3 Answers
তার সালাত বাতিল, নতুবা অশুদ্ধ অথবা
তা আংশিক ।
‘ ঐ ব্যক্তির ছালাত সিদ্ধ নয়, যে ব্যক্তি
সুরায়ে ফাতিহা পাঠ করে না’-
বুখারী ২য় খণ্ড হা/৭২০ ইঃফাঃপ্রঃ;
মুসলিম(২য়) হা/৭৭১-৭৩ বাঃ ইঃ
সেন্টার প্রঃ; মুত্তাফাক আলাইহ
মিশকাথা/৮২২ ‘ছলাতে কিরায়াত’
অনুচ্ছেদ; সিহা সিত্তাহ সহ প্রায় সকল
হাদীস গ্রন্থে উক্ত হাদীসটি বর্ণিত
হয়েছে।
হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ) হ’তে বর্ণিত,
রাসুল (সঃ) এরশাদ করেছেন- ‘যে ব্যক্তি
ছলাত আদায় করল,যার মধ্যে সুরায়ে
ফাতিহা পাঠ করল না, তার ঐ ছলাত
বিকলাঙ্গ বিকলাঙ্গ বিকলাঙ্গ,
অপূর্ণাঙ্গ। হযরত আবু হুরায়রা(রাঃ)-ক
ে বলা হ’ল, আমরা যখন ইমামের পিছনে
থাকি, তখন কিভাবে পড়ব ? তিনি
বললেন, ‘তুমি ওটা ছলাতে চুপে চুপে
পড়’- মুসলিম হা/৭৭৬, আবুদাউদ হা/৮২১,
মিশকাত হা/৮২৩ ‘সালাতে
কিরায়াত’ অনুচ্ছেদ-১২|
কুরআন মাজীদ ও হাদীস শরীফ থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, জামাআতের নামাযে মুকতাদী ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা বা অন্য কোন সূরা পড়বে না। অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেঈনের মতও হলো সূরা ফাতিহা না পড়া। হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ.,হযরত ইমাম মালেক রহ. ও হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এই তিন জন ইমাম এ ব্যপারে একমত যে মুকতাদীর জন্য সুরা ফাতিহা পড়া জরুরী নয়। তবে এ ব্যপারে ইমাম শাফেয়ী রহ. জোহর ও আসরের নামাযে কেরাত পড়া ফরজ বলে মতমত প্রকাশ করেছেন। কিন্ত বর্তমান জমানায় মাযহাব বিরোধী তথাকথিত আহলে হাদীস সম্প্রদায়ের লোকেরা এ ব্যপারে খুব বাড়াবাড়ির শিকার। সর্ব সাধারণকে তারা এ বলে ধোকা দিচ্ছে যে, সুরা ফাতিহা না পড়লে কোন মুকতাদীর নামাযই হবে না। মুকতাদীর জন্য বিধান হলো সূরা ফাতিহা না পড়া এ সম্পর্কে দলীল প্রমাণ নিম্নে পেশ করা হল। কুরআনের বক্তব্য: মহান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন, { ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗُﺮِﺉَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻌُﻮﺍ ﻟَﻪُ ﻭَﺃَﻧْﺼِﺘُﻮﺍ ﻟَﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗُﺮْﺣَﻤُﻮﻥَ { [ ﺍﻷﻋﺮﺍﻑ : 204 ] অর্থাৎ আর যখন কুরআন তেলাওয়াত করা হয় তখন তোমরা কান পেতে অত্যন্ত মনোযোগের সাথে তা শ্রবন কর এবং নীরব থাক, যেন তোমরা রহমত প্রাপ্ত হতে পার। এ আয়াতের ব্যাপারে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী অধিকাংশ ওলামায়ে কেরাম , ফুকাহায়ে এজাম, আইম্মায়ে মুযতাহিদীন , মুহাদ্দিসীন ও আইম্মায়ে মুফাসসিরীন তখা তাফসীর শাস্ত্রের ইমামগণের সম্মিলিত মত হচেরছ যে, উক্ত আয়াতটি নামায সম্পর্কে অবতীর্ন হয়েছে। এবং এর মাঝে মুক্তাদীগণের কর্তব্য সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ নামাযে যখন কিরাত পড়া হবে তখন মুক্তাদীর কর্তব্য হচ্ছে অত্যন্ত মনোযোগ ও একাগ্রতার সাথে ইমামের কিরাত শুবণ করা। পাঠক! এখানে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে যে, আল্লাহ তা’আলা এ আয়াতে, ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻗُﺮِﺉَ ﺍﻟْﻘُﺮْﺁﻥُ (যখন কুরআন পাঠ করা হয়।) এ অংশের পর দুটিচ শব্দ উল্লেখ করেছেন। একটি হচ্ছে – ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻌُﻮﺍ (মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর) আর অপরটি হচ্ছে- ﻭَﺃَﻧْﺼِﺘُﻮﺍ (এবং নীরব থাক) সুতরাং শব্দ দুটি সুস্পষ্টভাবে একথার প্রমাণ করে যে, যদি ইমাম উচ্চ আওয়াতে কিরাত পড়ে তাহলে মুক্তাদীর কর্তব্য হচ্ছে, সে মনোযোগের সাথে উক্ত কিরাত শ্রবণ করবে। আরন (দ্বিতীয় শব্দটি অর্থাৎ ﻭَﺃَﻧْﺼِﺘُﻮﺍ (নীরব থাকবে) বলার দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, যদি ইমাম নিম্ন আওয়াজেও কিরাত পড়ে তাহলেও মুক্তাদীগন নীরবই থাকবে, কিছুই পড়বে না। অন্যথায় আল্লাহ ﻓَﺎﺳْﺘَﻤِﻌُﻮﺍ (মনোযোগের সাথে শ্রবণ করবে) বলার পর পুনরায় ﻭَﺃَﻧْﺼِﺘُﻮﺍ (এবং নীরব থাকবে) শব্দটি উল্লেখ করার কোনই অর্থ হয় না। তাই মুক্তাদী জাহরী বা (সরব) নামাযে যেরূপ নীরব থাকবে সিররী নামাযেও অনুরূপই নীরব থাকবে। উক্ত আয়াত সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা.) তাফসীর: সাহাবাগণের মাঝে যারা কুরআনে কারিমের শিক্ষক ছিলেন তাদের মাঝে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের (রা) নাম ছিল সর্বাগ্রে। রাসূল (সা) ইরশাদ করেন, « ﺍﺳْﺘَﻘْﺮِﺋُﻮﺍ ﺍﻟﻘُﺮْﺁﻥَ ﻣِﻦْ ﺃَﺭْﺑَﻌَﺔٍ ﻣِﻦْ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻣَﺴْﻌُﻮﺩٍ، ﻭَﺳَﺎﻟِﻢٍ ﻣَﻮْﻟَﻰ ﺃَﺑِﻲ ﺣُﺬَﻳْﻔَﺔَ، ﻭَﺃُﺑَﻲِّ ﺑْﻦِ ﻛَﻌْﺐٍ، ﻭَﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑْﻦِ ﺟَﺒَﻞٍ » ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ( /5 28 ) অর্থাৎ তোমরা এই চার সাহাবা থেকে কুরআনুল কারিমের শিক্ষা গ্রহণ কর।