1 Answers
আপনি অনেক কারণে স্বপ্ন নাও দেখতে পারেন। যেমন আপনি কোন জিনিস সেরকম ভাবে ভাবেন না৷ তবে একটি কথা না বললেই নয়। আপনি অনেক সময় স্বপ্ন দেখলেও আমরা মনে রাখতে পারি না। পরে মনেহয় আমি কোন স্বপনই দেখি নি। বিজ্ঞান বলে মূলত মানুষের ঘুমের পদ্ধতি ও দেহের কিছু রাসায়নিক পদার্থের কার্যক্রিয়ার ফলে এমনটা হয়ে থাকে। ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, আমরা যখন ঘুমাই, তখন আমাদের মস্তিষ্ক চার ভাগে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন মানসিক অবস্থার মধ্য দিয়ে যায়। চূড়ান্ত যে পর্বটি তার নাম হলো র্যাপিড আই মুভমেন্ট বা আরইএম। এই পর্যায়ের ঘুমের সময় একজন মানুষের চোখের পাতা দ্রুত কাঁপতে থাকে। হৃদপিণ্ড ধীরে ধীরে কাজ করে। এই অবস্থার মানুষ অটোনিয়া নামের একটি অবস্থানে চলে যায়। এই অবস্থায় মানবদেহ নাড়াচাড়া করা সম্ভব হয় না। ঠিক এই পরিস্থিতিতে স্বপ্ন দেখার ক্ষেত্রে মানব মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো—এসিটোকোলিন ও নোরাপিনাফ্রিন। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, মস্তিষ্কের কর্মতৎপরতা তত বেড়ে যায়।
স্বপ্নের বিষয়বস্তু একজনের কাছে কতটা স্পষ্ট হবে, সেটি নিয়ন্ত্রণ করে এসিটোকোলিন। আবার নোরাপিনাফ্রিন সতর্কতা ও মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করে। এসিটোকোলিনের উৎপাদন যত বাড়ে, নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকে। নোরাপিনাফ্রিনের পরিমাণ কমতে থাকলে আমাদের স্বপ্নগুলো মনে রাখার সক্ষমতাও কমতে থাকে। খন আমরা হুট করে ঘুমিয়ে পড়ি বা অ্যালার্মের শব্দে লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠি, তখন এই দুই রাসায়নিকের পরিমাণ সামান্য পরিমাণে বেড়ে যায়। এর ফলে মস্তিষ্কের স্বপ্ন মনে রাখার সম্ভাবনা আরও কমে যায়। আবার অনেক সময় আমাদের মস্তিষ্ক সেই সব স্বপ্নই মনে রাখে না, যেগুলো যথেষ্ট উত্তেজনাকর নয়। আর সেই জন্যই আপনি হয়ত অনেক দিন ধরে স্বপ্ন দেখেন না।
পুরো কৃতিত্ব আব্দুল মুজিব (আমার বাবা)