1 Answers

নির্দিষ্ট সমাজ, নির্দিষ্ট বলয়ে বিদ্যমান। সাধারনত কোন সমাজের অন্তভুক্ত সদস্যদের কাছ থেকে প্রাপ্ত কল্যানকর ও কাঙ্খিত গুরুত্বপূর্ণ ও স্থায়ী মূল্যবোধ বলতে সাধারণ ভাষায় কোন সুনির্দিষ্ট সমাজে প্রচলিত অথবা সমাজ কর্তৃক চাহিত কাঙ্খিত জীবন ব্যবস্থাকে বুঝায়। এর প্রভাব শুধুমাত্র বিশ্বাস বা আদর্শ কে মূল্যবোধ বলা হয়। মূল্যবোধ কে একটি প্রত্যয় হিসেবে ও বিবেচনা করা হয়। এই প্রত্যয়ের উপাদান হচ্ছে নীতি, মান ও বিশ্বাস। এ সব উপাদান স্পষ্ট করে দেয় ব্যক্তি, সমাজ বা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান, ভাল- মন্দ, দোষ-গুন, ন্যায়পরায়নতা, নৈতিকতা বিচার করে এবং নৈতিক অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে কাজের দিক নির্দেশনা। মূল্যবোধ শুধু পর্যবেক্ষণ বা সত্যের উক্তি নয়, এটি হচ্ছে অকৃত্রিম ও আপসহীন নীতি যা দৈনন্দিন আচরনে প্রতিফলিত হয়। সামাজিক আচরনের দিক দিয়ে কাম্য মূল্যবোধ হচ্ছে সুনাগরিতা, দলগত বিশ্বস্ততা, সহযোগিতা, স্বার্থত্যাগ, দেশপ্রেম ইত্যাদি। ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবনের দিক দিয়েও ব্যক্তিগত মূল্যবোধ আহরণ করা প্রয়োজন (সত্যবাদিতা, চারিত্রিক দৃঢ়তা, বন্ধুত্ব, কর্তব্যপরায়নতা)। ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ব্যক্তির জীবন কে উন্নত মানে নিয়ে যায়। কোন সমাজের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ইত্যাদি ধারনা গুলোর সুখ্য ও বৃহৎ অংশ হচ্ছে মূল্যবোধের সংগঠন। সামাজিক বিভিন্ন আচরনের উপর ভিত্তি করে নানা স্তরের মূল্যবোধ তৈরি হয়। সমাজতত্ত্ব ও শিক্ষাতত্ত্বের দিক দিয়ে শিক্ষার্থীর মূল্যবোধ আহরণ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার ও বিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সমাজ অনুমোদিত মূল্যবোধ কাঠামো আহরণ ও আয়ত্ত করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো রাষ্ট্রে মূল্যবোধের চেয়ে নৈতিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করার উপর সবসময় জোর দেয়। মূল্যবোধগুলো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপরই ছেড়ে দেয়া হয়। অপরদিকে নৈতিকতাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বোচ্চ পদক্ষেপ গ্রহন করে। মূল্যবোধের উৎস:- পরিবার, ধর্ম, সামাজিক রীতিনীতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠিান, আইন-কানুন, সংবিধান, সংস্কৃতি, নীতিবোধের চর্চা, সামাজিক ন্যায়-বিচার, আইনের শাসন, নাগরিক চেতনা ও সামাজিক শিক্ষা। মূল্যবোধের উপাদান:- নীতি ও ঔচিত্যবোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার, সহনশীলতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, পরম সহিষ্ণুতা, শ্রমের মর্যাদা, আইনের শাসন, দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ।

3781 views Answered

Related Questions

Next steps