2 Answers

গরুর গোবর,হাঁস মুরগীর বিষ্ঠা,গৃহস্থালির বর্জ্য, সরিষার খৈল ইত্যাদি।

2810 views

জৈব সার আসলে কি তা আমরা অনেকেই জানি। যেসব সার জীবের দেহ থেকে প্রাপ্ত অর্থাৎ উদ্ভিদ বা প্রাণির ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রস্তুত করা যায় তাদেরকে জৈব সার বলে।

যেমনঃ গোবর সার, সবুজ সার, খৈল ইত্যাদি। গাছের প্রায় সব খাদ্য উপাদানেই জৈব সারে থাকে। আর এই সার নানা ভাবে তৈরি করা যায়। তবে চলুন জেনে নেয়া যাক কত ধরন ও কিভাবে এই সার তৈরি করা যায়।

হাঁস-মুরগীর বিষ্ঠা

হাঁস, মুরগী, কবুতর এসব গৃহপালিত পাখীর বিষ্ঠা পঁচিয়ে উৎকৃষ্ট জৈব সার তৈরী করা যায়। হাঁস-মুরগীর ঘরে বিচালী, পাতা, কাঠেরগুঁড়ো ইত্যাদি দিয়ে পুরু শয্যা তৈরী করা হয়। এর উপরে প্রতি দিন বিষ্ঠা পরে। এগুলো গর্তে বা কোন স্থানে জমিয়ে গাদা করে রেখে ১০-১২ দিন পরপর উল্টিয়ে দিলে মাসখানেক পর জৈব সার হিসাবে ব্যবহারের উপযোগী হয়।সাধারণ হিসাবে ৪০টি মুরগির শয্যা হতে বছরে এক টন জৈব সার পাওয়া যায়। পরিমানে কম হলেও এ সার গোবরের চেয়ে পুষ্টি সমৃদ্ধ। এতে নাইট্রোজেন, ফসফোরাস ও পটাশিয়ামের পরিমান হচ্ছে যথাক্রমে ১.৬০; ১.৫০ ও ০.৮৫%।মল ও মূত্র একই সাথে অবক্ষেপিত হয় বলে এ সারে নাইট্রোজেনের পরিমান বেশী থাকে। এছাড়া এতে অনু খাদ্যও থাকে। এ সার হতে গাছ সহজেই খাদ্যোপাদান গ্রহণ করতে পারে। তদুপরি এ সারে কয়েকটি হরমোন থাকায় গাছের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়।

জৈব সার হিসেবে খৈল

বিভিন্ন তৈল জাতীয় শস্যের বীজ, যেমন – সরিষা, তিল, তিসি, বাদাম, তুলা, ভেরেন্ডা, নারকেলের মালা ইত্যাদি থেকে ঘানি বা ইম্পেলারের মাধ্যমে তৈল বের করে নেওয়ার পর যে অবশিষ্ঠাংশ থাকে প্রচলিত ভাষায় সেগুলিকে খৈল বলে। এ খৈলে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকলেও নাইট্রোজেন সারের পরিমানই বেশী থাকে।একভাগ খৈল গুড়া করে দুই ভাগ কাঠের (করাত কলে প্রাপ্ত) গুড়া বা চাউলের কুড়া ও চার ভাগ গোবর বা হাস-মুরগীর বিষ্ঠা (১০-১৫ দিনের আধা পঁচা) হালকা পানির সাথে মিশিয়ে কাই করে কুইক কম্পোষ্টের মত করে স্তুপাকারে রেখে দিয়ে ২ – ৩ দিন পরপর ৩ – ৪ বার স্তুপ ভেঙ্গে নেড়ে চেড়ে পুনঃস্তুপ করে, তারপর ৭ – ১০ দিন পরপর আরো দুইবার স্তুপ ভেঙ্গে উলটপালট করে দিয়ে পঁচিয়ে ২০-২৫ দিন পর ভালো কম্পোষ্ট সার হিসাবে গাছের জন্য মাটিতে প্রয়োগ করা যায়। খৈল না পঁচিয়ে মাটিতে প্রয়োগ করা উচিত নয়।

