যথাযথ প্রমাণ সহ উত্তর আশা করছি?
1 Answers
হ্যাঁ, দান হবে এবং নেকি পাওয়া যাবে। "তাদের মধ্যে এমন লোকও আছে, যারা সদকা বণ্টন সম্পর্কে তোমাকে দোষারোপ করে। অতঃপর এর কিছু অংশ তাদের দেওয়া হলে তারা পরিতুষ্ট হয়, আর এর কিছু অংশ তাদের না দেওয়া হলে তৎক্ষণাৎ তারা বিক্ষুব্ধ হয়।" (সুরা তাওবা, আয়াত : ৫৮) তাফসির : মুনাফিকদের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার ধারাবাহিকতায় এই আয়াতে তাদের অর্থলিপ্সা বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। দুর্দিনে মুনাফিকদের সহযোগিতা পাওয়া না গেলেও সুদিনে তারা বিভিন্ন দান-অনুদানের ক্ষেত্রে মুসলমানদের সঙ্গে ভাগ বসায়। মুসলমানরা বৈষয়িক যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, সেগুলো পাওয়ার জন্য তারা অধীর অপেক্ষায় থাকে। এক দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) সদকার কিছু সম্পদ বণ্টন করছিলেন, তখন জুল খুওয়াইসারা নামের এক ইহুদি এসে বলতে লাগল, ‘হে মুহাম্মদ! ইনসাফের সঙ্গে বণ্টন করুন।’ তার কথায় মর্মাহত হয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘এ কেমন কথা, আমি যদি ইনসাফের সঙ্গে বণ্টন না করি, তাহলে আর কে ইনসাফের সঙ্গে বণ্টন করবে?’ (বুখারি, নাসায়ি) এই প্রেক্ষাপটে আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়। তবে আয়াতের বক্তব্য সব যুগের সব মুনাফিকের জন্য প্রাসঙ্গিক। মুনাফিকরা অন্তরে কুফরির কথা লুকিয়ে রাখলেও মুসলমানরা সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও বৈষয়িক যেসব সুবিধা ভোগ করে, তা গ্রহণে তারা কার্পণ্য করে না। এমনকি এগুলো হারানোর ভয়েই তারা নিজেদের কুফরির কথা প্রকাশ করে না। অমুসলিমদের দান-সদকা করার বিধান আলোচ্য আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয়, মুনাফিকরাও সদকার অংশ পেত। তবে তাদের মনমতো অর্থ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তারা নানা আপত্তি করত। সদকা শব্দটি সাধারণত নফল দান-অনুদান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সেই অর্থে যেকোনো অমুসলিমকে দান করা সব আলেমের ঐকমত্যে বৈধ। অমুসলিম প্রতিবেশী আক্রান্ত হলে, তারা বিপদগ্রস্ত হলে মুসলমানদের উচিত তাদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া। আর সদকা শব্দটি কখনো জাকাত অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এটি মুনাফিকদেরও দেওয়া যায়। কেননা তারা নিজেদের মুসলমান বলেই পরিচয় দেয়। ইহজগতে মানুষের কর্মকাণ্ড বাহ্যিক কাজকর্মের আলোকেই বিচার করা হয়। কারো অন্তরের খবর আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না। তাই প্রকাশ্যে কারো সম্পর্কে কুফরির প্রমাণ পাওয়া না গেলে তার সঙ্গে মুসলমানদের মতো আচরণ করতে হবে। (বয়ানুল কোরআন) তবে ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি জাকাত অমুসলিমদের দেওয়া যাবে না। কেবল জাকাতের ক্ষেত্রে বিধানের স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখা হয়েছে। অন্যথায় যেকোনো দান-সদকা, এমনকি ফিতরাও অমুসলিমদের দেওয়া যায়। এখানে লক্ষণীয় যে জাকাত দিতে হয় বছরে একবার। মুসলিম ধনীদের মধ্যে কারো প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা কিংবা এর অর্থমূল্য পরিমাণ সম্পদ মজুদ থাকলে এবং এর ওপর পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে তার ওপর জাকাত ওয়াজিব হয়। এটি ধনীদের সম্পদ থেকে ২.৫ শতাংশ আদায় করতে হয়। অন্যদিকে সদকা বছরের যেকোনো সময় অনির্দিষ্ট পরিমাণ মুসলিম-অমুসলিম সবাইকে দেওয়া যায়। তা ছাড়া সদকা ধনীরা ছাড়াও মোটামুটি সচ্ছল যে কেউ আদায় করতে পারে। ইসলামের প্রধান লক্ষ্য মানবতার কল্যাণ। মুসলিম ও অমুসলিমদের মধ্যে বৈরী মনোভাব দূর করার জন্য পারস্পরিক লেনদেন, দান-অনুদান বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। মানবতার বাসযোগ্য একটি সুন্দর পৃথিবী উপহার দিতে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ গঠনের বিকল্প নেই।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy