4 Answers
চট্টগ্রাম ১, ইমামে আহলে সুন্নাত আল্লামা গাজী আজিজুল হক শেরে বাংলা (রাহঃ) সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে রাজকীয় গ্র্যাণ্ড মুফতী কর্তৃক“ শেরে ইসলাম“ ওশেরে বাংলা”উপাধি লাভ :------------------------------------------------ সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে রাজকীয় গ্র্যাণ্ডমু ফতী কর্তৃক“ শেরে ইসলাম“ ওশেরে বাংলা” উপাধি লাভ ১৯৫৭ সালে মোজাদ্দেদে দ্বীনও মিল্লাত, শামসুল মোনাজেরীন, তাজুল ওলামা হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) দ্বিতীয় বার পবিত্র হজ্ব পালন উপলক্ষে সৌদি আরব গমন করেন । ইতিমধ্যে হাটহাজারী ওহাবীরা হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) কেহেয় প্রতিপন্ন ও অপদস্থ করার জন্য নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে ।.তারা তাদের বন্দু বরও পৃষ্ঠ পোষক সৌদি সরকার র্পূবাহেু চিঠির মাধ্যমে হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) এর সৌদি আরব গমন সম্পর্কে অবহিত করে এবং সৌদি কর্তৃপদেয় যে,এই লোক মুসলমানদেরকে কাফের বলে ।.সুতরাং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হোক। নির্ধারিত দিনে নির্তিষ্ট সময়ে হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুলহক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) এয়ারপোর্ট থেকে জেদ্দা পৌঁছার পূর্বেই সৌদি পুলিশ তাঁকে এরেষ্ট করে । ২, পুলিশ জানায় ,” আপনার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে । হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) দৃঢ় কণ্ঠে তাদের কে বলেন, হজ্বে বায়তুল্লাহ ও মদীনায় হাযিরা দিতে এসেছি।’’ অতঃপর হুজুরকে সৌদি সরকারের গ্র্যাণ্ড মুফতী সৈয়দ আলবী সাহেবের নিকট নিয়ে যাওয়া হয়। গ্র্যাণ্ড মুফতী হুজুরকে প্রশ্ন করেন, আপনি কি সৈয়দ আজিজুল হকশেরে বাংলা ? ’’ হযরত শেরে বাংলা (রহঃ) হ্যাঁ সুচক জবাব দিলেন । মুফতী সাহেব জিজ্ঞেস করলেন,’’ আপনি কি মু’মিন মুসলমানদের কাফের বলেন?” হযরত শেরে বাংলা (রহঃ) তীক্ষ্ন কণ্ঠে জবাব দিলেন, আমি তো মু’মিন মুসলমান দের কাফের বলিনা। কিন্তু কিছু কিছু মুসলমান নামধরী লোককে কাফের বলি। যারা তাদের কিতাবে কুফ‘রী কালাম লিখেছে ।” উদাহরণ স্বরুপে তিনি কিতাবের উদ্ধৃতি সহকারে‘ আল্লাহ মিথ্যা কথা বলতে পারেন’ নাউযুবিল্লাহ ‘-ইত্যাদি ইত্যাদি ও হাবীদের বিভিন্ন জঘন্য ও কুফরী উক্তির উল্লেক করলেন।.এতে মুফতী সাহেব প্রমাণ জানতে চাইলেন। হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) তাঁর সাথে বহন কৃত ওহাবীদের লেখা বিভিন্ন কিতাব খুলে প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। অতঃপর হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মুহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) এর সাথে এ সমস্ত আক্বীদা বিষয়ক মাসায়েল নিয়ে উক্ত গ্র্যাণ্ড মুফতী সাহেবের সাথে দীর্ঘ ক্ষণ বাহাছ হয় ।হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) এ সমস্ত কুফরী কালামের বিরুদ্ধে এবং সঠিক আক্বীদা উপর সার গর্ভ যুক্তি প্রদর্শন করেন। হুজুরের সাহসিকতা পূর্ণ অসীম জ্ঞানের কাছে মুফতী সাহেব সম্পূণ পর্যুদস্থ ও পরাজিতহন।. ৩, হুজুরের বিরুদ্ধে উতো পূর্বে গৃহীত সমস্ত ওয়ারেণট প্রত্যাহার করা হয় এবং তাঁকে সসম্মানে হজ্ব পালন করার অনুমতি প্রদান করা হয় । হজ্ব সমাপনের পর হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আলকাদেরী (রহঃ) জিয়ারতে মদিনার উদ্দেশ্যে মদিনা মোনায়ারা পৌঁছেন।. হায়াতুন্নবী রাহমাতুল্লিল আলামীন (দঃ) এর পবিত্র জেয়ারত লাভে ধন্য হলেন ।অতঃপর সাহাবায়ে কেরামের মাজার জেয়ারত শেষে হুজুর পাক (দঃ) এর রওজা পাকের পার্শ্বে এমন এক জায়গায় দাঁড়িয়ে জেয়ারত শুরু করলেন যেখানে কোন কবর শরীফ নেই বলে কর্তব্যরত সৌদি পুলিশরা বিশ্বাস করেন। তাই কর্তব্যরত পুলিশ হুজুরকে জিজ্ঞেস করলেন,’’ এই স্থানে তো কোন কবর নেই। আপনি কার কবর জেয়ারত করছেন? হুজুর উওর দিলেন,’’ হযরত ফাতেমাতুজ‘ জোহরা (রাঃ) এর মাজার জেয়ারত করছি ।’’ পুলিশ বাহিনী আশ্চর্যান্বিত হয়ে জানতে চাইলেন,’ ’এ দাবীর স্বপক্ষে কোন প্রমাণ আছে কি?’’ হুজুর দীপ্ত কণ্ঠে বললেন,” হ্যাঁ অবশ্যই আছে। পুলিশ বাহিনী বললেন,” তাহলে আপনি আমাদের সাথে হুকুমতে চলুন।.’’ অতঃপর সৌদি পুলিশ হুজুরকে সৌদি সরকারের স্থানীয় মুফতী বৃন্দের কাছে নিয়ে যান হুজুর তাঁদের নিকট দলিল সহকারে প্রমাণ উপস্থাপন করেন । তাঁরা হুজুরের অকাট্য যুক্তি-তর্কের কাছে হার মানতে বাধ্য হন। অবশেষে পূর্বে উল্লেখিত সৌদি সরকারের রাজকীয় গ্র্যাণ্ড মুফতী সৈয়দ আলবী সাহেবকে তর্কে অংশ গ্রহণ করার জন্য আহবান করে আনা হয়। ৪, হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) এর উদ্ধৃতি মতে মিশরের আল‘ আজহার বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থগার সংরক্ষিত রেফারেণ্স গ্রন্থখানি সৌদি সরকারী লাইব্রেরী থেকে সংগ্রহ করে নিয়ে আসা হয়। হুজুর উক্ত কিতাব থেকে দলিল ও প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। অবশেষে মুফতী সাহেব হুজুরের অগাধ পাণ্ডিত্য পূর্ণজ্ঞান ও যুক্তির নিকট সম্পূর্ণ পরাজিত হলেন। অতঃপর উক্ত গ্র্যাণ্ড মুফতী সাহেব হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) কে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে অসীম জ্ঞানের স্বীকৃতি স্বরুপ’ শেরে ইসলাম’ ওরফে শেরে বাংলা’ উপাধিতে ভূষিত করে লিখিত সনদ পত্র প্রদান করেন। হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘কাদেরী (রহঃ) কে সৌদি সরকার কর্তৃক প্রদত্ত আগত বিশেষ অতিথি বৃন্দের সম্মানে আয়োজিত সভায় রাজকীয় মেহমান হিসেবে দাওয়াত প্রদান করা হয়। উক্ত সম্বর্ধনা সভায় সৌদি সরকার স্বয়ং উপস্থিত থাকেন। তা ছাড়া সৌদি সরকারের উচ্চ পদস্থ সম্মনিত ব্যক্তিবর্গ ও উপস্থিত থাকেন। সভায় বাদশাহ‘ আগমন করার সাথে সাথে সবায় দাঁড়িয়ে বাদশাহ‘ কে সম্মান জানালে কিন্তু হযরতুল আল্লামা গাজী শাহ‘ সৈয়দ মোহাম্মদ আজিজুল হক শেরে বাংলা আল‘ কাদেরী (রহঃ) এটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেন। তিরি প্রশ্ন উথ্তাপন করলেন,” আপনাদের আক্বীদা অনুযায়ী কারো সম্মানার্থে দাঁড়ানো বেদআতও শির‘ক। ” অতঃপর তিনি ওহাবীদের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওহাব লিখিত ‘কিতাবুত তাওহীদ’ থেকে সরাসরি প্রমাণ উপস্থাপন করেবলেন,” অতএব বাদশাহ‘র সম্মানে দাঁড়িয়ে আপনারা বেদআত ও কঠিন গোনাহ‘ র কাজ করেছেন।” এতে উপস্থিত গ্র্যাণড মুফতী ও অন্যান্য উচ্চ পদস্থ আলেম গণ কোন উত্তর দিতে পারলেন না। .তাঁরা সকলে এখানেও পরাজিত হতে বাধ্য হলেন এবং অকুণ্ঠচিত্তে হুজুরের অগাধ জ্ঞান ওপাণ্ডিত্যের ভূয়সী প্রশংসা করলেন.উক্ত সম্বর্ধনা সভায় সৌদি বাদশাহ‘ হুজুরের অসাধারণ জ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে উপহার স্বরুপ মূল্যবান পাহড়ি ওছড়ি প্রদান করে বিশেষ রাজকীয় মেহমান হিসেবে হুজুরকে অভিনন্দন ও সম্মন জানালেন। শুধু তাই নয় রাজকীয় মেহমান হিসেবে সসম্মানে বিদায় জানানোর কালে তিনি ভবিষ্যতে যতবার হজ্ব করতে আসতে চান তার অগ্রিম অনুমতি নামা প্রদান করা হয়। (সুবহানাল্লাহ). ইমামে আহলে সুন্নাত গাজী শেরে বাংলা রাহঃ জিন্দাবাদ. শেয়ার করুন এই অমূল্যবান পোষ্টি।
আল্লামা আজিজুল হক শেরে বাংলা (রহঃ) ১০ রমজান মতান্তরে ১৫ রমজান ১৩১৩ হিজরী, ১৮ চৈত্র মতান্তরে ২৩ চৈত্র ১২৯৯ বঙ্গাব্দ, ১২৫৪ মঘী, ৩০ মার্চ মতান্তরে ৪এপ্রিল ১৮৯৩ ইং, রোজ বৃহঃস্পতিবার মতান্তরে মঙ্গলবার ছোবহে ছাদেক্ব শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে প্রায় ৮৭ বছর বয়সে আল্লাহ তায়ালার দিদারের উদ্দেশ্যে পরলোকে পাড়ি জমান।
সেদিন আছরের নামাজের পর তাঁর নামাজে জানাজায় পর রাউজান থানার কদলপুর গ্রামে তাঁর বর্তমান মাজার শরীফে তাঁকে সমাহিত করা হয়, যা রাউজানের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় তীর্থস্থানসমূহের একটি (বাংলাপিডিয়া ৯ম খণ্ড:৪ পৃষ্ঠা)।