কোরআনের আয়াতের সম্পর্কে নাসেখ ও মানসূখ বলতে কি বুঝানো হয়?
2789 views

1 Answers

কোরআনের যেই আয়াত অন্য কোনো আয়াতকে বাতিল করেছে , সেই আয়াতকে বলা হয় ‘নাসেখ’।
কোরআনের যেই আয়াত অন্য কোনো আয়াত দ্বারা বাতিলকৃত হয়েছে, সেই আয়াতকে বলা হয় 'মানসূখ'।

এই ব্যাপারে কোরআনের কিছু আয়াত নিচে দেওয়া হলো।
“আমি কোন আয়াত রহিত করলে অথবা বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদপেক্ষা উত্তম অথবা তার সমপর্যায়ের আয়াত আনয়ন করি। তুমি কি জান না যে, আল্লাহ সব কিছুর উপর শক্তিমান? (Al-Baqara 2: 106)”
(তাফসীর ইবনে কাসীর- সূরা বাকারা – ২: ১০৬ > খন্ড - ৩ ,  পারা -১ , পৃস্ঠা - ৩৫৫)

“এবং যখন আমি এক আয়াতের স্থলে অন্য আয়াত উপস্থিত করি এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তিনিই সে সম্পর্কে ভাল জানেন; তখন তারা বলেঃ আপনি তো মনগড়া উক্তি করেন; বরং তাদের অধিকাংশ লোকই জানে না। (An-Nahl 16: 101)”

“বলুন, একে পবিত্র ফেরেশতা পালনকর্তার পক্ষ থেকে নিশ্চিত সত্যসহ নাযিল করেছেন, যাতে মুমিনদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং এটা মুসলমানদের জন্যে পথ নির্দেশ ও সু-সংবাদ স্বরূপ। (An-Nahl 16: 102)  ”
(তাফসীর ইবনে কাসীর- সূরা নাহল -১৬:১০১-১০২ > খন্ড-১৩  ,  পারা – ১৪ , পৃষ্টা - ২৩০)

কিছু ইসলাম বিদ্দেষী নাসেখ ও মানসূখ নিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করে।

আসলে চিরন্তন ও শ্বাশ্বত এই বিষয়টি শুধু আল্লাহর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, অন্য কোনো কিছুর ক্ষেত্রে নয়।
আল্লাহ এবং তার বানী এই দুটি কি এক জিনিস ? কখনোই না।
ইসলাম অবশ্যই খ্রীস্টান ধর্ম নয়, যে আপনি বলবেন ইশ্বর প্রথমে বানী বা বাক্য ছিলো। তাই বানী ইশ্বরের মতই চিরন্তন ও শ্বাশ্বত।
আল্লাহ সকল কিছুর উপর ক্ষমতাবান, তাই আল্লাহ তার দেয়া বানীর উপরো ক্ষমতাবান, কারণ বানীতো আল্লাহরই দেয়া।
আল্লাহ যখন কোন বানী দেয়, তখন সেটা বদলানোর ক্ষমতাও আল্লাহর আছে। সেটা না হলে তাকে সর্বশক্তিমান বলা যেত না।
আল্লাহ তার কোন কোন বানীকে কতটুকু সময় ব্যাপি রাখবেন এবং সেটা কোন কোন সময়ে বা যুগে থাকবে বা হবে, তা একমাত্র আল্লাহরই এখতিয়ার ভুক্ত। এখানে অন্য কারো কিছু বলার অধিকার নেই।
আর আল্লাহ, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মনুষ্য সমাজে থাকা কালীন সময়েই সেটা  কুরআনের ক্ষেত্রে করে দেখিয়েছেন।

আল্লাহ নিজেই এর সত্যতার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। কুরআনেই আছে আল্লাহর যা ইচ্ছা আল্লাহ তাই করেন।
আল্লাহ মানুষের আনুগত্য পরীক্ষা করার জন্যই কখনো কখনো কোনো একটি আয়াত রহিত করে এর সমপর্যায় বা এর থেকে উত্তম আর একটি আয়াত আনেন, কারণ আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
অবিশ্বাসীরা তাদের জ্ঞানের ম্বল্পতা এবং অস্থিরতার জন্যই বিষয়টি অনুধাবন করতে অক্ষম, কারণ তারাতো হতভাগ্য।

কেউ কেউ একটু ভিন্ন কথাও বলেন, কোরানের কিছু আয়াত বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হয়েছে কোরানের অন্য আয়াত দ্বারা, এমন ধরণের কথা বা নাসেখ ও মানসূখ-এর দাবি প্রথমে চালু হয় ৪০০ হিঃ বা ১০০০সনের শেষের দিকে তখনকার কিছু আলেম ওলামা কতৃক , যাদের অন্যতম আহমেদ বিন ইশাক আল দিনারি(মৃঃ ৩১৮ হিঃ), মোহাম্মদ বিন বাহার আল-আসবাহানি (মৃঃ ৩২২হিঃ) , হেবাতাল্লাহ বিন সালামাহ (মৃঃ ৪১০হিঃ) এবং মুহাম্মাদ মূসা আল-হাজমি (মৃঃ ৫৪৮ হিঃ)।

সূত্রঃ http://islamithink.blogspot.com/2013/08/blog-post_3580.html

 

2789 views

Related Questions