4 Answers
হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করার সহজ উপায় সত্য বলতে, হাতের লেখা ‘সুন্দর’ বা ভালো করা মোটেও কোন কঠিন কাজ নয়। হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করতে মূলতঃ যে তিনটি বিষয় প্রয়োজন সেগুলো হলো: ( To get any problem solutions. Ask your questions. Please like this page. Facebook/ Solutions. ) ১.‘সুন্দর’ করে লেখার বিষয়ে নিজের আগ্রহ বা ইচ্ছে থাকা, ২. হাতের লেখা ‘সুন্দর’ করার সঠিক ও সহজ কৌশল বা উপায় জানা, ও ৩. নিয়মিত হাতের লেখার চর্চা করা। হাতের লেখার মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের মনোযোগ, স্থিরতা ও চিন্তা করার ক্ষমতা। ‘সুন্দর’ হাতের লেখার প্রশংসা সবাই করে। আর হাতের লেখা ‘সুন্দর’ হলে পরীক্ষায়ও ভালো নম্বর পাওয়া যায়। নীচের পরামর্শগুলো অনুসরণ করলে হাতের লেখা অবশ্যই ‘সুন্দর’ হবে। • প্রতিটি অক্ষর বা বর্ণ স্পস্ট হতে হবে, যাতে আলাদা-আলাদা ভাবে বোঝা যায় যে, ঠিক কোন অক্ষর লেখা হয়েছে। বাংলা লেখার ক্ষেত্রে, মাত্রার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। ইংরেজির ক্ষেত্রে ‘ক্যপিটাল’ ও ‘স্মল’ লেটার সঠিকভাবে লিখতে হবে। ( To get any problem solutions. Ask your questions. Please like this page. Facebook/ Solutions. ) • লেখার স্টাইল বা ধরণ (যেমন, সোজা/খাড়া বা বাঁকা/কাত) যে রকমই হোক না কেন, অক্ষরগুলোর আকার ও আকৃতি একই রকম হতে হবে। অক্ষর ছোট-বড় বা মোটা-চিকন করা যাবে না। • এমন কিছু অক্ষর আছে যেগুলো সঠিকভাবে লিখতে পারলে অন্য অনেক অক্ষরও ভালো ভাবে লেখা যায়। যেমন, ‘ব’ সুন্দর করে লিখতে পারলে আরো লেখা যায় ‘ক’ ‘র’ ‘ধ’ ‘ঝ’ বা ‘ঋ’। আবার কিছু অক্ষর-এর অংশ বিশেষ ব্যবহার করা যায় অন্য অক্ষর-এর মধ্যে। • শব্দ লেখার ক্ষত্রে, অক্ষরগুলোর মধ্যে কম কিন্তু সমান দূরত্ব রাখতে হবে। প্রতিটি শব্দের মধ্যে কমপক্ষে একটি অক্ষরের পরিমাণ দূরত্ব থাকতে হবে। • অবশ্যই লাইন সোজা হতে হবে। লাইন সোজা করতে শুরুতে দাগ টানা খাতায় লেখা চর্চা করা যেতে পারে। • লেখার কগজের বামে, ডানে, উপরে ও নীচে সঠিক মার্জিন রাখতে হবে। প্রয়োজনে, ভাঁজ করা অথবা দাগ টেনে নেওয়া যেতে পারে। ( To get any problem solutions. Ask your questions. Please like this page. Facebook/ Solutions. ) • কোনো শব্দ বা লাইন ভুল হলে তা এক দাগে কেটে দিতে হবে। বেশী কাটাকাটি করা যাবে না। • দাঁড়ি, কমা, সেমিকোলন, ‘আ’কার-‘ই’কার ইত্যাদি ছোট ছোট অংশের প্রতি নজর দিতে হবে। বিন্দু বা গোল চিহ্ন-গুলো সঠিকভাবে গোল করতে হবে। ( To get any problem solutions. Ask your questions. Please like this page. Facebook/ Solutions. ) খেলাধুলা বা পড়ালেখার মত, হাতের লেখা ভালো করার ক্ষেত্রে নিয়মিত চর্চার বিকল্প নেই। প্রথমে আস্তে আস্তে ভালো করে লিখতে হবে। পরবর্তীতে দ্রুত লিখলেও লেখা ভালো হবে।
১) আলাদা আলাদা কলম ব্যবহার করুন (different types of pen)
হাতের লেখা সুন্দর করতে বা আপনি যে খাতাটায় লিখছেন সেখানে আপনার লেখা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে আলাদা আলাদা কলম ব্যবহার করুন। যেমন লেখায় পয়েন্ট করতে জেল পেন, পয়েন্টিং ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে মার্কার পেন এবং স্বাভাবিক লেখার জন্য বলপেন ব্যবহার করুন। বলপেন আপনার লেখা দ্রুত লিখতে সাহায্য করবে আর জেল ও মার্কার পেন আপনার লেখার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করবে।
২) লেখার সময় কলম খুব জোরে চেপে ধরবেন না (loosen your grip)
লিখতে গিয়ে কখনই কলম খুব বেশী চেপে ধরবেন না। চেপে ধরলে আপনার লেখার গতি কমে যাওয়ার সাথে সাথে লেখার সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই আজ থেকেই লেখার সময় কলম সামান্য আলগা করে ধরার অভ্যাস করুন লেখার ধরণ সুন্দর হওয়ার সাথে লেখাও দ্রুত হবে।
