1 Answers
মাযহাবের সঠিক অর্থ চলার পথ, কিন্তু মাযহাব অনুসারীগণ এর অর্থ করেন মত ও পথ। এই অর্থে দুনিয়ার যত মত ও পথ আছে সবই মাযহাব। ইমাম আবু হানিফার মত ও পথ হানাফী মাযহাব। অনুরূপ ইমাম মালেকের মত ও পথ মালেকী মাযহাব, ইমাম শাফেয়ীর মত ও পথ শাফেয়ী মাযহাব ও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের মত ও পথ হাম্বলী মাযহাব। তা হলে নবী মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মত ও পথ নিঃসন্দেহে মুহাম্মদী মাযহাব। আর সকলের মত ও পথের চেয়ে মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মত ও পথ যে অতি উত্তম ও উৎকৃষ্ট মত ও পথ এ কথা কোন মুসলমানকে বলে দিতে হবে না। কাজেই অন্যান্য সকলের মত ও পথকে বর্জন করে মহানবীর মহাপবিত্র মত ও পথেই আমাদেরকে চলতে হবে। অন্য কারো মতে ও পথে চলার জন্য নির্দেশ নাই। উল্লেখ্য যে, কোন মুসলিম ব্যক্তির জন্য (সে শিক্ষিত হোক বা মূর্খই হোক) নির্দিষ্ট কোন এক ব্যক্তির তাক্বলীদ তথা বিনা দলীলে তার থেকে সকল মাসআলা গ্রহণ করা জায়েয নয়। পক্ষান্তরে চার মাযহাবের যেকোন একটির অনুসরণ করা ফরয মর্মে প্রচলিত কথাটি ভিত্তিহীন এবং কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থী। কারণ আল্লাহ তা‘আলা কোন ব্যক্তির অন্ধানুসরণ না করে শুধু কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ﺍِﺗَّﺒِﻌُﻮْﺍ ﻣَﺎ ﺃُﻧْﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻣِّﻦْ ﺭَّﺑِّﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﺘَّﺒِﻌُﻮْﺍ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻧِﻪِ ﺃَﻭْﻟِﻴَﺎﺀَ ﻗَﻠِﻴْﻼً ﻣَّﺎ ﺗَﺬَﻛَّﺮُﻭْﻥَ. ‘তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হ’তে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ কর, আর তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কাউকে বন্ধুরূপে অনুসরণ কর না। তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক’ (আ‘রাফ ৩) । আর আল্লাহ তা‘আলা প্রেরিত বিধান বুঝার জন্য যোগ্য আলেমের নিকটে জিজ্ঞেস করার নির্দেশ দিয়ে বলেন- ‘তোমরা যদি না জান তবে জ্ঞানীগণকে জিজ্ঞেস কর’ (নাহল ৪৩) । অতএব শরী‘আতের অজানা বিষয় সমূহ আলেমদের নিকট থেকে জেনে নিতে হবে। এর অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্ট কোন এক ব্যক্তির তাক্বলীদ করতে হবে। তাক্বলীদ একটি বহু প্রাচীন জাহেলী প্রথা। বিগত উম্মতগুলির অধঃপতনের মূলে তাক্বলীদ ছিল সর্বাপেক্ষা ক্রিয়াশীল উপাদান। তারা তাদের নবীদের পরে উম্মতের বিদ্বান ও সাধু ব্যক্তিদের অন্ধানুসরণ করে এবং ভক্তির আতিশয্যে তাদেরকে রব-এর আসন দিয়ে সম্মান প্রর্দশন করতে থাকে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﺍِﺗَّﺨَﺬُﻭْﺍ ﺃَﺣْﺒَﺎﺭَﻫُﻢْ ﻭَﺭُﻫْﺒَﺎﻧَﻬُﻢْ ﺃَﺭْﺑَﺎﺑًﺎ ﻣِﻦْ ﺩُﻭْﻥِ ﺍﻟﻠﻪِ ﻭَﺍﻟْﻤَﺴِﻴْﺢَ ﺍﺑْﻦَ ﻣَﺮْﻳَﻢَ ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻣِﺮُﻭْﺍ ﺇِﻻَّ ﻟِﻴَﻌْﺒُﺪُﻭْﺍ ﺇِﻟَﻬًﺎ ﻭَﺍﺣِﺪًﺍ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﺳُﺒْﺤَﺎﻧَﻪُ ﻋَﻤَّﺎ ﻳُﺸْﺮِﻛُﻮْﻥَ. ‘তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিতগণ ও সংসার-বিরাগীদের রব হিসাবে গ্রহণ করেছে এবং মারিয়ামপুত্র মাসীহকেও। অথচ তারা এক ইলাহের ইবাদত করার জন্যই আদিষ্ট হয়েছে, তিনি ব্যতীত কোন (হক) ইলাহ নেই। তারা যে শরীক করে তিনি তা থেকে পবিত্র’ (তওবা ৩১) ।