2 Answers

সবুজ ছাতা, সূর্যের হাসি ক্লিনিক গর্ভবতী, মা, ও শিশুদের জন্য ভাল।  কিন্তু বেসরকারি ভি আপি ক্লিনিক গুলো অতি উচ্চ খরচের বিনিময়ে ভাল সেবা দেয়।

2986 views

মানসম্মত সেবা ও কম খরচের কারণে গর্ভবতী মায়েদের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল। হাসপাতালের পরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে গর্ভবতী মায়েরা এখানে আসতে পছন্দ করে জানিয়েছেন হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীরা। রোগীরা বলেন, সেবার মান ভাল বলেই এখানে তারা আসেন। হাসপাতাল কর্মীদের সেবাদানের মানসিকতায় তারা খুশি।
নারায়ণগঞ্জ থেকে সেবা নিতে আসা সুপ্তী বেগম ও তার স্বামী ওমর ফারুক বলেন, এখানে সেবার মান অনেক ভাল। এ কারণে অন্যকোথাও না গিয়ে সরাসরি এখানে এসেছি। ভালো চিকিৎসা পেয়েছি। এখানকার চিকিৎসক-নার্স খুবই আন্তরিক। তাছাড়া এখানকার খরচ অন্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম। হাসপাতালের শাহিনা কেবিনের ২০৭ নম্বর রুমে ভর্তি রোগী বর্ষা বলেন, আমরা এখানে ৩ দিন হলো এসেছি। এখানে কেবিন পেতে কোন ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষেরে কার্যক্রমে খুশি। শাহজানপুর থেকে আসা সাদিয়া ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার এখানে এসেছি। কিন্তু মনেই হয় না হাসপাতালে আছি। পরিবারের মতোই সবাই আন্তরিক। খরচও অনেক কম।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. নাহিদ ইয়াসমিন বলেন, হাসপাতাল অনেক আগে থেকেই নারী ও শিশুদের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা এই হাসপাতালকে খুবই পছন্দ করে। তার অন্যতম একটা কারণ নারীবান্ধব পরিবেশ। এখানে মহিলা চিকিৎসক ও নার্স দ্বারা পরীক্ষা করাসহ বাচ্চা প্রসব হওয়া পর্যন্ত সমস্ত কিছু মহিলাদের দ্বারাই পরিচালিত।
তিনি বলেন, অন্যান্য হাসপাতালে সিজার বা নরমাল ডেলিভারীর যে খরচ নেয়া হয় সেটা অনেক বেশি। আমাদের এখানে মাত্র ১২০০-৩৮০০ টাকায় (ওষুধসহ) স্বাভাবিক ডেলিভারী এবং ৮ হাজার ৫০০ টাকায় সিজার করা হয়। মহিলা কর্মী দ্বারা স্বল্পমূল্যে যে গুণগত মানের সেবাটা দেয়া হয়ে থাকে সেটা নেয়ার জন্যই মায়েরা এখানে আসে। একই সঙ্গে গর্ভবতী মায়েদের সঙ্গে আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা, গর্ভবতী মা কতবার চেকআপে আসবে সেটা দূরের রোগীদের টেলিকমিনিকেশন বা মোবাইলের মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। এই সেবা অন্য কোথাও নাই। এর মাধ্যমে চিকিৎসকের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কাউন্সিলিং সেবা পায়। এছাড়া আমাদের রয়েছে সুন্দর অ্যাম্বুলেন্স সেবা। ঢাকার মধ্যে মাত্র ৩৩০ টাকায় রোগী আনা নেয়া করা যায়। ডা. নাহিদ ইয়াসমিন জানান, হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন হয় ৬৫ শতাংশ এবং স্বাভাবিক ডেলিভারী হয় ৩৫ শতাংশ। যেখানে ঢাকা মেডিকেলে সিজারিয়ান অপারেশন হয় প্রায় ৮০ শতাংশ।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপক শাহজালাল ফারাজী বলেন, ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতাল। এর মধ্যে ২৪৫টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এবং এই রোগীদের বিনামূল্যে মানসম্মত খাবারও দেয়া হয়। যেসব রোগী পেয়িং/কেবিনে থাকেন সবার জন্যই বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, মা ও শিশু সেবা দিয়ে শুরু করলেও আদ্-দ্বীন এখন পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। সবার সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত সেবা আমরা দিয়ে থাকি। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে এখানে প্রসবজনিত ফিস্টুলা রোগীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয়।

2986 views

Related Questions