1 Answers
গর্ভবতী মহিলার রক্তস্রাব
সাধারণত নারী যখন গর্ভবতী হয় তখন রক্তস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন: 'রক্তস্রাব বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে গর্ভবতী বলে প্রমাণিত হয়। সন্তান সম্ভবা মহিলা যদি প্রসবের অল্প সময় পূর্বে যেমন দুই দিন অথবা তিন দিন পর্যন্ত রক্তস্রাব দেখে এবং সাথে যদি প্রসব বেদনা থাকে তাহলে উহাকে নেফাস প্রসবোত্তর রক্তস্রাব) হিসেবে গণ্য করা হবে। আর যদি প্রসবের অনেক পূর্বে রক্ত প্রবাহিত হয়ে থাকে তাহলে উক্ত রক্ত নেফাস হিসেবে গণ্য হবে না। এমতাবস্থায় প্রবাহিত রক্তকে কি হায়েয হিসেবে গণ্য করে তার উপর হায়েযের বিধি-বিধান কার্যকরী করা হবে? না অসুস্থতার রক্ত গণ্য করা হবে? এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মাঝে মতভেদ রয়েছে। তবে সঠিক সমাধান হচ্ছে, সন্তান সম্ভবা মহিলার যদি পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী রক্ত দেখা দেয় তাহলে সেটাকে হায়েয হিসেবে গণ্য করতে হবে। কেননা নারীর লজ্জাস্থান থেকে যে রক্ত বের হয় তা হায়েয হওয়াটাই হচ্ছে প্রকৃত নিয়ম। হ্যাঁ, উক্ত রক্ত হায়েয নয় এর পিছনে যদি কোন রকম শক্ত প্রমাণ থাকে তাহলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাতের কোথাও এমন কোন প্রমাণ নেই যে, গর্ভবতী মহিলার হায়েয হতে পারে না। ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুমাল্লাহর এটিই মত। ইবনে তাইমিয়া রাহিমাহুল্লাহও এই মত গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর লিখিত ইখতিয়ারাত গ্রন্থের ৩০ পৃষ্ঠায় ইমাম বাইহাকীর উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছেন যে, ইমাম আহমদের এই জাতীয় একটি অভিমত রয়েছে। বরং তিনি উল্লেখ করেছেন ইমাম আহমদ রাহিমাহুল্লাহ ইমাম মালেক ও ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুমাল্লাহর উক্ত মতামতের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন। এখন প্রতীয়মান হলো যে, সাধারণ মহিলার হায়েযের যে হুকুম গর্ভবতী মহিলারও ঠিক সেই হুকুম। তবে নিম্নোক্ত দু'টি মাসআলায় এর ব্যতিক্রম রয়েছে:
১) তালাক: অন্তঃসত্তা নয় এমন মহিলার ঋতুস্রাবের অবস্থায় ইদ্দত পূরণ করা হলে তাকে তালাক দেয়া হারাম।পক্ষান্তরে সন্তান সম্ভবা মহিলার ঋতুস্রাবের অবস্থায় ইদ্দত পূরণ করা জরুরী হলেও তাকে তালাক দেয়া হারাম নয়। কেননা কুরআন মজীদে বলা হয়েছে যে,
فَطَلِّقُوهُنَّ لِعِدَّتِهِنَّ ১) سورة الطلاق
"তোমরা তাদেরকে তালাক দিও তাদের ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে।" [সূরা আত-তালাক: ১]
সন্তান সম্ভবা নয় এমন মহিলাকে রক্তস্রাবের অবস্থায় তালাক দেয়া কুরআন শরীফের উক্ত আয়াতের বিরোধী। কিন্তু সন্তান সম্ভবা স্ত্রীকে হায়েযের অবস্থায় তালাক দেয়া কুরআন শরীফের ঘোষণা বিরোধী নয়। কেননা যে ব্যক্তি গর্ভবতী স্ত্রীকে তালাক দিবে সে তো তার ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখেই দিবে, স্ত্রী হায়েযের অবস্থায় থাকুক বা পবিত্র অবস্থায় থাকুক। কারণ গর্ভধারণ দিয়েই তার ইদ্দত পরিগণিত হবে। আর এ কারণেই সঙ্গমের পরে তাকে তালাক দেয়া হারাম নয় বরং জায়েয। পক্ষান্তরে গর্ভবতী নয় এমন মহিলাকে সঙ্গমের পর তালাক দেওয়া হারাম।
২) গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত। এ ক্ষেত্রে নারীর ঋতুবতী হওয়া না হওয়া সমান। প্রমাণ হিসেবে পবিত্র কুরআন শরীফের সূরা তালাকের ৪নং আয়াত পেশ করা হচ্ছে। আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন:
وَأُوْلَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَن يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ ৪) سورة الطلاق
"গর্ভবতী নারীদের ইদ্দতকাল সন্তান প্রসব পর্যন্ত।" [সূরা আত-তালাক: ৪]
3605 views
Answered
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy