1 Answers
আমরা যদি রাসূল (সাঃ) কে আমাদের মতো রক্ত মাংসে গড়া মানুষ মনে করি, তবে তার ছায়া থাকবে এটাই স্বাভাবিক। আর কুরআন ও সহীহ হাদীস দ্বারা যা সুপ্রমানিত। 'রাসুল কি নূরের সৃষ্টি নাকি মাটির' শীর্ষক প্রশ্নে গতকাল এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও করেছি মাশা'আল্লাহ। নবী (সাঃ) এর ছায়া ছিল না – এর প্রমাণে আবার কেউ কেউ বলে, রাসুল (সাঃ) এর চাপ যমীনে পতিত হত না। না সূর্যের আলোতে আর না চাদের কিরনে তার ছাপ দেখা যেত, বরং তার নূর সূর্য ও চাদের আলোকে ঢেকে ফেলত। -- আসলে মানুষ যদি ইসলামের মূল প্রমান অর্থাৎ কোরআন ও সহীহ হাদীসের অধ্যায়ন ছেড়ে মানুষের মুখের বক্তব্য ও বানোয়াট কিচ্ছা কাহিনী তথা বাজারে প্রচলিত দলীল প্রমানহীন বাজে বই পুস্তকের আশ্রয় নেয় তাহলে এরকম ভ্রান্ত যুক্তির উদ্ভব হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু পাঠকদের জ্ঞাতার্থে বলে দেয়া ভাল মনে করছি যে, শুধু বোখারী ও মুসলিমের অনেক সহীহ হাদীস আছে যাতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাঃ) স্বয়ং অনেক ক্ষেত্রে ছায়ার আশ্রয় নিয়েছেন। এমন নয় যে তার নূর , সূর্য বা চাদের আলোকে ঢেকে ফেলত আর তার ছায়া করা যেত না। পাঠকদের সুবিধার্থে সহীহ বোখারীর বর্ণিত ২ টি সহীহ হাদীস তুলে ধরা হল – রাসুল (সাঃ) বানু আমর বিন আউফ গোত্রে রবিউল আউয়াল মাসের সোমবারে অবতরণ করেন। আবু বকর (রাঃ) লোকদের অভ্যর্থনার উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে থাকেন।......... যখন আল্লাহ্র রাসুলের উপর রোদ পরে, তখন আবু বকর এসে নিজের চাদর দিয়ে রাসুল (সাঃ) কে ছায়া করে দেন। ( দেখুন - সহীহ বোখারী শরীফ, খন্ড – ০৩ , হাদীস নং- ৩৯০৬ (তাওহীদ পাবঃ) , ৩৬১৮ (আধুনিক) , ৩৬২২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ]। নাজদের যুদ্ধে কাটা গাছে ভরা উপত্যকায় প্রচণ্ড গরম লাগলে রাসুল (সাঃ) একটি গাছের নিচে অবতরণ করে তার ছায়ায় আশ্রয় নিলেন......... (দেখুন - সহীহ বোখারী শরীফ, খন্ড – ০৪ , হাদীস নং- ৪১৩৯ (তাওহীদ পাবঃ) , ৩৮২৭ (আধুনিক) , ৩৮৩০ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) ] এ ছাড়াও রাসূলের (সাঃ) ছায়া থাকার বড় প্রমান হলো, রাসূল সাঃ নিজেই নিজের ছায়া দেখেছিলেন। এ হাদিস তার দলিল- ﻋﻦ ﺍﻧﺲ ﺑﻦ ﻣﺎﻟﻚ ﺭﺽ ﻗﺎﻝ ﺑﻴﻨﻤﺎ ﺻﻠﻌﻢ ﻳﺼﻠﻲ ﺫﺍﺕ ﻟﻴﻠﺔ ﺻﻠﻮﺓ ﺍﺫ ﻣﺪ ﻳﺪﻩ ﺛﻢ ﺍﺧﺮﻫﺎ ﻓﻘﻠﻨﺎ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺭﺃﻳﻨﺎﻙ ﺻﻨﻌﺖ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﺼﻠﻮﺓ ﺷﻴﺌﺎ ﻟﻢ ﺗﻜﻦ ﺗﺼﻨﻊ ﻓﻴﻤﺎ ﻗﺒﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﺍﺟﻞ ﺍﻧﻪ ﻋﺮﺿﺖ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﺠﻨﺔ ﻓﺮﺃﻳﺖ ﻓﻴﻬﺎ ﺩﺍﻟﻴﺔ ﻗﻄﻮﻓﻬﺎ ﺩﺍﻧﺒﺔ ﻓﺎﺭﺩﺕ ﺍﻥ ﺍﺗﻨﺎﻭﻝ ﻣﻨﻬﺎ ﺷﻴﺌﺎ ﻧﺎﻭﺣﻲ ﺍﻟﻲ ﺍﻥ ﺍﺳﺘﺄﺧﺮ ﻓﺎﺳﺘﺄﺧﺮﺕ ﻋﺮﺿﺖ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻨﺎﺭ ﺑﻴﻨﻲ ﻭ ﺑﻴﻨﻜﻢ ﺣﺘﻲ ﺭﺃﻳﺖ ﻇﻠﻲ ﻭ ﻇﻠﻜﻢ ﻓﻴﻬﺎ . ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﻓﻲ ﻣﺴﺘﺪﺭﻛﻪ ﻭ ﻗﺎﻝ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻻﺳﻨﺎﺩ ﻭ ﻟﻢ ﻳﺨﺮﺟﺎﻩ অর্থ হযরত আনাস রাঃ থেকে বর্ণিত রয়েছে, তিনি বলেন কোনো এক রাতে রাসূল সাঃ নামায পড়াচ্ছিলেন। তিনি সহসা সামনের দিকে হাত বাড়ান এরপর তা আবার পেছনের দিকে টেনে নেন। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাঃ! এ নামাযে আপনাকে এমন কাজ করতে দেখেছি যা ইতিপূর্ব কখনো করেননি। তিনি ইরশাদ করেন, হ্যাঁ। আমার কাছে জান্নাত উপস্থিত করা হয়েছিল। তাতে বিশাল বৃক্ষরাজি দেখতে পেলাম যেগুলোর ছড়া ঝুঁকানো ছিল। তা থেকে কিছু নিতে চাইলে আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হল আপনি পেছনে সরে দাঁড়ান। আমি সরে দাঁড়ালাম। তারপর আমার নিকট জাহান্নাম উপস্থিত করা হল, যাহাতে আমি আমার এবং তোমাদের (সাহাবিদের) ছায়া পর্যন্ত দেখেছি।” {মুসতাদরিকে হাকেম-৫/৬৪৮}। যাইহোক, এ হাদিসটি যদি সত্য হয় তাহলে রাসূলেপাকের সাঃ ছায়া মুবারক ছিল, একথাও সত্য।আর তাঁর ছায়া থাকা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে রাসূল সাঃ কি জন্য এমন কথা বললেন; আগে তার জবাব দিন! রাসূলের সাঃ ছায়া মুবারক থাকা সত্তেও তা মাঝে মধ্যে মাটিতে না পড়াই হল তাঁর জন্য অন্যতম মুজিজা বা আলৌকিক বিষয়। কিন্তু যদি বলা হয় যে, তাঁর ছায়াই ছিলনা, তাহলে এমতাবস্থায় তাঁর ছায়া মাটিতে না পড়াটাই স্বাভাবিক। যার ফলে তখন সেটি মাটিতে না পড়াকে কেউ অলৌকিক বিষয় মনে করবেনা। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, রাসূলের (সাঃ) কোন মুজিযা কে তার স্থায়ী ছিফাত গন্য করা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদাহ পরিপন্থি। আল্লাহ আমাদের হক্ব বুঝার ও মেনে নেওয়ার তাওফিক দিন। আমীন!! (আল্লাহই অধিক অবগত)