1 Answers

টেস্টিং সল্ট খাবার সুস্বাদু করার জন্য আমরা এক ধরনের লবণ ব্যবহার করি, যা টেস্টিং সল্ট নামে পরিচিত। আসলে এটি মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট। গ্লুটামেট হচ্ছে প্রোটিন বা আমিষের উৎস। যেমন_ দুধ, পনির, মাছ, মাংস ইত্যাদি থেকে প্রাপ্ত এক প্রকার অ্যামিনো এসিড। কোথায় ব্যবহার হয়? টেস্টিং সল্ট সব ধরনের খাবারে ব্যবহার হয় না। বিশেষ করে স্যুপ , মাংস দিয়ে তৈরি খাবার, নুডলস ইত্যাদিতে বেশি ব্যবহার করা হয়। এ ছাড়া বাজারজাত বিভিন্ন ধরনের খাবার, যেমন চানাচুর, বিস্কুট, স্ন্যাকস, চায়নিজ খাবার, ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণ টেস্টিং সল্ট ব্যবহার হয়। দেশের বাজারে যেসব পটেটো চিপস বিক্রি হয়, তাতে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। স্নায়ুতে বিষক্রিয়া তৈরি করে এমন এই উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। টেস্টিং সল্টের ক্ষতিকর দিক বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে, টেস্টিং সল্ট মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। স্নায়ুতন্ত্র টেস্টিং সল্ট শরীরে আক্সসাইটোটক্সিন হিসেবে কাজ করে। এর অর্থ খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে এটি মস্তিষ্ককে উদ্দীপ্ত করে_এমন পরিবেশ সৃষ্টি করে যে মনে হয় খাবারটি খুবই সুস্বাদু, যা খাবারের প্রতি আসক্তি বৃদ্ধি করে। স্নায়ুতন্ত্রের ওপর টেস্টিং সল্টের এমন প্রভাব স্নায়ুর ক্ষতি করে। বিজ্ঞানীরা একে স্বায়ু-বিষ বলেন।এটার আরেক নাম হচ্ছে “চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম”। হৃদযন্ত্র হৃদযন্ত্রের কোষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফলে মাথাব্যথা, বুকব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ ভাব দেখা দেয়। এ ছাড়া ওজন বৃদ্ধি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা খাবারে বেশি টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করে তাদের ওজন বৃদ্ধি ঘটে দ্রুত। কারণ এটি মানুষের খাওয়ার চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। যাদের অ্যাজমার সমস্যা রয়েছে তারা টেস্টিং সল্ট খেলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। উপকারিতা টেস্টিং সল্ট খাবারে স্বাদ বাড়ায়, তাই যাদের খাবারে অরুচি আছে তারা মাঝেমাঝে খাবারে ব্যবহার করতে পারেন। সতর্কতা অনেকের টেস্টিং সল্ট গ্রহণে অ্যালার্জির সমস্যা হয়। ব্যবহারের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। করণীয় * যেসব খাবারে টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়, তার ব্যবহার সীমিত করতে হবে। * আমাদের দেশে খাবারের প্যাকেটের গায়ে টেস্টিং সল্টের ব্যবহার উল্লেখ থাকে না। তাই খাবার কেনার আগে জেনে নিতে হবে।

2917 views

Related Questions