2 Answers

রিও স্টেট ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রোনালদো হেলাল পোস্ট-ডক্টরেট করেছেন ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার এই চিরদ্বৈরথ নিয়ে। অধ্যাপক হেলাল বিষয়টিকে ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে, ‘আর্জেন্টিনার আসল ‘‘শত্রুতা’’ চিলি, উরুগুয়ে, ইংল্যান্ডের সঙ্গে। ইংল্যান্ডের সঙ্গে শত্রুতা ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে। এদিক দিয়ে ব্রাজিলের অবস্থান চতুর্থ। অন্যদিকে ফুটবলে ব্রাজিলের শত্রুতা উরুগুয়ের সঙ্গে। সেটি ১৯৫০ বিশ্বকাপের ফাইনালের কারণে। কিন্তু একটা সময় উরুগুয়ে পরাশক্তি হিসেবে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে পারেনি। ব্রাজিলের তখন নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রয়োজন। এ কারণে সত্তরের দশকের পর থেকে আর্জেন্টিনা হয়ে উঠল তাদের নতুন ‘‘শত্রু’’।’ সত্তর ও আশির দশকে ব্রাজিলের প্রতি আর্জেন্টিনার ছিল গলায় গলায় ভাব। ১৯৭০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম সমর্থন করেছিল ব্রাজিলকেই। ওই সময় আর্জেন্টিনার শীর্ষ পত্রিকা ‘ক্লারিন’ পেলেকে প্রাবন্ধিক হিসেবে নিয়োগ করেছিল। পেলে ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৬ ও ১৯৯০ বিশ্বকাপে নিয়মিত কলাম লিখেছিলেন ক্লারিনে। ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ নিয়ে একটা বইও প্রকাশ করেছিল ক্লারিন। অধ্যাপক হেলাল বললেন, ‘সেখানে (বই) পেলেকে উপস্থাপন করা হয়েছে রাজা হিসেবে আর ম্যারাডোনা তার উত্তরসূরি। ’ হেলাল মনে করেন, ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের রেষারেষির শুরু ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকেই। ওই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় পর্বে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারায় ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা। ব্যস, আর্জেন্টাইনরা তখন গান বাধে—‘ব্রাজিল দেসিমে কুইয়ে সে সিয়েন্তে’ মানে ‘কেমন লাগছে ব্রাজিল, তুমি বল আমায়।’ ব্রাজিলিয়ানরা নাকি তাতে কেঁদে-কেটে একাকার। অতঃপর বলে, ‘পেলের চেয়ে ম্যারাডোনা সেরা।’ ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার পাসে দারুণ এক গোল করেছিলেন ক্লদিও ক্যানেজিয়া। এই বিশ্বকাপে অবশ্য ব্রাজিলীয়রা গান তৈরি করেছে, ‘পেলের আছে হাজার গোল; ম্যারাডোনার হো হো হো।’ জেনে অবাক হতে হবে, এ রেষারেষি থেকেই ১৯৯৬ সালে আর্জেন্টিনার জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক ‘ওলে’র জন্ম। পত্রিকাটির নীতি হচ্ছে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা করা। দুটি দেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে দুই উপনিবেশ থেকে। ব্রাজিল ছিল পর্তুগিজ আর আর্জেন্টিনা স্প্যানিশ উপনিবেশ। জাতি হিসেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সম্পর্ক খুবই শান্তিপূর্ণ। এ কারণে দুই দেশের মধ্যে পর্যটনশিল্পও বেশ জমজমাট। এবার বিশ্বকাপেও প্রায় এক লাখ আর্জেন্টাইন এসেছে ব্রাজিলে। ব্রাজিলের কৌতুক অভিনেতা হেলিও ডি লা পেনা বললেন, ‘এ দ্বন্দ্ব এখনো হাসি-তামাশার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে এটি ক্রমেই সিরিয়াস হচ্ছে। মানুষ যখন বিষয়টিকে অতি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে, তখনই ভয়ংকর কিছু ঘটার আশঙ্কা থাকবে।’ শোনা যাচ্ছে, আজ ফাইনালে অধিকাংশ ব্রাজিলীয় নাকি সমর্থন করবে জার্মানিকে। কোপাকাবানা সৈকতে যারা একরকম বুয়েনস এইরেস বানিয়ে দিয়েছে, সেই আর্জেন্টাইনরা ব্রাজিলের টিভিতে ব্রাজিলীয়দের উদ্দেশে উত্তেজিত বাইট দিচ্ছে, যারা তোমাদের সাত গোলের মালা পরিয়েছে, তাদের রোববার সাপোর্ট করছ? অধ্যাপক হেলালের মনে শঙ্কা কাজ করছে, দুই দেশের সমর্থকেরা আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ জড়িয়ে না পড়ে। বললেন, ‘রোববার যা-ই হোক না কেন, সবই যেন শান্তিপূর্ণ হয়।’ তবে এবার মনে ঝাল মিটিয়ে ব্রাজিলীয়দের খেপিয়েছে আর্জেন্টাইনরা। কারণটা নিশ্চয় বোঝা যাচ্ছে। ঘরের মাঠে জার্মানি ও হল্যান্ডের বিপক্ষে নাস্তানাবুদ। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা উঠেছে ফাইনালে। ২৪ বছরের ঝাল মেটানোর এই তো সুযোগ!

2881 views

পাক ভারত ,, মেসি নেইমার ,, আওয়ামীলিগ বিএনপি এর মত যেকোনো অধিক সামর্থন প্রাপ্ত কোন দল দুভাগে বিভক্ত হলে তাদের সামর্থকদের মধ্যে কোলাহল দেখা দেয় তাই এত রেষারেষি ব্রাজিল আর্জেন্টিনার খেলাতে

2881 views

Related Questions