিবানো শিখতে পারে। সে চিবিয়ে খেতে পারবে এভাবে সবজির পিউরি করে দিতে পারেন। কলা হাত দিয়ে চটকিয়ে খাওাতেও পারেন। আর একটা জিনিস খাওয়ানোর চেষ্টা করতে পারেন তা হল পাস্তুরিত চীজ বা দই। বাসায় দই তৈরি করতে পারলে ভালো হয়। তবে বাচ্চা সহ্য করতে না পারলে দরকার নেই। তবে অল্প অল্প প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস দিতে পারেন।
দিনে কতটুকু দিতে হবে-
বাচ্চাকে একবারে অনেক খাবার এক সাথে দিয়ে দিবেন এবং সে খেয়ে ফেলবে এটা ভাবা ঠিক নয়। আমাদের খাবারের চাহিদা এবং বাচ্চার খাবারের চাহিদা কিন্তু এক নয়। আবার সে যেন সুষম খাবার পায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। তাই এমনভাবে খাবার দিতে চেষ্টা করবেন যেন তার পুস্টির চাহিদা পুরণ হয়। খিচুরিটা বলা হয় বাচ্চার জন্য পরিপুরক একটা খাবার। তাই দিনে ১/৩ কাপ থেকে১/২ কাপ খিচুড়ি দেয়া যেতে পারে। সুজির হালুয়া দিতে পারেন ১/৪ থেকে ১/২ কাপ। সবজি পিউরি ১/৪ থেকে ১/৩ কাপ আর ফলের জুস করে, চটকে বা সুজিতেও মিশিয়ে দিতে পারেন ১/৪ থেকে ১/২ কাপ। সবজি টা কম দেয়ার কারন হল খিচুড়িতে এমনিতেই কিছু সবজি দেয়া হয়। দুধের বাইরে যদি কোন ডেইরী প্রোডাক্ট দিতে চান তবে ১/৮ থেকে ১/৪ কাপ দিতে পারেন। আর প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস দিতে পারেন ১/৮ কাপ থেকে ১/৪ কাপ। এটা খিচুড়িতে মিশিয়ে দিতে পারেন বা আলাদাও দিতে পারেন।
মনে রাখবেন বাচ্চা ছোট হলেও তার নিজস্ব পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে খাবারের ব্যাপারে। খাবার সুস্বাদু না হলে আমাদের যেমন খাবার প্রতি আগ্রহ কমে যায় বাচ্চার জন্যও কিন্তু ব্যাপারটা একই। তাই পুস্তিকর খাবার যেন সুস্বাদু হয় তা খেয়াল রাখবেন। এ জন্য দরকার মত অল্প লবন বা চিনি দিতে পারেন। তবে মসলা দিতে যাবেন না। কোন খাবার দেয়ার পরে ২ দিন অপেক্ষা করবেন তার এলার্জির কোন সমস্যা আছে কিনা জানার জন্য। আপনি যা দিবেন, সেটা আপনার বাচ্চা একবারে সব খেতে পারবে তা কিন্তু নয়। জোর করবেন না। দরকার পড়লে অল্প অল্প করে বারবার খেতে দিন। খাবার বেঁচে গেলে পরের দিনের জন্য রেখে দিবেন না। বাসি খাবার বাচ্চার জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। অনেক ক্ষেত্রেই নতুন খাবার শুরু করার পরে বাচ্চার পাতলা পায়খানা হতে পারে বা পায়খানা কষে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সবথেকে দরকারি হল আপনি আপনার সন্তানকে যেটাই খেতে দিন না কেন আগে বাচ্চার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে নেবেন। দরকারি মনে করলে তার কাছ থেকে বাচ্চার জন্য খাবার চার্ট করে আনবেন। আর এখন যেহেতু গরমের দিন তাই বাচ্চাকে পানি খাওাবেন একটু পরপর।কার্টিসিঃ পুষ্টিবীদ সাবরিনা আমান রিভী।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy