এখানে কয়েকটি রীতি বা প্রথা রয়েছে; আর তা হল, তরুণী অথবা তার পিতা কর্তৃক কোনো পাত্র পক্ষের দেয়া বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা এই কারণে যে, সে উচ্চ মাধ্যমিক অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপ্ত করবে, অথবা এই কারণে যে, সে কয়েক বছর শিক্ষকতা করবে; সুতরাং এর বিধান কী হবে? যে ব্যক্তি এমন কাজ করবে, তার প্রতি আপনার কী উপদেশ বা পরামর্শ রয়েছে, অথচ অনেক সময় কোনো কোনো তরুণীর বয়স বিয়ে করা ছাড়াই ত্রিশ বা তার বেশি হয়ে যায়?
3745 views

1 Answers

এর বিধান হল, কাজটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশের পরিপন্থী, কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: « إذا جاءكم من تَرْضَوْنَ دِينَهُ وَخُلُقَهُ فأنكحوه إلا تفعلوا تكن فِتْنَةٌ فى الأرض وَفَسَادٌ عَرِيضٌ ». (أخرجه الترمذي في سننه ) . “যখন তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এমন কোন ব্যক্তি আসে, যার দীন ও চরিত্র তোমাদের পছন্দ হয়, তাহলে তোমরা তার বিয়ের ব্যবস্থা করে দাও, যদি তোমরা তা না কর, তাহলে যমীনে ফিতনা ও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।” - (ইমাম তিরমিযী তার ‘আস-সুনান’ গ্রন্থে হাদিসখানা বর্ণনা করেন, হাদিস নং- ১০৮৫), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন: « يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمُ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ فَإِنَّهُ أَغَضُّ لِلْبَصَرِ وَأَحْصَنُ لِلْفَرْجِ » . (أخرجه مسلم). “হে যুব সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে যে বিয়ে করার সামর্থ্য রাখে, সে যেন বিয়ে করে নেয়। কারণ, বিয়ে তার দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং যৌনতাকে সংযমী করে।” - (মুসলিম, হাদিস নং- ৩৪৬৪), আর বিবাহ থেকে বিরত থাকার মধ্যে বিয়ের কল্যাণসমূহ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার বিষয় রয়েছে, সুতরাং আমি নারীদের অভিভাবকদের মধ্য থেকে আমার মুসলিম ভাইদেরকে এবং নারীদের মধ্য থেকে আমার মুসলিম বোনদেরকে যে বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি, তা হল লেখাপড়া শেষ করা অথবা শিক্ষকতা করার কারণ দেখিয়ে বিয়ে থেকে বিরত না থাকা, আর নারীর পক্ষে তার স্বামীর উপর এই শর্ত আরোপ করা যাবে যে, সে তার পড়ালেখা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত রাখবে এবং অনুরূপভাবে সে শিক্ষিকা হিসেবে এক বছর বা দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তার সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত থাকবে, আর এতে দোষের কিছু নেই যে, নারী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্তরে উন্নীত হয়ে গেল, যেহেতু এই বিষয়ের দিকে নজর দেয়ার কোনো প্রয়োজন আমাদের নেই, সুতরাং আমার অভিমত হচ্ছে নারী যখন প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা সমাপ্ত করবে এবং সে এমনভাবে পড়তে ও লিখতে জানবে যে, সে এই জ্ঞান দ্বারা আল্লাহর কিতাব ও তার তাফসীর অধ্যয়নের ক্ষেত্রে উপকৃত হবে, আরও উপকৃত হবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসমূহ ও তার ব্যাখ্যা অধ্যয়নের ক্ষেত্রে, তাহলে এটাই যথেষ্ট হয়ে যাবে, তবে সে এমন কিছু বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পারবে, যা মানুষের জন্য খুবই জরুরি, যেমন চিকিৎসা শাস্ত্র এবং অনুরূপ কোন বিষয়, যখন সে বিষয়ে শিক্ষা গ্রহণের মধ্যে সহশিক্ষা অথবা অন্য কোন হারাম বা নিষিদ্ধ বস্তু বা বিষয় না থাকে। শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন সামাজিক ফতোয়া (الفتاوى الاجتماعية ): ২ / ২০

3745 views

Related Questions