1 Answers
বাল্যবিবাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে দারিদ্রতা। এটি মানবজীবনের জন্য অভিশাপ স্বরুপ। আর এই অভিশাপ গিয়ে পড়েছে বাংলার নিরহ, অবলা মেয়েদের ওপর। প্রত্যেক মেয়ে চায় লেখাপড়া শিখবে, ভবিষ্যতে তারা পরিবারের জন্য দেশের জন্য কিছু করবে। কিন্তু সকল মেয়েদের আশা পূরণ হয় না। দারিদ্রতা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ তাদের পরিবারের খরচ চালানো সম্ভব হয় না। তাই লেখা পড়ার প্রবল আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও লেখাপড়া করতে পারে না। তাই তাদের পরিবার তাদের বিয়ের বয়স হওয়ার আগে বিয়ে দিয়ে দেয়... বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য কারণঃ- অনটনের সংসারে ব্যয় হ্রাস বা আয় বৃদ্ধির তাড়না থাকে প্রায় সকল অভিভাবকের অন্তরে। (ক) ভবিষ্যতে 'কন্যাদায়' যেন বড় খরচের দায় হয়ে না দাঁড়ায় সেকথা মাথায় রেখে অল্পবয়সে বিয়ে সেরে ফেলতে পারলে একটা "খরচের দায়" কমে গেল! বাংলাদেশে এখনো ৬৬ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার৷ কিন্তু বাল্যবিবাহের এত বিপুল সংখ্যক ঘটনা কেন ঘটছে? তারই কিছু কারণ ব্যাখ্যা করলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এর সভাপতি আয়েশা খানম৷ তিনি বলেন, ‘‘বাল্যবিবাহের এক নম্বর কারণ দারিদ্র্য৷ আর দুই নম্বর কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের সচেতনতার অভাব৷'' তাঁর মতে, ‘‘শুধু যে দরিদ্র বা অল্প শিক্ষিত পরিবারে বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে, তা নয়৷ এমনকি শহরে অনেক শিক্ষিত পরিবারেও বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে৷ অনেক সময় দেখা যায়, বিদেশে পড়ালেখা করে এমন ছেলে পেলে মেয়ের বয়স বিবেচনা না করেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয় অভিভাবকেরা৷'' পক্ষে বলার যুক্তি: যখন একজন বাবা তার মেয়েকে বরণপোষণ দিতে পারবে না,তার চেয়ে ভালো নয় কি, বয়স কম হলেও বিয়ে দিয়ে দেওয়া,। যখন কম বয়সে মানুষ সুখের দেখা পায়,তা কি সে বয়সের কথা ভেবে দূরে ঠেলে দিবে। সামাজিকতা মানুষের চাহিদা ইত্যাদি দৃষ্টিকোন থেকে আমি বলব বা-মায়ের আর্থিক অসচলতা এ এই সমস্যার প্রধান কারন।