2 Answers

"তোমাদের মাঝে যার কোন (পুত্র বা কন্যা)সন্তান জন্ম হয় সে যেন তার সুন্দর নাম রাখে এবং তাকে উত্তম আদব কায়দা শিক্ষা দেয়; যখন সে বালেগ অর্থাৎ সাবালক/সাবালিকা হয়, তখন যেন তার বিয়ে দেয়; যদি সে বালেগ হয় এবং তার বিয়ে না দেয় তাহলে, সে কোন পাপ করলে উক্ত পাপের দায়ভার তার পিতার উপর বর্তাবে"

(বায়হাকি, মিশকাত: হাদীস নং - ৩১৩৮ (হাদিসটি যাঈফ(দুর্বল সনদ))


এই হাদিসই আপনার প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর। ধন্যবাদ।




2694 views
বিয়ে প্রত্যেকটি পুরুষ ও নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নারী-পুরুষের হৃদয়ে প্রশান্তি লাভের নির্ভরযোগ্য এক আশ্রয়স্থল হচ্ছে বিবাহবন্ধন। নারী পুরুষের মাঝে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য বিয়ে হচ্ছে একমাত্র বৈধ উপায় এবং মানুষের চরিত্র রক্ষার হাতিয়ার। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যেক ধর্মেই কিছুটা পার্থক্য পরিলক্ষিত হলেও কোন ধর্মেই বিয়ে বিহীন সহবস্থান গ্রহণ করে না।
এইজন্য মানবতার ধর্ম, আল্লাহ্‌ প্রদত্ত জীবন বিধান ইসলাম বিয়ে করার জন্য উৎসাহিত করেছে। আল্লাহ্‌ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরানুল কারীমে বলেছেন, “তোমার পছন্দ অনুযায়ী তুমি বিবাহ কর।”

রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, ‘বান্দা যখন বিবাহ করে, তখন তার দ্বিনদারি অর্ধেক পূর্ণ হয়ে যায়। অবশিষ্ট অর্ধেকের ব্যাপারে সে যেন আল্লাহকে ভয় করে।’ -মিশকাতুল মাসবীহ, হা. ২৬৭

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে কিছু যুবক ছিলাম যাদের কিছুই ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা সামর্থ্য রাখ তাদের উচিত বিয়ে করে ফেলা। কেননা বিয়ে দৃষ্টি অবনতকারী ও লজ্জাস্থানকে হেফাযতকারী। আর যার সামর্থ্য নেই তার উচিত রোযা রাখা। কেননা রোযা যৌন উত্তেজনা প্রশমনকারী।" -সহীহ বুখারী, হা.৫০৬৬, সহীহ মুসলিম, হা. ১৪০০

তাছাড়া সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিবাহ না করার ভয়াবহ পরিণতি কথা উল্লেখ করে বিশ্ব নবী সা. ইরশাদ করেন, “বিয়ে করা আমার আদর্শ এবং স্থায়ী নীতি যে লোক আমার এ সুন্নাহ অনুসারে আমল করবে না সে আমার দলভুক্ত না”

ইসলামে বৈরাগ্য জীবন যাপনের কোনো অবকাশ নেই। যে ব্যক্তি দেনমোহর ও ভরণ-পোষণ আদায় করতে সক্ষম এবং বিবাহ না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া নিশ্চিত, তার জন্য বিবাহ করা ফরজ। আর যার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া নিশ্চিত নয়, তবে আশঙ্কা থাকে এবং মনে বিবাহ করার প্রচণ্ড আগ্রহ থাকে, তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব। আর যে আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম এবং বিবাহ না করলে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই, তার জন্য বিবাহ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যার ব্যাপারে আশঙ্কা হয় যে সে বিবাহের পর স্ত্রীর ওপর জুলুম করবে, হক আদায় করতে পারবে না, তার জন্য বিবাহ করা মাকরুহে তাহরিমি। আর যার ব্যাপারে নিশ্চিত যে সে বিবাহের পর স্ত্রীর ওপর জুলুম করবে; হক আদায় করতে পারবেই না, তার জন্য বিবাহ করা হারাম। তবে যদি এমন হয় যে বিবাহ না করলে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আর বিবাহ করলে জুলুমে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাহলে এ অবস্থায়ও বিবাহ করা ফরজ। -দুররে মুখতার ও রদ্দুল মুহতার : ২/২৬০-৬১
ধন্যবাদ

2694 views

Related Questions