3 Answers
জান্নাতীদের নেয়ামত বর্ণনা করতে গিয়ে আল্লাহ বলেনঃ
)وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ (
“সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের মন চায় এবং সেখানে তোমাদের জন্য আছে, যা তোমরা দাবী কর।” (সূরা হা-মীম সিজদাহঃ ৩১-৩২) আল্লাহ আরো বলেনঃ
)وَفِيهَا مَا تَشْتَهِيهِ الْأَنفُسُ وَتَلَذُّ الْأَعْيُنُ وَأَنْتُمْ فِيهَا خَالِدُونَ(
“এবং তথায় রয়েছে মন যা চায় এবং নয়ন যাতে তৃপ্ত হয়। তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে।” (সূরা যুখরুফঃ ৭১)
ইহা জানা কথা যে, মন যা চায়, তার মধ্যে সর্বোত্তম হল বিবাহ করার মনোবাসনা। তা জান্নাতীদের জন্য অর্জিত হবে। চাই পুরুষ হোক কিংবা মহিলা হোক। মহিলাকে আল্লাহ তাআ’লা জান্নাতে তাঁকে তাঁর দুনিয়ার স্বামীর সাথে বিবাহ দিয়ে দিবেন। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ
)رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدْتَهُم وَمَنْ صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ إِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ(
“হে আমাদের পালনকর্তা! আর তাদেরকে প্রবেশ করাও চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, পতি-পত্নী ও সন্তানদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করে তাদেরকে। নিশ্চয় আপনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” (সূরা গাফেরঃ ৮) আর দুনিয়াতে যদি অবিবাহিত থাকে তাহলে জান্নাতে তার নয় জুড়ানো কোন পুরুষের সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করবেন।
বিষয়/প্রশ্নঃ (৫৮)
গ্রন্থের নামঃ ফাতাওয়া আরকানুল ইসলাম
বিভাগের নামঃ ঈমান
লেখকের নামঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন (রহঃ)
অনুবাদ করেছেনঃ আবদুল্লাহ শাহেদ আল মাদানি - আবদুল্লাহ আল কাফী
# নারীদের কে পুরুষ হুর এর কথা উল্লেখ করলে নারীরা নিজেই আল কুরআনে এই লেখা পড়ে লজ্জিত হতো কারন ভাল নারী মানেই লজ্জাশীল।
# নারীরা যেহেতু একই স্থান, কাল ও পাত্রে একটি মাত্র সন্তান জন্ম দিতে পারে এবং পুরুষেরা যেহেতু একাধিক জন্ম দেয়ার ক্ষমতা রাখে সেহেতু পুরুষকেই সাধারণত বহুগামী হতে দেখা যায়।
আর নারীর প্রতি নরের যে আকর্ষণ, নরের প্রতি নারীর আকর্ষণ ঠিক তেমনটি নয়। যার কারনে আল্লাহ জান্নাতে নারীর কথা বলে পুরুষদের আগ্রহী করেছেন, কিন্তু নারীর ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছেন।
# আল্লাহ স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করেছেন স্বামীদের জন্য, কারন স্বামীরাই স্ত্রীদের প্রতি মোহিত এবং তার কামনাকারী। এজন্যই জান্নাতে নারীর কথা বলে পুরুষদের আগ্রহী করা হয়েছে কিন্তু নারীদের ব্যাপারে নীরব থাকা হয়েছে, এর মানে এই নয় যে নারীদের সঙ্গী থাকবে না বরং তাদেরও স্বামী থাকবে আদম সন্তানদের মধ্য থেকে তাদের অাকাঙ্খা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী।
সবথেকে বড় কথা হচ্ছে যারা বেহেস্তবাসী হবেন নারী হোক কিনবা পুরুষ তারা তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী সকল কিছু পাবেন যা খুশি তাই করতে পারবেন অার বেহেস্তে পাপ, নিষেধ, উচিৎ নয় বলে কোন শব্দ থাকবে না।
জান্নাতবাসী মহিলার জন্য তার দীনদার স্বামীকেই দেওয়া হবে এবং তাকে জান্নাতের হুরদের সরদার বানিয়ে দেওয়া হবে এবং দুনিয়ার কারো সঙ্গে বিবাহ হওয়ার পূর্বে যে মহিলার ইন্তেকাল হয় তাকে দুনিয়ার পুরুষদের মধ্য থেকে যেকোন একজনকে বেছে নেয়ার অধিকার দেওয়া হবে, যাকে সে পছন্দ করবে, তার সঙ্গেই সেখানে তার বিবাহ হবে। যদি সে কাউকে পছন্দ না করে তাহলে আল্লাহ তা‘আলা একজন পুরুষ সৃষ্টি করে উক্ত মহিলাকে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে দিবেন। উল্লেখ্য, জান্নাতের মধ্যে সকলের সব ধরনের মনোবাসনা পূর্ণ করা হবে সত্য, কিন্তু স্বভাবগতভাবে যেহেতু মহিলাদের একাধিক স্বামী গ্রহণের কোনো বাসনা থাকে না; বরং এটাকে তারা দোষণীয় মনে করে এবং এটাকে নষ্ট চরিত্র বলে বিশ্বাস করে। সুতরাং তাদেরকে একাধিক স্বামী দিয়ে জান্নাতের মধ্যে আযাব দেওয়ার প্রশ্নই উঠে না।Ñ মাজমূ‘আতুল ফাতাওয়া ৩/১৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ৩/৪৩১, নিজামুল ফাতাওয়া ১/৭৯, আপকে মাসাইল আওর উনকা হল ১/২৭৬, ফাতাওয়ায়ে রাহমানিয়া ১/১১০।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy