6 Answers
সফলতা অনেক পরিশ্রমের একটি বিষয়। জীবনে যে
কেউ সফল ব্যক্তিতে পরিণত হতে পারেন না।
যারা জীবনে সফল হয়েছেন তাদের অনেক
কাঠখড়ি পোড়াতে হয়েছে। সাধারণ মানুষদের
তুলনায় তারা কিছুটা আলাদা হয়ে থাকেন। জীবন
পরিচালনার ক্ষেত্রে তারা কিছুটা ভিন্ন
বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। এবং কি
বিশিষ্টের তারা হয়ে থাকেন তা নিয়ে আজকের
টিউন আসুন জানি কি থাকে তাদের মধ্যে!
১. তাদের একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য
থাকে :
লক্ষ্য ছাড়া সফলতা অনিশ্চিত। এই মূলমন্ত্রটি
সফল ব্যক্তিদের জানা। এ কারণেই জীবনের পথ
চলার শুরু থেকেই তারা এই মূলমন্ত্রকে অনুসরণ
করে আসেন। জীবনে একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ঠিক
করে নেন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে
যান। আর ঐ লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে কঠোর
পরিশ্রমই তাদের সফল ব্যক্তিতে পরিণত করে
দেয়।
২. তারা আত্মসচেতন হয়ে থাকেন :
জীবনের সিদ্ধান্তগুলো সঠিক সময়ে সঠিকভাবে
নেয়াটা অনেক বড় একটি কাজ। আর এই কাজটি
করতে কোনোপ্রকার দ্বিধাবোধ করেন না সফল
ব্যক্তিরা। তারা নিজেদের জীবন সম্পর্কে বেশ
সচেতন থাকেন। কোন কাজে ভাল হবে কোন
কাজে মন্দ হবে এই বিষয়ে সব সময় সচেতন
থাকেন। যার ফলে তাদের জীবনে বিফলতা খুব
কমই আসে এবং তারা সফল হন।
৩. উদ্যোগী মনোভাব :
কোনো কাজের জন্য উদ্যোগ নেয়া বিষয়টি
একেবারে ছেলেখেলা না। পৃথিবীর সব ব্যক্তিই
উদ্যোগী হতে পারেন না। অনেকেই এই
বিষয়টিকে খুব ভয় পান। কিন্তু জীবনে সফল
ব্যক্তিরা বিষয়টিকে খুব সহজভাবেই নিয়ন্ত্রণ
করেন। তারা জীবনের চ্যালেঞ্জ নিতেই বেশি
পছন্দ করেন। আর এ জন্য উদ্যোগী মনোভাবেই
নিজের কাজে এগিয়ে নিয়ে যান এবং নিজের
আত্মবিশ্বাসের কারণে তারা সত্যি সত্যি সফল
হন।
৪. স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন :
স্বপ্ন যদিও অনেকেই দেখতে ভালোবাসেন
তারপরও সফল ব্যক্তিরা স্বপ্ন দেখেন এবং তা
বাস্তায়নের চেষ্টা চালিয়ে যান। তারা কখনই
স্বপ্ন দেখে হাত পা গুটিয়ে বসে থাকেন না।
স্বপ্ন পূরণের জন্য অগ্রসর হন এবং শেষ পর্যন্ত
তাদের কঠোর পরিশ্রম দিয়ে স্বপ্ন পূরণ করেন।
৫. তারা পরিশ্রমী হয়ে থাকেন :
কথায় আছে পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। বিষয়টি
আসলেও সত্যি। কেননা পরিশ্রম করলে যে কেউ
তার ফল পাবেন। শুধুমাত্র পরিশ্রমই মানুষকে তার
স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করে এবং সফল ব্যক্তিতে
পৌঁছিয়ে দেয়।
৬. নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন
:
ছাত্র বয়সেই ক্যারিয়ারে সচেতন হয়ে থাকেন
সফল ব্যক্তিরা। আর এই ছাত্র বয়সেই অনেককিছু
করতে ইচ্ছা করে, জীবনের প্রকৃত স্বাদ পেতে
ইচ্ছা করে। দেখা গেল বন্ধুরা অনেক ধরনের মজা
করলেও সফল ব্যক্তিরা কখনই এসব বিষয়ে সময়
অপচয় করেন না। তারা এসব ক্ষেত্রে নিজেকে
নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
৭. তারা কিছুটা স্বার্থপরও হয়ে
থাকেন
শুনতে খারাপ লাগলেও এটা বাস্তব। নিজের
লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তারা যেমন ছোট ছোট
স্বার্থ ত্যাগ করতে পারেন তেমনি আবার
যেকোনো মূল্যেই নিজের স্বার্থ উদ্ধার করে
থাকেন। সবকিছুর মূলে তারা নিজের স্বপ্ন বা
লক্ষ্যটিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন এবং
সফল ব্যক্তিতে পরিণত হন।
সফল ব্যক্তির বিভিন্ন শাখা প্রশাখা আছেঃ
১। চাকুরী করে সফল হওয়া যায় যেমন- উচ্চ পর্যায়ের একজন ম্যাজিস্ট্রেট, একজন ব্যাংকার-জিএম, এজিএম, সচিব, কর্মকর্তা/ অফিসার। এক্ষেত্রে তাকে সফল বলা হয়। তবে তার মধ্যেও ব্যতিক্রম হলো সৎ অফিসার, সৎ সচিব, সৎ কর্মকর্তা। সবাই অফিসার হলেও সাধারণ মানুষের উপকারে না আসলে তাকে সফল মানুষ বা সফল ব্যক্তি বলা যায় না।
২। সফল সমাজসেবকঃ দান খয়রাত করেন, চেয়ারম্যান মেম্বার হন, মাতাব্বর হন। এরকম অনেক পাবেন ব্যতিক্রম হলো একজন চেয়্যারম্যান তার কর্মতৎপরাতায় সবার কাছে ভালো মানুষ, একজন সফল চেয়ারম্যান, সফল ব্যক্তি। একটি উপজেলায় 15জন চেয়ারম্যান থাকলেও সবাই সফল মানুষ বলা যায় না।
৩। লেখক, সাহিত্যিক, কবি ১০টি বই বাজারে আছে এমন হলেও সফল নাও হতে পারে। সফল তিনিই যিনি মানুষের কাছে ভালো মানুষ। গ্রহণযোগ্য মানুষ।
বিশ্বের বড় বড় জ্ঞানী গবেষকদের মতে কোন কাজে সফল হতে হলে চারটি বিষয় মেনে
চলতে হবে।
১. স্বপ্ন দেখতে হবে।
২. বিশ্বাস করতে হবে। (আমি পারবো, আমি পারি।)
৩. পরিকল্পনা করতে হবে।
৪. কাজে নেমে পড়তে হবে।
সূত্রঃ বিষ্ময়
সফল হওয়ার জন্য দরকার চেষ্টা।যেকোনো কাজে একবার হেরে গেলে থেমে যাবেন না, হেরে যাওয়ার পরেও সেটা থেকে জয়ী হওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।অনেক সময় উন্নতিকে অবনতি আকরে ধরে, যেমন- কোনো কাজে আপনি সফল হয়েছেন কিন্ত সফলতাটা উদিয়মান না, তখন একটু চেষ্টা করলেই সফল হওয়া যাবে।আমরা যে বৈদ্যতিক ভাল্ব দেখতে পাই, এটা যিনি আবিষ্কার করেছেন তিনি ৯৯৯৯ বার চেষ্টার পরে সফল হয়েছেন।এথেকে ধারনা নিতে হবে, একবার হেরে যাওয়া, থেমে যাওয়া নয়।সফল হওয়ার জন্য সফল ব্যক্তির অনুশরন করতে হবে, সে কীভাবে সফল হয়েছে সেই পন্থা অনুশরন করতে হবে। সফলতা না আসা পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বাঁধা ,বিফলতা যেন আপনাকে দামিয়ে রাখতে পারে। সফল ব্যাক্তি হতে হলে দুইটি জিনিষের ওপর কখনো আশা হারানো যাবে না, একঃ নিজের ওপর আস্থা, দুইঃ নিজের স্বপ্ন। সর্বপরি, সফল ব্যাক্তি হতে হলে,সব সময় নিজের যত্ন নিবেন।কারনঃ একটা প্রবাদ বাক্য আছে, সুস্থ দেহ, সুন্দর মন।তাই দৃঢ় মন নিয়ে চেষ্টা চালালে, সফলতা নিশ্চিত।
জীবনে সফল হওয়ার ৭ টি উপায়
১. Positivity—ইতিবাচক মনোভাব: যেকোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক মনোভাবের পরিচয় দিতে হবে।
২. Passion—ভালো লাগা: অন্য কারও মতো নয়, নিজের ভালো লাগার কাজটি করতে হবে।
৩. Perseverance—কঠোর অধ্যবসায়: কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং কাজের ক্ষেত্রে ১১০ ভাগ মনোযোগ দিতে হবে।
৪. Persistence—লেগে থাকা: কঠোর পরিশ্রম করে দিনের কাজ দিনেই শেষ করতে হবে। ধারাবাহিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
৫. Purpose—উদ্দেশ্য: জীবনের একটা উদ্দেশ্য খুঁজে বের করুনএবং বিশ্বাস করুন যে আপনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে সক্ষম।
৬. Patience—ধৈর্য: সাফল্য ধরা দিতে সময় নেয়। কখনো তাড়াহুড়ো করা যাবে না এবং নিজের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে চেষ্টা করতে হবে।কারণ, এটাই হয়ে উঠবে আপনার জন্য সাফল্যের গল্প।
৭. People—মানুষ: মানুষকে সব সময় বিশ্বাস করতে হবে।আপনি যা-ই অর্জন করতে চান, আপনার চারপাশে এমন কেউ না কেউ আছেন, যিনি আপনাকে সেটা অর্জনে সাহায্য করতে পারেন!
লাইফস্টাইল ডেস্ক : কোনো কিছু নিয়ে উল্টাপাল্টা ভাবনা থেকে শুরু করে অহেতুক দুশ্চিন্তা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কারের পাশাপাশি স্মৃতি রোমন্থন না করলে সহজেই সাফল্য ধরা দেবে। কয়েকটি বিষয় এড়িয়ে চলুন দুশ্চিন্তা নয়, সমাধানের চিন্তা । জীবনে সফল মানুষরা কখনো সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে না। তাই
জেনে নিন সফল হওয়ার ১০টি উপায়
১। ঘুম থেকে ওঠা- এক ঘণ্টা আগে ঘুম থেকে উঠুন- আমরা দেরি করে উঠি। তারপর সময় না পাওয়ার বাহানা খুঁজি সারা দিন। এ দিকে যে কোনও সফল মানুষকে আপনি দেখবেন তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠতে। আপনিও আদ থেকে এক ঘণ্টা এগিয়ে আনুন ঘুম থেকে ওঠার সময়। দেখবেন দিনটা অনেক বড় হয়ে যাবে। প্রথম দিকে একটু অসুবিধা হলেও ধীরে ধীরে অভ্যাস হয়ে যাবে।
২। ভিশুয়ালাইজ- নিজে জীবনে কী করতে চান সেই বিষয়ে যদি আপনার স্বচ্ছ ধারনা থাকে তবেই আপনি জীবনে সফল হতে পারবেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের পুরো দিনটা মনে মনে ছকে ফেলুন। সারা দিনে কী করতে চান, কোন কাজটা আপনাকে লক্ষ্যে পৌঁছতে সাহায্য করবে তা মনে মনে ভেবে নিন। নিজেকে সফল ভাবতে শিখুন।
