6 Answers
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের প্রিয় গানগুলোর মাধ্যমে আমাদের আবেগ অনুভুতিগুলি প্রকাশ পায় যা আমরা নিজেরা গুছিয়ে প্রকাশ করতে পারি না তাই প্রিয় গান শুনলে আমাদের মন ভাল হয়ে যায়।
গানের মধ্যে অনেক সুর ও কিছু মধুর স্রুতির শব্দ থাকে। যা আমাদের মস্তিষ্ককে প্রভাবিত করে। তাই গান শনলে আমাদের মন ভালো থাকে।
গান শুনলে মস্তিষ্কের ক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি পায়।আমাদের মস্তিষ্ক সাধারণত একসাথে একটি কাজ করতে বেশী অভ্যস্থ ।তাই মন খারাপের কারণগুলো কিছু সময়ের জন্য হলেও আমরা ভুলে গিয়ে গানের কথা এবং সুষম তরঙ্গের সাথে আমাদের মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া সুষম তরঙ্গের সাথে মস্তিষ্কের নিউরনের এক ধরনের Tuning হয় বলেও ধারনা করা হয় ।তাই গান শুনলে মানুষের মন ভাল থাকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গান শুনার অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে যেমন- মানসিক চাপ কমায় এবং হৃদপিণ্ডকে শান্ত রাখে। তাই যখনই মন-মেজাজ খারাপ হবে তখন আপনার পছন্দের কোন গান শুনুন অবিলম্বেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে।
আমাদের সুস্থ থাকার জন্য যেমন ভালো পরিবেশ, পুষ্টিকর খাদ্য এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন তেমনি বিনোদনেরও প্রয়োজন আছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে গান শোনা, গান গাওয়া বা যে কোনো ভাবে গানের সাথে সম্পৃক্ত থাকলে তা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এমন কী ছোটবেলায় যদি কেউ গিটার, তবলা, হারমোনিয়াম, পিয়ানো বা অন্য যে কোনও বাদ্যযন্ত্র শিখে থাকেন সেটার ভালো প্রভাব অনেক বছর পরেও তার ওপর থাকবে। ওষুধের মত সঙ্গীতে যেহেতু কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই তাই শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রে এটির গুরুত্ব অপরিসীম। তবে এটাও ঠিক যে সঙ্গীত নির্বাচনের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে কোনটি আপনার অনুভূতিকে স্পর্শ করছে। যে গান আপনার ভালো লাগবেনা বা যে গানের কথা আপনার জন্য বিরক্তিকর হবে তা আপনার উপকারে আসবেনা। বিভিন্ন গবেষকের মতে এখানে সঙ্গীতের উপকারিতা গুলো তুলে ধরা হল।
০১. যখন কোন কাজে আলসেমি চলে আসে তখন খুব ফাস্ট বিটের গান আপনার আলসেমি দূর করতে সাহায্য করে। যেমন ব্যায়ামে আলসেমি লাগলে এরকম গান শুনতে শুনতে ব্যায়ামের চেষ্টা করুন। দেখবেন খুব দ্রুত আপনার আলসেমি কেটে যাচ্ছে আর আপনি সঠিক নিয়মে ব্যায়াম করতে পারছেন। এমনকি আগের চাইতে ব্যায়াম করার গতিও বৃদ্ধি পাবে।
০২. মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য সঙ্গীতের গুরুত্ব অপরিসীম। নিয়মিত গান শুনলে তা আপনার ভেতরের বিভিন্ন নেতিবাচক আবেগ গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবে অথবা কমিয়ে আনবে। যারা নিয়মিত তাদের প্রিয় গান বা কোন মিউজিক শোনেন তাদের কর্টিসোল হরমোন নিঃসরণ কমতে থাকে। এই হরমোন মানসিক চাপ সৃষ্টির জন্য দায়ী। কাজেই এই হরমোন নিঃসরণ কমার সাথে সাথে মানসিক চাপও কমে আসে।
০৩. আপনার হার্ট কে সুস্থ রাখতে চাইলেও নিয়মিত গান শুনুন। কারণ ইউরোপের কিছু গবেষকের মতে গান শোনার মাধ্যমে আপনার মন ভালো থাকবে, যার ফলে আপনার দেহে এক ধরনের বায়োলজিকাল পরিবর্তনের মাধ্যমে রক্তের প্রবাহ সঠিক নিয়মে হবে আর আপনার হার্ট সুস্থ থাকবে।
০৪. যেসব স্ট্রোকের রোগীরা অন্যান্য চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত তাদের প্রিয় গান শোনেন তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যান্য স্ট্রোকের রোগীদের চাইতে ভালো থাকে এবং তাদের মাঝে বিষণ্ণতাও কম থাকে।
০৫ পারকিন্সন্স এর রোগীদের অনেকের কথা বলায় বা চলাফেরায় সমস্যা হয় কিন্তু তারা যদি গান শোনার অভ্যাস করেন তাহলে তা তাদের স্পষ্ট ভাবে কথা বলতে এবং চলাফেরা করতে সাহায্য করে।
০৬ যেসব শিশু কোনও ভাবে গান বা বাদ্যযন্ত্রের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছে তারা গণিত এবং বিজ্ঞানে ভালো হয়। তাদের চিন্তাশক্তি অন্যান্য শিশুদের তুলনায় বেশি হয়। তারা অন্য শিশুদের তুলনায় খুব দ্রুত নতুন নতুন শব্দ শিখতে পারে।
মানুষের মন তার দেহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে সম্পর্ণ ভাবে | কেননা মনের প্রভাব শরীরের উপর পরে | যখন মানুষের মন কোনো কারণে খারাপ হয় তখন স্নায়ু কোষের নিউরনেকার্য ক্ষমতা ব্যহত হয় যা মনকে নিয়ন্ত্রণ করে | অপর দিকে কোনো সুরেলা শব্দ তরঙ্গ স্নায়ু কোষের চাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে | তাই যদি মন খারাপ হয় তখন সুরেলা গান শুনলে আমাদের স্নায়ু কোষের চাপ কমে আসে সে তার কার্য ক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরে পায় আর আমাদের মন ও ভালো হয়ে যায়|
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy