'দুর্নীতি বিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য' এর পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি চাই?

7746 views

1 Answers

পক্ষে: পরিবার হচ্ছে একটি শিশুর প্রাথমিক শিক্ষাকেন্দ্র এবং জীবনের মৌলিক শিক্ষাকেন্দ্র. একটি শিশু তার চরিত্রের গুনগুলো অর্জন করে থাকে পরিবারের কাছ থেকে. সে দেখে এবং শুনে পরিবারের পরিবেশ থেকে. পরিবারের সদস্যগন যেরুপ আচরন করেন শিশু তাই রপ্ত করে নেয়. যখন শিশু বুঝতে শেখে, বালক বয়সে পরিবারে কর্মই সে অনুসরন করে থাকে. তাই পরিবারে যদি দূর্ণীতি থাকে তবে সেই শিশু দূর্ণীতির শীক্ষা পায়. যখন পরিবারের সদস্যগণ ভাল কাজ করেন, দূর্ণীতির বিরুদ্ধে থাকেন, তখন সেই পরিবার শিশুকেও সেরুপ শিক্ষা দেন. দূর্ণীতির কুফল, দূর্ণীতি করলে কি কি ক্ষতি হবে, ভাল কাজ করলে কি হবে তার শিক্ষা শিশুকে দেয়. শিশু সেগুলো বুঝে নেয় এবং তদ্রুপ চরিত্র গড়ে তোলে. ফলে সেই শিশুই হয়ে ওঠে দূর্ণীতি বিরুধি. পরিবারের বাইরের ভূমিকা অবশ্যই কিছুটা থাকে কিন্তু শিশু তখন বড় হয়েইতো বাইরে বের হয়. আর বড়রা সহজে কোন শীক্ষা শতস্পুর্তভাবে গ্রহন করে না. বড়রা শীক্ষা গ্রহন করে নিজের অর্জিত জ্ঞান, চরিত্র ইত্যাদি দিয়া বিচার বিশ্লেষন করে. তাই এখানেও পরিবারের থেকে অর্জিত জ্ঞানের প্রভাব থাকে. 

বিপক্ষে: পরিবারের কাছ থেকে একটি শিশু যতই ভাল শীক্ষা বা দুর্ণীতি বিরুধি শিক্ষা গ্রহন করুক না কেন, বাইরের জগত বিশাল. পরিবার ছেড়ে শিশু একদিন বড় হয়ে বাইরের জগতে আসে. একটি রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যখন দূর্ণীতি প্রবেশ করে যায় তখন ব্যক্তি মানুষ বাইরের এই পরিবেশ থেকে জ্ঞান গ্রহন করে. একা ভাল থেকে অনেক কিছু না পাওয়া বা প্রতিরোধে অক্ষম হয়ে সেও দূর্ণীতে জড়িয়ে পড়ে. তাই বাইরে বৃহত্তর পরিবেশ আগে সুন্দর করতে হবে.দূর্ণীতি বিরুধি প্রচার করতে হবে. দূর্ণীতির ক্ষেত্র গুলো সরকারী ভাবে ও সুশাসন দ্বারা বন্ধ করতে হবে. ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হবে. তবেই ব্যক্তি সমাজে দুর্ণীতি করতে পারবে না. ধীরে ধীরে সে দূর্ণীতি বিরুধী হয়ে ঊঠবে. তাই দূর্ণীতি প্রতিরোধে সমাজ ও রাষ্ট্র, সুশাসন ইত্যাদি শিশু বা মানুষকে দূর্ণীতি বিরুধী হতে শীক্ষা দেয়.

7746 views

Related Questions