5 Answers
দাঁতের দুর্গন্ধ দূর করতে নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারেঃ - নিয়মিত মুখের পরিচর্যা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মুখের ভেতর খাবারের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণা যেন লেগে থাকতে না পারে সে জন্য প্রতিবার খাবারের পর অবশ্যই ভালো টুটপেষ্ট দিয়ে দাঁত মেজে মুখ পরিষ্কার করুন। জিহ্বাও পরিষ্কার করুন সেই সঙ্গে। প্রতিদিন নূন্যতম দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা পরিস্কার করুন। মাউথওয়াশও উপকারী। - ঘন ঘন পানি বা অন্য কোনো তরল পানীয় পান করুন। এতে কিছু খাবারের কণা ধুয়ে যাবে। দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী গ্যাস ধুয়ে যাবে। মুখ পরিষ্কার থাকবে। - মুখের লালা, খাদ্যকণা, জীবাণু ও দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী গ্যাস ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। মুখে লালা তৈরি করতে লবঙ্গ, আদা, চুইংগাম (চিনিমুক্ত হলে ভালো) ইত্যাদি চিবোতে পারেন।
মুখে দুর্গন্ধ (bad breath) এর মেডিকেল নাম হ্যালিটোসিস (Halitosis)। জেনে নিন হ্যালিটোসিস হওয়ার কারণ গুলোঃ ১। ব্যাকটেরিয়াঃ মুখের ব্যাকটেরিয়া প্রধান কারণ। আমাদের মুখে প্রায় ৬০০র অধিক ব্যাকটেরিয়া রয়েছে। নিয়মিত দাত ব্রাশ না করলে এরা মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি করে। ২। খাদ্যঃ কিছু কিছু খাবার আসে যেগুলো মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করে। যাদের মধ্যে পিয়াজ আর রশুন মনে হয় সবাই খুব সহজেই সনাক্ত করতে পেরেছেন। ৩। ওষুধঃ প্রায় সব ওষুধেরই কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আসে। তার মধ্যে শুষ্ক মুখ খুবই কমন একটা। যার ফলে মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ৪। দাতের রোগঃ দাঁতের রোগের কারনে অনেক সময় মুখে দুর্গন্ধ হয়। মাড়ির রোগ এ বেশি দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। ৫। সাইনুসাইটিস (Sinusitis) আপনার যদি Sinusitis এর সমস্যা থাকে তাহলেও মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। ৬। অন্যান্য দৈহিক রোগঃ বিভিন্ন ধরনের দৈহিক রোগ আপনার মুখে দুর্গন্ধের সৃষ্টি করতে পারে। তারমধ্যে liver disease, kidney disease, respiratory disease উল্লেখযোগ্য। ৭। বয়সঃ আপনার বয়স ও আপনার মুখে দুর্গন্ধের কারণ! আপনি লক্ষ্য করলে দেখবেন, বাচ্চাদের মুখে মিষ্টি একটা গন্ধ পাওয়া যায়, যেটা আপনার নেই। আপনার বয়স যতই বাড়তে থাকবে, মুখের গন্ধটাও কটু হতে শুরু করবে। এর কারণ অবশ্য এখনও ভাল ভাবে জানা যায়নি। মুখে দুর্গন্ধ হওয়া কি ভাবে প্রতিরোধ করবেন ১. প্রতিদিন নূন্যতম দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং ফ্লস দিয়ে দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা পরিস্কার করুন। ২. আপনার জিহ্বাতেও দিনে অন্তত একবার ব্রাশ করুন। ৩. আপনার দাঁত বছরে অন্তত একবার একজন প্রফেশনালকে দিয়ে পরিস্কার করিয়ে নিন এবং একজন ডেন্টিস্টকে দিয়ে পরীক্ষা করে নিন। ৪. ধুমপানের অভ্যাস থাকলে, ছেড়ে দিন। ৫. চিনি কম খাবেন, কফি, এবং এ্যালকোহল বা মদ ত্যাগ করুন মশলা জাতীয় খাবার যেমন রশুন, ঝাল মরিচ ইত্যাদি, এবং কড়া গন্ধযুক্ত খাবার যেমন শুঁটকি মাছ ইত্যাদি খাওয়া কমিয়ে দিন। ৬. প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।
দৈনিক দুইবার ব্রাশ করুনঃ ডাক্তার অজয় বলেন মানুষের ৭০% দাঁতের সমস্যা সমাধান হয়ে যায় যদি মানুষ প্রতিদিন নিয়ম করে দুইবার দাঁত ব্রাশ করে। প্রতিদিন নিয়ম করে দিনে দুইবার ২-৪ মিনিট ভালো করে দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ভালো মানের ব্রাশ ও পেস্ট ব্যবহার করুনঃ এমন জিনিস দিয়ে কখনই দাঁত ব্রাশ করবেন না যা আপনার দাঁতের ভালো করার বদলে এনামেল ক্ষয় করে ফেলবে। একটি ভালো মানের দাঁতের ব্রাশ কিনে তা দিয়ে দাঁত ব্রাশ করুন। এছাড়া ভালো মানের ফ্লুরাইড আছে এমন দাঁতের পেস্ট ব্যাবহার করুন। খাবার পর ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করুনঃ আপনি যদি বেশী বেশী নাস্তা করে থাকেন তবে প্রতিবার নাস্তার পর অবশ্যই মুখের ভেতরে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন। বিশেষ বিশেষ খাদ্য যেমন-পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, টফি লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়ার পর উত্তমরূপে দাঁত পরিষ্কার করবেন। দাঁতের ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুনঃ দাঁত ঠিক আছে কিনা তা দেখার জন্য অবশ্যই বছরে অন্তত একবার দাঁতের ডাক্তারকে দাঁত দেখান। সাধারণত আমরা দাঁতকে হেলাফেলা ভাবে দেখি, হালকা সমস্যা ভেবে অনেক কিছুই এড়িয়ে যাই। মনে রাখবেন দাঁত মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্ব পূর্ণ অঙ্গ ফলে দাঁতের জন্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে আলাদা বিভাগ রয়েছে। ধুমপান করবেননাঃ ধূমপান আপনার স্বাস্থ্যের যেমন ক্ষতিকরে পাশাপাশি আপনার দাঁতের আরও বেশী ক্ষতি করে। সিগারেটে থাকা নিকোটিন দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে ফেলে। এছাড়া নিকোটিন দাঁতে কালো দাগ তৈরি করে। সুতরাং আপনি যদি ধূমপায়ী হন তবে ধূমপান ত্যাগ করুন। ব্রাশ পরিবর্তন করুনঃ দীর্ঘদিন একই ব্রাশ ব্যাবহার করা দাঁতের জন্য ভালো নয়। আপনি যদি প্রায় ১ বছর যাবৎ একই ব্রাশ দিয়ে দাঁত ব্রাশ করে থাকেন তবে এটি এখনই পরিবর্তন করে নিন। স্বাস্থ্যকর খাবার খানঃ আপনার নিজের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আপনাকে যেমন স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে ঠিক তেমনি আপনার মূল্যবান দাঁত যেন ঠিক থাকে সে বিষয়ে নজর রেখে স্বাস্থ্য ও দাঁতের জন্য ভালো এমন খাবার গ্রহন করুন। খাবার তালিকায় দুধ জাতীয় খাবার রাখুনঃ দুধ আপনার দাঁতের গঠন মজবুত করতে সাহায্য করে। দুধ ও দুধ থেকে তৈরি খাবার খেলে আপনার দাঁত সাদা ও উজ্জ্বল হবে। চীজ, পনির, মাখন, দই ইত্যাদি দুধ থেকে তৈরি খাবার। কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকুনঃ আপনি আপনার দাঁতের সৌন্দর্য ঠিক রাখতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে বোতলজাত কোমল পানীয় থেকে দূরে থাকতে হবে। কোক অথবা পেপসিতে রয়েছে কেরামেল রং যা আপনার দাঁতকে বিবর্ণ করতে যথেষ্ট। তারপরও যদি এসব কোমল পানীয় খেতে চান তবে পাইপ বা স্ট্র ব্যবহার করুন। সুতো দিয়ে দাঁত পরিষ্কারঃ আমরা প্রতিবার খাবার গ্রহণ করার পর আমাদের দাঁতের ফাকে অনেক খাবার লেগে থাকে যা ব্রাশ কিংবা পানি দিয়ে পরিষ্কার হয়না, ফলে এক্ষেত্রে আপনি একটি চিকন সুতা দিয়ে দাঁতের ফাক সমূহ ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে পারেন, দৈনিক অন্তত দুইবার এভাবে পরিষ্কার করুন।
নিয়মিত আপনি chine Herbal tooth paste দিয়ে orecare ঔষধটি দ্বারা ব্রাশ করুন।আশা করি মুখের দুরগন্ধ দূর হবে।
মুখে দুর্গন্ধ কেন হয়ঃ ১. প্রতিবার খাবার গ্রহণে মুখের ভেতরে খাদ্য আবরণ দাঁতের ফাঁকে, মাড়ির ভেতর জমে দন্তমল সৃষ্টি হয়। পরে তা থেকে মাড়ির প্রদাহ দেখা দেয়। ২. মুখের যেকোনো ধরনের ঘা বা ক্ষত। ৩. আঁকাবাঁকা দাঁত থাকার কারণে খাদ্যকণা ও জীবাণুর অবস্থান। ৪. মুখের ভেতরে ছত্রাক ও ফাঙ্গাস। ৫. মুখের ক্যানসার। ৬. ডেন্টাল সিস্ট বা টিউমার। ৭. দুর্ঘটনার কারণে ক্ষত। এ ছাড়া দেহের অন্যান্য রোগের কারণেও মুখের দুর্গন্ধ হতে পারে, যেমন: পেপটিক আলসার বা পরিপাকতন্ত্রের রোগ, লিভারের রোগ, গর্ভাবস্থা, কিডনির জটিলতা, বাতজনিত রোগ, ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র, উচ্চ রক্তচাপ, গলা বা পাকস্থলীর ক্যানসার, এইডস, হূদেরাগ, মানসিক রোগ, নাক, কান, গলার রোগ ইত্যাদি। মুখের দুর্গন্ধ দূর করার উপায় ১. পরিষ্কার উন্নতমানের একটি ব্রাশ ও পেস্ট দিয়ে দাঁতের সব কটি অংশ ভেতরে-বাইরে পরিষ্কার করুন (তিন বেলা খাবারের পর)। ২. জিব পরিষ্কারের জন্য জিব ছোলা ব্যবহার করুন। বাজারে স্টেনলেস স্টিল অথবা প্লাস্টিকের জিব ছোলা পাওয়া যায়। ৩. যেকোনো ধরনের মাউথওয়াশ (ক্লোরহেক্সিডিন জাতীয়) দুই চামচ মুখে ৩০ সেকেন্ড রেখে ফেলে দিয়ে আবার অল্প গরম লবণপানিতে কুলকুচি করুন। প্রতিদিন অন্তত দুবার, সকালে ও রাতে খাবারের পর। ৪. অবসর সময়ে মুখের ভেতরে একটি লং বা এলাচির দানা রাখুন। ৫. প্রতিবার আহারের পর (যা কিছু খাবেন, যেমন: বিস্কুট, ফলমূলজাতীয় খাবার) সম্ভব হলে দাঁত ব্রাশ করুন অথবা কুলকুচি করে ফেলুন। ৬. ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য জর্দা, পান ইত্যাদি ত্যাগ করুন। ৭. দাঁতের ফাঁকে বা মাড়ির ভেতরে অনেক সময় খাদ্যকণা জমে পচন শুরু হয়। ডেন্টাল ফ্লস, টুথ পিকসের (একধরনের জীবাণুমুক্ত শলাকা) সাহায্যে খাদ্যকণাগুলো বের করুন।