2 Answers
এই ব্যাবসায় লাভ-ক্ষতি নির্ভর করবে আপনার কাজের উপর। গরুর প্রয়জনীয় পানি, খড়, পুষ্টি উপাদান সঠিক ভাবে সরবরাহ করতে পারলে আপনি তিন থেকে চার মাসে একটি গরু থেকে 10000-25000 হাজার টাকা লাভ করতে পারবেন।
গরু মোটাতাজা করণ
গরু মোটাতাজাকরণ কনটেন্টটিতে গরু মোটাতাজাকরণ কীভাবে করা যায়, মোটাতাজাকরণ করার জন্য প্রশিক্ষণের প্রয়োজন আছে কিনা এবং সর্বোপরি এর মাধ্যমে কীভাবে বাড়তি আয় করা সম্ভব, সে বিষয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
গরু মোটাতাজাকরণ
আমাদের দেশে বর্তমানে গবাদিপশু থেকে যে পরিমাণ দুধ ও মাংস পাওয়া যায় তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। অন্যদিকে এদেশে বেশিরভাগ গরুর জাত অনুন্নত এবং হাড্ডিসার হওয়ার কারণে এদের থেকে মাংস কম পাওয়া যায়। দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার মাংসের চাহিদা পূরণের জন্য বিশেষ পদ্ধতিতে গরুর যত্ন নিতে হবে। খুব কম সময়ে অল্প পুঁজি খাটিয়ে গরু মোটাতাজা করে ভালো লাভ করা যায়। এ পদ্ধতিতে ৩-৪ মাস সময়ের মধ্যে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া যায়। বেশি পরিমাণে মাংস উৎপাদনের জন্য একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাবার খাইয়ে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত গরু পালন করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। এই পদ্ধতিতে পরিকল্পিতভাবে খাদ্য খাওয়ানোর মাধ্যমে গরুর দেহের মাংস ও চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করা হয়। দেশের মাংসের ঘাটতি পূরণ ও বর্ধিত জনসংখ্যার কাজের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক।
গরু মোটাতাজাকরণের সুবিধা
১. কম টাকা বিনিয়োগ করে অল্প সময়ে লাভসহ মূলধন ফেরত পাওয়া যায়।
২. দেশী এবং শংকর দুই জাতের গরুই মোটাতাজাকরণে ব্যবহার করা যায়।
৩. গরুর খামার তৈরির জন্য খুব বেশি শ্রমিক এবং দক্ষ অভিজ্ঞ শ্রমিকেরও প্রয়োজন হয় না।
৪. এ ধরণের খামারের জন্য বেশি জমিরও প্রয়োজন হয় না।
বাজার সম্ভাবনা
বাজারে যে সময় গরুর দাম কম থাকে সেসময়ে গরু ক্রয় করে যখন দাম বাড়ে তখন বিক্রি করলে লাভবান হওয়া যায়। কোরবানী ঈদের সময় গরুর দাম বেশি থাকে। তাছাড়া বর্তমানে সারাবছরই মাংসের বাজার দর স্থিতিশীল থাকায় গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসার সাথে জড়িত থাকলে লাভবান হওয়া যায়। স্থানীয় হাট-বাজার ও শহরে গরুর মাংসের চাহিদা খুব বেশি। গরুর দুধ প্রতিবেশিদের কাছে এবং বাজারে বিক্রি করা যায়।
গরু মোটাতাজাকরণের পদ্ধতি
গরু মোটাতাজাকরণের জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে, যেমন-
১. স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান নির্মাণ
২. উপযুক্ত জাত ও ধরণ অনুসারে গরু নির্বাচন ও ক্রয়
৩. সুষম খাদ্য সরবরাহ
৪. রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা
স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান নির্মাণ
১. মোটাতাজাকরণ প্রক্রিয়ায় গরুকে বেঁধে পালতে হবে।
২. আলো বাতাস যুক্ত উঁচু জায়গায় গরুর ঘর তৈরি করতে হবে। চারদিক খোলামেলা রাখতে হবে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচল করতে পারে।
৩. গোয়াল ঘরের পূর্বদিকে রোদ ঢোকার এবং দক্ষিণ দিকে বাতাস ঢোকার ব্যবস্থা করতে হবে। গোয়াল ঘরের উত্তর দিকে বেড়া দিয়ে রাখতে হবে, যেন শীতকালে উত্তরের বাতাস না ঢোকে।
৪. প্রতিটি গরুর জন্য ৩-৪ বর্গমিটার (৭ ফুট X ৫ ফুট) জায়গা হিসেবে ঘর তৈরি করতে হবে।
৫. ঘরের মেঝে ইট বিছানো বা পাকা হতে পারে তবে মসৃণ করা যাবে না। কাঁচা মেঝেতেও গরু পালন করা যায়। ঘরের মেঝের একদিকে ঢালু করতে হবে যাতে গোবর চনা ড্রেন দিয়ে দূরে গর্তে ফেলা যায়।
৬. কাঠ বা বাঁশের খুঁটি দিয়ে ঘর তৈরি করতে হবে।
৭. ঘরের চালা টিন বা শন দিয়ে তৈরি করতে হবে। গরমের সময় চালা যেন বেশি উত্তপ্ত না হয় সে ব্যবস্থা করতে হবে। টিনের চালা হলে চালার নিচে বাঁশের তৈরি চাটাই দিতে হবে।
৮. নিয়মিত ঘর পরিষ্কার পরিছন্ন রাখতে হবে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পালন ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।
উপযুক্ত জাত ও ধরণ অনুসারে গরু নির্বাচন ও ক্রয়
গরু মোটাতাজাকরণের সবচেয়ে প্রধান কাজ হলো কম দামে ভালো গরু কেনা। গরু বাছাইয়ের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে :
১. সাধারণত: দেড় থেকে দু’বছর বয়সের এঁড়ে বাছুর অথবা প্রজননের অনুপযুক্ত ষাঁড়, বকনা বা গাভী, নির্বাচন করতে হবে।
২. বিশুদ্ধ জাতের গরু অপেক্ষা শংকর জাতের গরুর শারীরিক বৃদ্ধি তাড়াতাড়ি হয় বলে শংকর জাতের গরু নির্বাচন করা ভালো।
৩. গরুর শিং দেখে সহজে বয়স চেনা যায়। এক বছর বয়স হওয়ার পর থেকে প্রতি বছর গরুর শিং-এ একটি গোল দাগ বা রিং পড়ে। গরুর বয়স যে কয় বছর হয় শিং-এ সে কয়টি গোল দাগ পড়ে। এছাড়া গরুর দাঁত দেখেও বয়স আন্দাজ করা যায়। সাধারণত দুই বছর বয়সে দুটি স্থায়ী দাঁত উঠে। এরপর প্রতি নয় মাস পর একজোড়া করে স্থায়ী দাঁত উঠে।
৪. রোগা-পাতলা, গায়ের চামড়া ঢিলা, গলকম্বল বড় ও ঝুলানো এমন গরু নির্বাচন করতে হবে।
৫. মাথা ও পা খাটো, মোটা এবং সুগঠিত গিরা এমন গরু নির্বাচন করতে হবে।
৬. বাড়ন্ত আকার, পিঠ সোজা, গোলাকৃতি গলা, চওড়া ও ভরাট বুক, প্রশস্ত পাঁজড়, দৃড় উজ্জ্বল ও ভেজা চোখ বিশিষ্ট পাতলা অথচ সুস্থ রোগহীন গরু বাছাই করতে হবে।
৭. কালো ও গাঢ় লাল রঙের গরু বাছাই করতে হবে। এতে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে|
সুষম খাদ্য সরবরাহ
গরুর ওজন অনুযায়ী সুষম খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। গাভীর জন্য পরিমাণমত সবুজ ঘাস, খড় ইত্যাদি আঁশযুক্ত খাবার দিতে হব