আখের ছোবড়া

আধুনিক চুল্লি প্রবর্তিত হওয়ার কারণে আগের মত চিনি বা গুড়ের জন্য আখের রস জ্বাল দেওয়ার জন্য আখের ছোবড়া পোড়ানোর দরকার হয়না। তাই অনেক বেশী আখের ছোবড়া পাওয়া যায়। যদিও শক্ত, খসখসে, মোম আবৃত ও অধিক কার্বনঃনাইট্রোজেন (C:N) সম্বৃদ্ধ হওয়ার কারণে ধীরে ধীরে পঁচে বলে ভালো কম্পোষ্ট তৈরী করার জন্য অন্যান্য জৈব পদার্থের চেয়ে কম উপযোগী ও বেশ কষ্টসাধ্য।আখের ছোবড়া দিয়ে কম্পোষ্ট তৈরীর জন্য গাঁদা পদ্ধতি (Heap method) উপযোগী। এ পদ্ধতিতে আখের ছোবড়া ১০-১৫ সেমি করে কুচি টূকরা করে তা প্রায় ২ মিটার চওড়া যে কোন দৈর্ঘের স্থানে একত্রে জড়ো করে উপরের তল পদদলিত করে সমান করে ৩০ সেমি উঁচু গাদা তৈরী করতে হবে।ছোবড়া শুকনা মনে হলে পানি ছিটিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে দিতে হবে। এর পর কাঠ বা অন্যান্য ছাই, গোবর, পুকুরের তলার পঁচা মাটি ইত্যাদি একত্রে ভালোভাবে মিশিয়ে তা দিয়ে স্তুপের চারিদিকের উপরি তল লেপে দিতে হবে। এভাবে ৪-৫ টি স্তর উপরে উপরে সাজিয়ে গাদা তৈরী করতে হবে।প্রতি মাসে একবার গাদা উপর নীচ করে উলটে দিয়ে নতুন গাদা তৈরী করতে হবে। প্রয়োজনে ছোবড়াগুলি পানি ছিটিয়ে হালকা করে ভিজিয়ে দিতে হবে। প্রায় ৫ মাসের মধ্যে এগুলি পঁচে খামারজাত সারের মত জমিতে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়। এক হেক্টর জমির আখের ছোবড়া দিয়ে প্রায় ১০ টন কম্পোষ্ট তৈরী করা যায়।

হাড়ের গুড়ো

জীব জন্তুর হাড়ের চর্বি ও পিচ্ছিল উপাদান বাদ দিয়ে গুড়ো করে পঁচিয়ে কম্পোষ্ট সার হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ৯% ফসফোরাস ও ৪% নাইট্রোজেন থাকতে পারে।

মাছের গুড়া

ট্রলারে আহরণের পর মানুষের অভক্ষণযোগ্য বিভিন্ন মাছ ও ছোট সামুদ্রিক প্রাণী, পঁচা মাছ, শুটকী শিল্পের মাছের বর্জ, মাছের তৈল বের করে নেওয়ার পর অবশিষ্টাংশ, কাঁটা ইত্যাদি শুকিয়ে গুড়ো করে হাঁস মুরগী বা মাছের খাবার হিসাবে ব্যবহার করা হয়।কিন্তু এগুলি পঁচিয়ে কম্পোষ্ট সার হিসাবে গাছের খাদ্য সরবরাহের জন্য মাটিতে প্রয়োগ করা যেতে পারে এবং এতে ৪-১০% নাইট্রোজেন, ৩-৯% ফসফোরাস, ০.৩-১.৫% পটাশিয়াম সহ অন্যান্য মূখ্য ও গৌন খাদ্যোপাদান থাকে। সামান্য কিছু তৈলও থাকে, যা ব্যাকটেরিয়া নামক অনুজীবের দ্বারা ব্যবহৃত হতে পারে।

ছাই দিয়ে জৈব সার


খরকুটা, লতাপাতা, কাঠ ইত্যাদি পোড়ানো ছাইও ভালো জৈব সার হিসাবে মাটিতে ব্যবহার করা যায়। এতে পটাশ খাদ্যোপাদান অন্যান্য উপাদানের চেয়ে তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকে। পুরনোকাল থেকেই এদেশের কৃষক ভাইয়েরা বর্ষা শেষে তাদের বোনা আমন ধানের খড় শুকিয়ে জমিতেই পুড়িয়ে তার ছাই মাটিতে চাষ দিয়ে মিশিয়ে দিতেন।

2810 views

Related Questions