2 Answers

ইসলামের দৃষ্টিতে একজন আদর্শ ব্যাক্তির উল্লেখযোগ্য কয়েকটি গুণ সম্পর্কে আলোচনা পেশ করা হ’ল।-

আল্লাহকে ভয় করা :

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوْا رَبَّكُمْ إِنَّ زَلْزَلَةَ السَّاعَةِ شَيْءٌ عَظِيْمٌ، يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللهِ شَدِيْدٌ. ‘হে মানব মন্ডলী! তোমরা ভয় কর তোমাদের প্রতিপালককে। নিঃসন্দেহে ক্বিয়ামতের প্রকম্পন এক ভয়ানক ব্যাপার। যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেইদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী বিস্মৃত হবে তার দুগ্ধপোষ্য শিশুকে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ, যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্ত্ততঃ আল্লাহর শাস্তি কঠিন’ (হজ্জ ২২/১-২)

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন, ‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা প্রকৃত ভীতি সহকারে আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না’ (আলে ইমরান ৩/১০২)। অন্যত্র তিনি আরো বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। প্রত্যেকেই ভেবে দেখুক যে, আগামীকালের জন্য সে কি অগ্রিম পাঠিয়েছে। আর আল্লাহকে ভয় কর। তোমরা যা কর আল্লাহ সে সম্পর্কে অবহিত’ (হাশর ৫৯/১৮)


আল্লাহর পথে ব্যয় করা :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَأَنْفِقُواْ فِيْ سَبِيْلِ اللهِ وَلاَ تُلْقُوْا بِأَيْدِيْكُمْ إِلَى التَّهْلُكَةِ ‘তোমরা আল্লাহর পথে ব্যয় কর এবং স্বীয় হাত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না’ (বাক্বারাহ ২/১৯৫)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘যারা আল্লাহর পথে স্বীয় ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তাদের উপমা যেমন একটি শস্যবীজ, তা হ’তে উৎপন্ন হ’ল সাতটি শীষ। প্রত্যেক শীষে (উৎপন্ন হ’ল) শত শস্য এবং আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন বর্ধিত করে দেন। বস্ত্ততঃ আল্লাহ হচ্ছেন বিপুল দাতা মহাজ্ঞানী’ (বাক্বারাহ ২/২৬১)। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ মুমিনদের জান, মাল ক্রয় করেছেন জান্নাতের বিনিময়ে’ (তওবা ৯/১১১)

অর্থ কুরবানীর ন্যায় সময় ও শ্রম কুরবানীতেও অশেষ ছওয়াব রয়েছে। এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, لَغَدْوَةٌ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ أَوْ رَوْحَةٌ خَيْرٌ مِّنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيْهَا‘আল্লাহর পথে একটা সকাল অথবা একটা সন্ধ্যা ব্যয় করা দুনিয়া ও এর মধ্যস্থিত সমস্ত সম্পদ থেকে উত্তম’।[2] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন, مَا اغْبَرَّتْ قَدَمَا عَبْدٍ فِىْ سَبِيْلِ اللهِ فَتَمَسَّهُ النَّارُ‘আল্লাহর পথে কোন বান্দার পদদ্বয় ধূলিমলিন হ’লে তাকে (জাহান্নামের) আগুন স্পর্শ করবে না’।

পরকালের জন্য প্রস্ত্ততি :

মৃত্যুর পরেই মানুষের পরকালীন জীবনের হিসাব-নিকাশ শুরু হয়ে যায়। আর প্রত্যেক আত্মাকে মরতেই হবে। আল্লাহ বলেন, كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ‘প্রত্যেক আত্মাকে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করতে হবে’ (আলে ইমরান ১৮৫)। মরণের সময় মানুষের কৃতকর্মই তার সাথী হবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَجَاءَتْ كُلُّ نَفْسٍ مَّعَهَا سَائِقٌ وَّشَهِيْدٌ ‘প্রত্যেক ব্যক্তি আগমন করবে, তার সাথে থাকবে চালক ও কর্মের সাক্ষী’ (কাফ ৫০/২১)। যে শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ দুনিয়াতে পাপাচার করে, সে আল্লাহর কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বলবে, আমি তাকে পাপ কাজে লিপ্ত করিনি; বরং সে নিজেই পাপ করেছে। আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, قَالَ قَرِيْنُهُ رَبَّنَا مَا أَطْغَيْتُهُ وَلَكِنْ كَانَ فِيْ ضَلاَلٍ بَعِيْدٍ ‘তার সঙ্গী শয়তান বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমি তাকে অবাধ্যতায় লিপ্ত করিনি। বস্ত্ততঃ সে নিজেই ছিল সুদূর পথভ্রান্তিতে লিপ্ত’ (কাফ ৫০/২৭)

পরকালে প্রত্যেকে স্বীয় কর্ম দেখতে পাবে। আল্লাহ বলেন, ‘অতএব কেউ অণুপরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণুপরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে’ (যিলযাল ৯৯/৭-৮)। ইহকাল ক্ষণস্থায়ী ও পরকাল চিরস্থায়ী। আল্লাহ বলেন, وَالْآخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى ‘অথচ আখেরাতের জীবনই উত্তম ও চিরস্থায়ী’ (আলা ৮৭/১৭)


মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, ‘ক্বিয়ামতের দিন সূর্যকে মানুষের অতি নিকটবর্তী করা হবে। এমনকি তা এক মাইল পরিমাণ তাদের নিকটে হবে। তখন মানুষ সূর্যের তাপে আপন আপন আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে ডুবে থাকবে। ঘাম কারো টাখনু পর্যন্ত হবে, কারো হাঁটু পর্যন্ত হবে, কারো ঘাম কোমর পর্যন্ত হবে। আর কারো জন্য এই ঘাম লাগাম হয়ে যাবে। একথাটি বলে নবী করীম (ছাঃ) নিজের মুখের দিকে হাত দ্বারা ইশারা করলেন’।[6]

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন,يَعْرَقُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَذْهَبَ عَرَقُهُمْ فِى الأَرْضِ سَبْعِيْنَ ذِرَاعًا، وَيُلْجِمُهُمْ حَتَّى يَبْلُغَ آذَانَهُمْ‘ক্বিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষ ঘর্মাক্ত হয়ে পড়বে। এমনকি তাদের ঘাম যমীনের সত্তর গজ পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে। ঘাম তাদের লাগাম হয়ে যাবে, এমনকি তা তাদের কান পর্যন্ত পৌঁছবে’।


ভাল কাজ করা :

ভাল কাজ তথা সৎকাজ করা আদর্শ যুবকের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সৎকাজের মূল হ’ল ঈমান আনা। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَالَّذِيْنَ آمَنُوْا وَاتَّبَعَتْهُمْ ذُرِّيَّتُهُم بِإِيْمَانٍ أَلْحَقْنَا بِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَمَا أَلَتْنَاهُم مِّنْ عَمَلِهِم مِّنْ شَيْءٍ كُلُّ امْرِئٍ بِمَا كَسَبَ رَهِيْنٌ. ‘আর যারা ঈমান আনে এবং তাদের সন্তান-সন্ততি ঈমানে তাদের অনুগামী হয়, তাদের সাথে মিলিত করবো তাদের সন্তান-সন্ততিকে এবং তাদের কর্মফল, আমি কিছুমাত্র হরাস করবো না। প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ কৃতকর্মের জন্য দায়ী’ (তূর ৫২/২১)

ঈমানদার যুবকদের উদাহরণ পেশ করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘তারা ছিল কয়েক জন যুবক, তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম’ (কাহফ ১৮/১৩)

আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন মরে যায়, তখন তার সমস্ত আমলের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তিনটি আমল ব্যতীত, (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (২) উপকারী জ্ঞান (৩) সৎ সন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে।[10] সুতরাং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের জন্য ভাল কাজ করে যেতে হবে। মানুষের কর্মফল সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,لِيَجْزِيَ الَّذِيْنَ أَسَاؤُوْا بِمَا عَمِلُوْا وَيَجْزِيَ الَّذِيْنَ أَحْسَنُوْا بِالْحُسْنَى‘যারা মন্দ কর্ম করে তাদেরকে তিনি দেন মন্দ ফল এবং যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে দেন উত্তম পুরস্কার’(নাজম ৫৩/৩১)

উত্তম চরিত্র গঠন করা :

আদর্শবান হওয়ার জন্য উত্তম চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করা অতি যরূরী। আর উত্তম চরিত্রের মূর্ত প্রতীক ছিলেন নবী করীম (ছাঃ)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَإِنَّكَ لَعَلى خُلُقٍ عَظِيمٍ ‘তুমি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী’ (কলম ৬৮/৪)। অন্যত্র তিনি বলেন,

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِيْ رَسُوْلِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ يَرْجُو اللهَ وَالْيَوْمَ الْآخِرَ وَذَكَرَ اللهَ كَثِيْراً.

