2 Answers
জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষ পরিবেশের উপাদানকে নানাভাবে ব্যবহার করে। ফলে বিভিন্ন বর্জ্য সৃষ্টি হয়। তাই পরিবেশের বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয়। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মানুষের বসবাসের জন্য পরিবেশ হুমকিস্বরূপ হয়ে দাড়াঁয়। এ কারণে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবেশ দূষিত হয়।
১. পানি দূষণ : বাড়তি লোকের জন্য বাড়তি খাদ্যের প্রয়োজন। খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হলে জমিতে পানি সেচ ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। ক্ষেতের পোকা-মাকড় দমনের জন্য বিভিন্ন রকম কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করতে হয়। এ ওষুধের কিছু অংশ বৃষ্টির পানিতে মিশে নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবা-পুকুরের পানিকে দূষিত করে। এর ফলে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী মরে যায়। আবার ডোবা-পুকুরের পানিতে সারের পরিমাণ বেশি হলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদ বেশি করে জন্মে। এসব উদ্ভিদ যখন মরে পচতে শুরু করে, তখন পানি অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যায়। এর দরুণ মাছ মরে যায় এবং পানি দুর্গন্ধময় ও দূষিত হয়। পুকুরে বাঁশ বেত ও পাট ভিজিয়ে রাখলে এবং গরু, মহিষ, ছাগল গোসল করলেও পানি দূষিত হয়।
খাদ্যের উচ্ছিষ্ট ময়লা- আবর্জনা, জীবজন্তুর মৃতদেহ, গৃহস্থালির ব্যবহার্য নানা ধরনের পচনশীল জিনিস ইত্যাদি পচে বিভিন্ন প্রকার রোগজীবাণু সৃষ্টি হয়। এ সব ময়লা আবর্জনা ও রোগজীবাণু বৃষ্টির পানি, বাতাস, অন্যান্য জীবজন্তু প্রভৃতির মাধ্যমে বাহিত হয়। পরিশেষে কোনোভাবে নদী-নালা, ডোবা-পুকুর, খাল-বিল, কূপ এবং কলের পানিকেও দূষিত করতে পারে। এ দূষিত পানি পান করলে মানুষ কলেরা, উদরাময়, আমাশয়, টাইফয়েড প্রভৃতি রোগে আক্রান্ত হয়।
লোকসংখ্যা বাড়লে উচ্ছিষ্টের পরিমাণও বাড়ে। নিষ্কাশনের সুবন্দোবস্তের অভাবে এসব আবর্জনা জমে এবং পচে পানি দূষিত হয়। বিশেষ করে শহরে পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা বিঘি্নত হলে পানি দূষিত হয়। এ অবস্থায় শহরের বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
জলাশয়, কূপ কিংবা নলকূপের আশপাশে মলত্যাগ করলে পানি দূষিত হতে পারে। জীবজন্তুর মলমূত্র ও আবর্জনা পড়েও কূপের পানি দূষিত হয়।
দেশের বিভিন্ন শিল্প যেমন_ কাপড়কল, পাটকল, কাগজকল, রাসায়নিক কারখানা, সার কারখানা, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বা ট্যানারিগুলো সাধারণত নদীর ধারেই অবস্থিত। এসব কারখানার বর্জ্য পদার্থ নদীর পানি দূষিত করে। এ দূষিত পানি আমাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই পানিকে বিশুদ্ধ রাখা আমাদের একান্ত প্রয়োজন। পানি দূষিত হওয়ার জন্য মানুষই অনেকাংশে দায়ী। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পানি দূষিত হচ্ছে। কাজেই জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করলে অনেক ক্ষেত্রে পানি বিশুদ্ধ ও নির্মল রাখা সম্ভব।
মাটি দূষণ : যে যে কারণে পানি দূষিত হয় সাধারণত সেসব কারণেও মাটিও দূষিত হতে পারে। মাটির স্বাভাবিক ধর্ম হচ্ছে আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থকে ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে পচিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা। কিন্তু যখন কোনো কারণে কোনো স্থানে আবর্জনা ও বর্জ্য পদার্থ অত্যধিক পরিমাণে বেড়ে যায় তা থেকে নির্গত জৈবপদার্থ ও এসিড মাটির অম্লত্ব বাড়ায়। আজকাল পলিথিন ব্যাগ ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র ব্যবহার হচ্ছে। এগুলো এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি যা মাটিতে পচে না। এ কারণেও মাটি দূষিত হয়ে উর্বরাশক্তি হারাতে পারে। জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ মাটি দূষণের অন্যতম কারণ। আমরা বিশেষ করে গাছপালা ও খাদ্যশস্যের উপর নির্ভরশীল। মাটি দূষিত হলে গাছপালা ভালো জন্মে না এবং খাদ্যশস্যের উৎপাদন ব্যাহত হয়।