৩। ব্রেকফাস্ট- সারা দিন আপনার মুড ভাল রাখতে, আপনার এনার্জি বাড়াতে কিন্তু সকালে ঠিক করে খাওয়া প্রয়োজন। এ দিকে রোজ সকালে দেরিতে ওঠার জন্য আপনি ব্রেকফাস্টের সময়ই পান না। ব্যস্ততার দোহাই দেবেন না। সফল মানুষরা কিন্তু কখনই ব্রেকফাস্ট বাদ দেন না। তাই রোজ উপভোগ করে ব্রেকফাস্ট করুন।
৪। চেক লিস্টে- গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে রাখবেন না। আমরা কাজ ফেলে রাখি যত ক্ষণ না সেটা আবশ্যিক হয়ে পড়ে। রোজ কী কী করবেন চেক-লিস্ট বানিয়ে ফেলুন। শুনতে জ্ঞানগর্ভ লাগলেও এটা অত্যন্ত ভাল অভ্যাস।
৫। নিজেক মোটিভেট করুন- আলস্য পেয়ে বসতে দেবেন না। সব সময় নিজের লক্ষ্য সামনে রাখুন। হাসির ছবি দেখুন, মন ভাল করে এমন কাজ করুন। রিল্যাক্স করুন। যাতে চাপ কমে এমন কাজ করুন। এই ভাবে নিজেকে মোটিভেট করুন। স্ট্রেস ধারে কাছে ঘেঁষতে দেবেন না।
৬। সক্রিয় থাকুন- ঘুম থেকে উঠেই কাজ শুরু করতে সমস্যা হয়। বাড়ি ফিরেও ক্লান্ত লাগে। হালকা শরীরচর্চা তাই আপনাকে সক্রিয় রাখতে জরুরি। রোজ ঘুম থেকে হালকা ব্যয়ামের রুটিন তৈরি করে ফেলুন। এতে পেশির শিথিলতা বাড়বে, রক্ত সঞ্চালন ভাল হয়ে আপনার কর্মক্ষমতা বাড়বে।
৭। বাড়ির খাবার খান- অফিসে খাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে লাঞ্চ, স্ন্যাকস নিয়ে যান। সফল হতে গেলে সুস্থ থাকতে হবে। তাই বাইরের খাবার না খেয়ে বাড়ির রান্না স্বাস্থকর খাবার খান। এতে সময়ও বাঁচবে। কাজের ফাঁকেই খেয়ে নিতে পারবেন ফলে খাওয়ার সময়ই ঠিকঠাক থাকবে।
৮। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন- আপনার ঘর কি অগোছালো? অফিসের ডেস্কে প্রচুর ফালতু কাগজ? অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে দিন। বাজে কাগজ বেশি থাকলে কাজের জিনিস খুঁজে পাবেন না। অন্য দিকে ঘর অগাছালো থাকলে আপনার কাজের এনার্জিও কমবে।
৯। রাত জাগবেন না- তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যান। সুস্থ, সবল থাকতে রাতের ঘুম প্রয়োজনীয়। অকারণে তাই রাত জাগবেন না। ল্যাপটপ বা মোবাইলে গল্প করে সময় নষ্ট করবেন না রাতে। প্ল্যান করে কাজ করলে রাত জেগে আপনাকে ফেলে রাখা কাজও করতে হবে না।
১০। কথা কম বলুন- কথা কম কাজ বেশি। ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছেন এটা। আক্ষরিক অর্থেই সত্যি। সফল মানুষরা কথা কম বলেন। চুপচাপ থাকলে মনসংযোগ বাড়ে, নিজের সঙ্গে কথা বলুন। আপনার কাজের মান বাড়বে।
এইবেলা ডটকম ওয়েব সাইট অবলম্বনে