আমি শরীয়ত কি, তা আমি কিছুটা জানি। কিন্তু মালেফতটা জানি না। তাই জানতে চাই মারফত কি এবং কাকে বলে? তা বিস্তারিতভাবে জানতে চাই। তার আবার আইন কানুন কেমন কি? কোরআন হাদিস থেকে দলিল সহ তারাতারি জানান ।
2776 views

1 Answers

শরীয়তের পরিচয় : 

ইসলামী জীবন ব্যবস্থার যাবতীয় বিধানকে শরীয়ত বলা হয়। সর্বপ্রথম শরীয়তের পূর্ণ অনুসারী হতে হয়। শরীয়তের যাবতীয় বিধানের মধ্য দিয়ে সুফী তার প্রবৃত্তিকে নিয়ন্ত্রিত করে প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আত্মার অনুগত করেন। শরীয়তের পূর্ণ অনুসরণ ব্যতীত কেউ সুফী হতে পারবে না।

জীবনের সকল দিককে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি বাহ্যিক এবং অন্যটি অভ্যন্তরীন বা আধ্যাত্মিক। ইহলৌকিক জীবনের অভাব অভিযোগ প্রয়োজন ও গুরুত্ব এবং ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্জ ও যাকাত এর বাহ্যিক ক্রিয়া পদ্ধতির রূপ শরীয়তের অন্তর্গত। শরা ,শব্দ হতে শরীয়ত শব্দটির উৎপত্তি। শরা’ অর্থ বিধি, ব্যবস্থা, পথ বিধান ইত্যাদি। জীবনের ব্যক্তিক ও সামাজিক দিকের বাহ্যিক রূপের যে বিধি বা নিয়ম, তাই শরীয়ত। এক কথায় 'কুরআন, হাদীস, ইজমা ও কিয়াসের' উপর ভিত্তি করে যে জীবন ব্যবস্থা গড়ে উঠে তাকেই শরীয়ত বলা যায়।

মা’রিফতের পরিচয় : 

অন্তরের নূরের দ্বারা আল্লাহ পাকের সঙ্গে গড়ে উঠা সম্পর্ককে মা‘রিফত বলে। এ পর্যায়ে উত্তীর্ণ ব্যক্তিকে আ‘রিফ বা সুফী বলে। যাঁরা মাটির তৈরী মানুষ হয়েও মর্যাদায় আগুণের তৈরী জ্বীন এবং নুরের তৈরী ফেরশতেদার উর্দ্ধে উঠতে সক্ষম হন।

সুফীদের পরিভাষায় মা’রিফত হচ্ছে- 'এমন এক স্তর যার মধ্যে বান্দাহ উপনীত হলে সৃষ্টি রহস্য সম্পর্কে অবগতি অর্জন করতে পারে। এ স্তরে পৌঁছতে পারলে তার অন্তর আলোক উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে। তখন তিনি বস্তুর নিকট তত্ত্ব উপলব্ধি করতে শুরু করেন। মানব জীবন ও সৃষ্টি জীবনের গুপ্ত রহস্য তার নিকট স্পষ্ট হয়ে ভেসে ওঠে।'


তাই শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত, মারেফত বা তাসাউফ একটি অন্যটির পরিপূরক এবং সম্পর্ক যুক্ত। রূহানীয়তের ধর্ম যখন প্রাণহীন ও সাধারণ প্রতষ্ঠিানে পরণিত হয়, সমাজ ধর্মের বন্ধন যখন শিথিল হয়ে পড়ে এবং জড়বাদী ধর্মের প্রভাব যখন বিস্তার লাভ করতে থাকে তখন ধর্মকে পূণ্যময় করার জন্য তাসাউফ বা আধ্যাত্মিক জ্ঞানের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাসাউফ মানবকে অর্থ, যশ প্রভৃতির প্রভাব বা মোহ থেকে মুক্ত করে মানুষের মনে খোদা ও রাসূলের প্রেম জাগিয়ে তোলে এবং মানুষকে খোদার পথে আকৃষ্ট করে। প্রকৃত পক্ষে যাদের হৃদয়ে তাসাউফ তথা আল্লাহ ও রাসূলের প্রেম স্থান পায় তারাই কোরান হাদীসের নির্দেশিত ধর্মীয় অনুশাসনসমূহ যথাযথভাবে পালন করতে সক্ষম হয়। শরীয়তের আদেশ নিষেধ সমূহ পালন করতে হলে  মানুষের হৃদয় নফছ ও শয়তানের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে হবে এবং খোদার সাথে হৃদয়ের সংযোগ স্থাপন করতে হবে। (সংগৃহীত)

2776 views

Related Questions