কি কারনে শিগগিরই ইসলামী ব্যাংক সহ জামায়াতের সব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের 'নিয়ন্ত্রন নেবে সরকার'?
1 Answers
খুব দ্রুতই যে আইনে জামায়াত নিষিদ্ধ হবে, সে আইনেই তাদের নিয়ন্ত্রিত সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে এমন মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াত নিষিদ্ধ হলে ইসলামী ব্যাংকসহ তাদের সব ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে আনার কথা বললেও এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাতে চাননি মন্ত্রী।
জামায়াতে ইসলামী তাদের ৮ ধরণের ব্যবসা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গত বছর আড়াই হাজার কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে৷ আর গত ৪০ বছরে তাদের পুঞ্জীভূত মুনাফার পরিমাণ আড়াই লাখ কোটি টাকা ।
এ বছরের মধ্যেই জামায়াত ইসলামীকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ করা হবে, অনেকবার এ কথা বলেছেন সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীরা। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্ম ইসলামকে ব্যবহার করে দলটি বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের সহযোগিতায় ব্যাংক-বীমাসহ ৮টি খাতে প্রচুর বিনিয়োগও করেছে।
জামায়াত নিষিদ্ধ হলে তাদের এই বিশাল অর্থনীতি পুরোটাই চলে যাবে সরকারের নিয়ন্ত্রণে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘জামাত-শিবির যদি ব্যান্ড হয় তাহলে তাদের সকল সম্পত্তি সরকার নিয়ে নেবে। যদি ব্যন্ড হয় তাহলে এটা ছাড়া আর কোন সুযোগ নেই। প্ল্যানিং সম্পর্কে আমি কোন ভিউস দিচ্ছি না। তবে এটা যদি হয় তাহলে অবশ্যই তাদের সকল প্রপার্টি সরকার নিয়ে নেবে। ইতিপূর্বে যেভাবে হয়েছে এবারও সেভাবেই হবে।’
অর্থমন্ত্রী মনে করেন, এই দেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করে না তাদের দেশ ছেড়েই চলে যাওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমি বলি জামাত শিবিরের এদেশে থাকারই কোন অধিকার নাই। যদি তারা স্বাধীনতায়ই বিশ্বাস না করে তাহলে তার এদেশে থাকা উচিত নয়।’
অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে শুক্রবার বাংলাদেশে মৌলবাদের রাজনৈতিক অর্থনীতি ও জঙ্গিবাদ: মর্মার্থ ও করণীয় শিরোনামে জাতীয় সেমিনারে জামায়াতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তৃত তথ্য জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ডক্টর আবুল বারকাত।
প্রসঙ্গত, অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাত সম্প্রতি তার এক গবেষণার সুত্রে বলেন, জামায়াতে ইসলামীর অর্থনৈতিক ভিত খুবই শক্তিশালী। তারা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে না পারলেও অর্থনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছে কৌশলে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পর তা হয়েছে প্রকাশ্যে এবং কখনো কখনো সরকারের সহায়তায়। এখন তাদের ব্যাংক, বিমা, শিল্পসহ ৮টি সেক্টরে শত শত প্রতিষ্ঠান আছে।
এসব প্রতিষ্ঠান থেকে তারা বছরে নিট মুনাফা করছে হাজার কোটি টাকা। এই টাকার বড় একটি অংশ ব্যয় হচ্ছে জঙ্গি তৎপরতা ও মৌলবাদ সম্প্রসারণে। বর্তমানে শাহবাগের গণজাগরণকে ভণ্ডুল করতেও তারা অর্থ ব্যয় করছে৷ আবুল বারাকাত জানান, আর্থিক ভিত শক্ত থাকার কারণেই জামায়াতের ৭ লাখ সার্বক্ষণিক কর্মী আছে। যাদের ভরণপোষণ থেকে সব কিছুই বহন করে জামায়াত।
অধ্যাপক বারাকাত মনে করেন, জামায়াতের এসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে৷ তা না হলে শুধু জামায়াত নিষিদ্ধ করে কোন লাভ নেই। তাদের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করতে হবে। তাঁর মতে, শুধু দেশে নয় বিদেশেও জামায়াতের নানা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। সেগুলোর ব্যাপারেও খোঁজখবর নেয়া দরকার।