আসসালামু আলাইকুম। আমার এক বন্ধুর সাথে আমার ভুল বুঝাবুঝি হয়েছিলো তাই আমি রাগ করে মনে মনে কসম  করেছিলাম যে আমি যদি ওর সাথে পরবর্তীতে আর বন্ধুত্ব রাখবো নাহ। আর যদি রাখি তাহলে আমার ঈমান চলে যাবে। কিন্তু এখন আমি বুঝতে পেরেছি ভুল ওর ছিলো নাহ, এখন আবার ওর সাথে কথা বলতে চাই। কিন্তু আমি তো শপথ করেছিলাম। দয়া করে বলুন,  এর সমাধান কি। কারণ ওর সাথে কথা না বলে আমি থাকতে পারি নাহ। মন মরা লাগে কিছুই ভালো লাগে নাহ। আশা করি সঠিক জবাবটাই দিবেন। শুধুমাত্র যারা সিওর তারাই দিবেন কেননা এটা আমার ইমানের প্রশ্ন। ধন্যবাদ।   আসসালামুআলাইকুম।
2481 views

1 Answers

আপনার উচিৎ শপথের কাফফারা দেওয়া আর তার সাথে কথা বলা। কারণ আপনি ভুলে কিংবা রাগে যে বিষয়ে শপথ করেছেন তা যেমন ভুল,তেমনি আল্লাহর নবী সঃ মুসলিম ভাইয়ের সাথে তিন দিনের অধিক কথা না বলা হারাম বলেছেন। আপনার জন্য উচিৎ শপথের কাফফারা দেওয়া আর ঐ হারাম থেকে মুক্ত থাকা।আসুন হাদিসটি দেখি...                      তিনদিনের অধিক এক মুসলিমের অন্য মুসলিমের সাথে কথা-বার্তা বন্ধ রাখা হারাম। তবে যদি বিদআতী, প্রকাশ্য মহাপাপী ইত্যাদি হয়, তাহলে তার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার কথা ভিন্ন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ فَأَصْلِحُوا بَيْنَ أَخَوَيْكُمْ﴾ [الحجرات: ١٠]  অর্থাৎ সকল ঈমানদাররা তো পরস্পর ভাই ভাই, সুতরাং তোমরা দুই ভাই-এর মধ্যে সন্ধি স্থাপন কর। (সূরা হুজুরাত ১০ আয়াত) তিনি আরও বলেছেন, ﴿وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ﴾ [المائ‍دة: ٢]  অর্থাৎ পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে তোমরা একে অন্যের সাহায্য করো না। (সূরা মায়েদাহ ২ আয়াত) ১/১৫৯৯। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা পরস্পর সম্পর্ক-ছেদ করো না, একে অপরের বিরুদ্ধে শত্রুভাবাপন্ন হয়ো না, পরস্পরের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর হিংসা করো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা, ভাই ভাই হয়ে যাও। কোন মুসলিমের জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে তার ভাইয়ের সাথে তিন দিনের বেশি কথাবার্তা বলা বন্ধ রাখবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [1]   [1] সহীহুল বুখারী ৬০৫৬, ৬০৭৬, মুসলিম ২৫৫৯, তিরমিযী ১৯৩৫, আবূ দাউদ ৪৯১০, আহমাদ ১১৬৬৩, ১২২৮০, ১২৬৪০, ১২৭৬৭, ১২৯৪১, মুওয়াত্তা মালিক ১৬৮৩

2481 views

Related Questions