৩) লেখার সময় খেয়াল রাখুন লেখা যেন জড়িয়ে না যায় (write clearly)
আমরা অনেক সময় দ্রুত লিখতে গিয়ে একটার সাথে আরেকটা অক্ষর এমনভাবে জড়িয়ে লিখি যে কোনটা কি আলাদা করে বোঝার উপায় থাকেনা। এতে লেখা দ্রুত না হয়ে বরং কাটাকাটি করতে গিয়ে সময় ক্ষেপণ বেশী হয়। তাই লিখতে গিয়ে লেখা যাতে জড়িয়ে না যায় সেদিকে নজর রাখুন, দেখবেন লেখা নিজে থেকেই সুন্দর হয়ে যাচ্ছে।
৪) লেখা খুব বেশী বড় বড় করে লিখবেন না (write smaller)
লেখার সৌন্দর্য বজায় রাখতে যতোটা পারেন ছোট অক্ষরে লিখতে চেষ্টা করুন। ছোট বলতে মোটামুটি মাঝারি আকার। বড় বড় লেখা আপনার লেখার সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুত লেখার পথে বাধা সৃষ্টি করে।
৫) হাতের পাশাপাশি বাহুকে লেখাতে সংযুক্ত করুন (engage your arm)
এটা ঠিক লেখার ক্ষেত্রে সব থেকে বেশী হাতের প্রয়োজন পরে। কিন্তু দ্রুত লিখতে গেলে আপনাকে হাতের পাশাপাশি বাহুকেও ব্যবহার করতে হবে। আপনি যদি শুধুমাত্র হাত শক্ত করে লিখে যান লেখা খারাপ হবে ও সময় বেশী লাগবে। তাই লেখার সময় হাত শক্ত না রেখে শিথিল করে লিখুন ও হাতের বাহুর ব্যবহার ঘটান, এতে লেখা দ্রুত ও সুন্দর হবে।
আপনার পড়াশোনার জীবনে লেখার অবস্থান বলতে গেলে সবার উপরে। তাই হাতের লেখা দ্রুত ও সুন্দর করার কোন বিকল্প হয় না।
একজন শিক্ষার্থীকে হাতের লেখা সুন্দর করার জন্যপ্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে এবং চালিয়ে যেতে হবে সাধনা। পাঠ্যবই বা পত্রপত্রিকায় আমরাযে ছাপার অক্ষর দেখি তা দেখতে সুন্দর লাগে, তার প্রধান কারণ হচ্ছে ছাপার বর্ণগুলোর আকার ও আকৃতি একই ধরনের। এ বিষয়টিই সুন্দর হাতের লেখার গোপন সূত্র। অর্থাৎ সুন্দর হাতের লেখার পূর্বশর্তই হচ্ছে, বর্ণগুলোর আকার ও আকৃতি যতটা সম্ভব সমান অর্থাৎ একই রকমের হতে হবে। বিষয়টি একদিনে অর্জন করা সম্ভব নয়। প্রতিদিনযত্নের সাথে চর্চা করতে করতে একসময় আয়ত্তে চলে আসবে। শুরুর দিকে এতে করে হাতের লেখার গতি কমে যেতে পারে, কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে চর্চা চালিয়ে গেলে অল্পদিনেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা সম্ভব। লেখা সুন্দর করার উপায়ঃ- ১. বেশি লেখার অভ্যেস গড়ে তোলা উচিৎ । লিখতে লিখতে এক সময় অসুন্দর লেখাও সুন্দর হয়ে উঠে । ২. লেখার সময় নিরিবিলি পরিবেশ থাকতে হবে । মনোযোগ থাকলে লেখা সুন্দর করার চেস্টা করা যায় । ৩. সুন্দর লেখাকে অনুকরন করা উচিৎ । ৪. বাক্য ও বানান নির্ভুল হওয়া উচিৎ তাতে লেখায় কাটা ছেড়া হওয়ার সম্ভবনা কমে যায় । ৫. অনেকের লিখতে গেলে লাইন বাকা হয়ে যায় । এধরনের লেখা কখনো সুন্দর দেখায় না । তাই লেখা সোজা করে লিখতে হবে । ৬. হাতের লেখা সুন্দর করতে হলে ছোট বেলাই হচ্ছে আদর্শ সময় । তাই শিশু কাল হতে লেখার চর্চা করানো উচিৎ । ৭. লেখা শুরু করলে প্রথমে লেখা সুন্দর থাকে পরে ধীরে ধীরে লেখা খারাপ হতে থাকে ।তাই লেখার মাঝে মাঝে বিশ্রাম নিতে হবে । ৮, কিছুদিন পর পর পূর্বের হাতের লেখার সাথে মিলিয়ে তুলনা করে নিতে হবে । আর দ্রুত করতেও এই পন্থা অবলম্বন করতে পারেন।
বেশি কিছু করতে হবে না! প্রতিদিন প্র্যাকটিস করুন। এক্ষেত্রে প্রথমে বাংলা লাইন টানা খাতা ব্যাবহার করুন। যখন বুঝবেন লাইন টানা খাতায় শক্ত-পোক্ত ভাবে মানিয়ে পেরেছেন। অর্থ্যাৎ প্রতিটি বর্ণ সুন্দর ও সাবলীল হচ্ছে। তখন সাদা খাতা ব্যাবহার করুন। লেখা শেষে নিজেই চোখ বুলিয়ে পরোখ করে দেখুন কোন বর্ণ-টা মনের মতো হচ্ছে না। দরকার হলে সেটা আলাদা করে লিখুন। আর প্রতিদিন প্র্যাকটিস করুন। ব্যাস এটুকুনিই! আশা করা যায় হয়ত কয়েকদিন পর অন্য কেউ হাতের লেখা নিয়ে বিস্ময়ে প্রশ্ন করবে এবং আপনি তার উত্তর দিবেন!
ভালো থাকুন।