‘তোমাদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’(আহযাব ৩৩/২১)

আনাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি দশ বছর যাবত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সেবা করছি। তিনি আমার প্রতি  কখনো ‘উহ’ শব্দটিও  উচ্চারণ করেননি। তিনি আমার কোন কাজে কখনো অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেননি যে, এটা তুমি করলে না কেন অথবা কোন কাজ ছুটে যাওয়ার কারণেও তিনি বলেননি যে, এটা তুমি কেন করলে না।


রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, اتَّقِ اللهَ حَيْثُمَا كُنْتَ وَأَتْبِعِ السَّيِّئَةَ الْحَسَنَةَ تَمْحُهَا وَخَالِقِ النَّاسَ بِخُلُقٍ حَسَنٍ‘তুমি যেখানেই থাক আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর। মন্দ কাজের পরপরই ভাল কাজ কর, তাতে মন্দ দূরীভূত হয়ে যাবে এবং মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর’।[13]রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আরো বলেন,أَكْمَلُ الْمُؤْمِنِيْنَ إِيْمَانًا أَحْسَنُهُمْ خُلُقًا وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ خُلُقًا ‘তোমাদের মধ্যে ঈমানে পরিপূর্ণ মুসলমান হচ্ছে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি। যেসব লোক নিজেদের স্ত্রীদের নিকট উত্তম, তারাই তোমাদের মধ্যে অতি উত্তম’।

অবিচ্ছেদ্য সাক্ষী হ’তে সাবধান হওয়া :

মানুষ শরীর থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আলাদা করে চলতে পারবে না। এগুলো সব সময় মানুষের সাথে থাকে। অথচ একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে হাত দ্বারা কষ্ট দিয়ে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ তার হাত-পা দ্বারা যেসব কাজ করে, সেসব কাজের সাক্ষী দিবে তাদের হাত-পা ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন,

الْيَوْمَ نَخْتِمُ عَلَى أَفْوَاهِهِمْ وَتُكَلِّمُنَا أَيْدِيْهِمْ وَتَشْهَدُ أَرْجُلُهُمْ بِمَا كَانُوْا يَكْسِبُوْنَ

‘আমি আজ এদের মুখ বন্ধ করে দিব, এদের হাত কথা বলবে আমার সাথে এবং এদের পা সাক্ষ্য দিবে এদের কৃতকর্মের’ (ইয়াসীন ৩৬/৬৫)

আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন, ‘যেদিন আল্লাহর শত্রুদেরকে জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে এবং ওদের বিন্যস্ত করা হবে বিভিন্ন দলে। তারা যখন জাহান্নামের কাছে পেঁŠছবে, তখন তাদের কান, চক্ষু, ত্বক তাদের কর্ম সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে’ (হামীম সাজদা ৪১/১৯-২০)। তিনি আরো বলেন, যেদিন প্রকাশ করে দিবে তাদের জিহবা, তাদের হাত ও তাদের পা, যা কিছু তারা করত’(নূর ২৪/২৪)


প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আল্লাহর ইবাদত কর তাঁর সাথে কাউকে শরীক করো না। পিতা-মাতার সাথে সৎ ব্যবহার করো এবং নিকটাত্মীয়, ইয়াতীম, মিসকীনদের সাথে ভাল ব্যবহার কর। নিকট প্রতিবেশী ও দূর প্রতিবেশী এবং সৎকর্মীদের সাথে ভাল ব্যবহার কর। পথিক ও দাস-দাসীদের সাথে ভাল ব্যবহার কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ অহংকারী দাম্ভিককে পসন্দ করেন না’ (নিসা ৪/৩৬)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ. قِيلَ وَمَنْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ الَّذِى لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَايِقَهُ

‘আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হ’ল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! কে সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ থাকে না’।রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, لاَ يَدْخُلُ الْجَنَّةَ مَنْ لاَ يَأْمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ ‘সে ব্যক্তি কখনো জান্নাতে যাবে না, যার অন্যায়ের কারণে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না’।আয়েশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহর নিকটে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার অনিষ্ট হ’তে বাঁচার জন্য মানুষ তাকে পরিহার করে’।

ব্যাভিচার থেকে বেঁচে থাকা :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَلاَ تَقْرَبُواْ الزِّنَى إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَّسَاءَ سَبِيْلاً‘তোমরা যেনার নিকটবর্তীও হয়ো না। এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ’(ইসরা ১৭/৩২)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ‘যেনাকার নারী-পুরুষ প্রত্যেককে একশ’ বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান পালনে তাদের উভয়ের প্রতি তোমাদের মনে অনুগ্রহ আনা উচিত নয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাসী হও’(নূর ২৪/২)

উবাদাহ ইবনু ছামেত (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা আমার নিকট হ’তে আল্লাহর বিধান গ্রহণ কর’ কথাটি রাসূল (ছাঃ) দুইবার বললেন, আল্লাহ তা‘আলা তাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন অবিবাহিত নারী-পুরুষকে একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসন করতে হবে। আর বিবাহিত নারী-পুরুষকে ‘রজম’ করতে হবে।রাসূল (ছাঃ) আরো বলেন, ‘যেনাকার ও যেনাকারিণী ক্বিয়ামত পর্যন্ত উলঙ্গ অবস্থায় আগুনে জ্বলতে থাকবে’।

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে তিনি পবিত্রও করবেন না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাদের দিকে তাকাবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। তারা হচ্ছে- (১) বৃদ্ধ যেনাকার (২) মিথ্যাবাদী শাসক (৩) অহংকারী দরিদ্র ব্যক্তি’।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘মানুষের দু’চোখের যেনা দেখা। দু’কানের যেনা শুনা। জিহবার যেনা কথা বলা। হাতের যেনা স্পর্শ করা। পায়ের যেনা যেনার পথে চলা। অন্তরের যেনা হচ্ছে আকাঙ্ক্ষা করা। লজ্জাস্থান তার সত্য মিথ্যা প্রমাণ করে’।[22] ওমর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, অবশ্যই কোন পুরুষ কোন নারীর সাথে নির্জনে একত্রিত হ’লে তৃতীয়জন হবে শয়তান’।

রেশমী বস্ত্র, স্বর্ণালংকার এবং নারীদের সাদৃশ্যপূর্ণ পোষাক পরিহার :

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, مَنْ لَبِسَ الْحَرِيْرَ فِى الدُّنْيَا فَلَنْ يَّلْبَسَهُ فِى الآخِرَةِ ‘যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমী বস্ত্র পরিধান করবে, সে পরকালে রেশমী বস্ত্র পরিধান করবে না’।আলী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই স্বর্ণালংকার এবং রেশমী বস্ত্র আমার উম্মতের পুরুষের জন্য হারাম এবং নারীর জন্য হালাল’।

ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সে সকল পুরুষদের উপর অভিসম্পাত যারা মহিলাদের বেশ ধারণ করে’।আবু হুরায়রাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সেই পুরুষের উপর অভিশাপ করেছেন, যে মহিলাদের পোষাক পরিধান করে’।

গিঁটের নিচে কাপড় পরিধান না করা :

আবু হুরায়রাহ (রাঃ) আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি টাখনুর নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে সে জাহান্নামী’।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, لاَ يَنْظُرُ اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَى مَنْ جَرَّ إِزَارَهُ بَطَرًا ‘আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তির প্রতি করুণার দৃষ্টি দিবেন না, যে অহংকার বশতঃ কাপড় ঝুলিয়ে পরে’।

গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র পরিহার করা :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَّشْتَرِيْ لَهْوَ الْحَدِيْثِ لِيُضِلَّ عَن سَبِيْلِ اللهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَّيَتَّخِذَهَا هُزُواً أُوْلَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ

‘এক শ্রেণীর লোক আছে, যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে ভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে অন্ধভাবে গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করে এবং তা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি’ (লোকমান ৩১/৬)

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘অবশ্যই আমার পরে এমন কিছু লোক আসবে যারা যেনা, রেশম, নেশাদার দ্রব্য ও গান বাজনাকে হালাল মনে করবে’।[30] রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন,

إِنَّ اللهَ تَعَالَى حَرَّمَ الْخَمْرَ وَالْمَيْسِرَ وَالْكُوْبَةَ وَقَالَ كُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ. قِيْلَ الْكُوبَةُ الطَّبْلُ.

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা মদ, জুয়া ও সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র হারাম করেছেন’।

নেশাদার দ্রব্য পরিহার :

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوْهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের কাজ। অতএব তোমরা এগুলি থেকে বেঁচে থাক। যাতে তোমরা কল্যাণ প্রাপ্ত হও’(মায়েদাহ ৫/৯০)

ওছমান (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, اجْتَنِبُوا الْخَمْرَ فَإِنَّهَا أُمُّ الْخَبَائِثِ ‘তোমরা নেশাদার দ্রব্য থেকে বেঁচে থাক। কেননা নেশাদার দ্রব্য হচ্ছে অশ্লীল কর্মের মূল’।

--মুফতি আবদুল হান্নান।


আর স্বাভাবিক ভাবে যে গুণাবলি দরকার তা হলোঃ

 1. Good Character (উত্তম চরিত্র)

2. Maturity (পরিপক্বতা) 

3. Intelligence (বুদ্ধিমত্তা)

4. Compatibility  (পরিপূর্ণতা) 

5. Fear of God (সৃষ্টি কর্তার প্রতি ভয়)

3230 views

ন্যায়পরায়ণতা , সত্যবাদিতা , ধৈর্য , 

দুরদৃষ্টিসম্পূর্ণ , সাহায্যকারী , 

হিংসা বিদ্বেষ এর অনুপস্থিতি , 

সৃষ্টিকর্তার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ,

উত্তম চরিত্র , ভদ্র , বড়দের সম্মান 

ও ছোটদের স্নেহ করা । 

3230 views

Related Questions