ঋতু পরিবর্তনের ধারা প্যারাটি লিখে দিবেন?
1 Answers
#ভূমিকা:ঋতু হচ্ছে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো একটি স্থানের জলবায়ুর ধরন। মহাকাশে সূর্যের অবস্থানের সাপেক্ষে পৃথিবীর অক্ষের অবস্থানের পরিবর্তনের কারণে কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে ঋতু পরিবর্তন সংঘটিত হয়।বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এদেশে ঋতুর আবির্ভাব ঘটে এবং সেগুলি পর্যায়ক্রমে আবর্তিত হয়। ঋতুগুলির তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ একটি থেকে অপরটিতে পৃথক।যদিও বাংলাদেশের জলবায়ু প্রধানত উপক্রান্তীয় মৌসুমি প্রকৃতির তথা উষ্ণ ও আর্দ্র, তথাপি প্রচলিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতে বছরকে ছয়টি ঋতুতে বিভক্ত করা হয়েছে, যথা: গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত। প্রতি দু মাস অন্তর ঋতু বদল হয়। #বৈশিষ্ট্য:অধিক তাপমাত্রা আর ঝড়ঝঞ্ঝা প্রাক মৌসুমি গ্রীষ্মকালের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাপমাত্রা এরূপ থাকে যে, কোনো একটি মাসকে উষ্ণতম মাস বলে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সাধারণত এপ্রিল মাসকেই উষ্ণতম মাস বলে গণ্য করা হয় এবং গড় তাপমাত্রা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণভাগে ২৭°সে থেকে দেশের পশ্চিম-মধ্যভাগে ৩১°সে পর্যন্ত পৌঁছে থাকে। এপ্রিল মাসের পরে আকাশে ক্রমাগত মেঘ জমতে থাকলে তাপমাত্রার সঙ্গে আর্দ্রতার যোগ ঘটে ফলে ভ্যাপসা গরম পড়তে শুরু করে। এ সময় বায়ুপ্রবাহের দিক স্থির থাকে না, বিশেষ করে শুরুর দিকে এমনটি হয়ে থাকে। বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের ১০ থেকে ২৫ ভাগ এসময় সংঘটিত হয়ে থাকে। জানুয়ারি মাসে গড় তাপমাত্রা দেশের উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-পূর্বভাগে ১৭°সে থেকে উপকূলীয় এলাকায় ২০°-২১°সে পর্যন্ত হয়ে থাকে। দেশের একেবারে উত্তর-পশ্চিমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা থাকে ডিসেম্বর মাসের শেষদিকে এবং জানুয়ারি মাসের প্রথমভাগে, তাপমাত্রা ৩° থেকে ৪°সে-এ নেমে যায়। #গ্রীষ্মকাল: বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল মাসের মধ্যভাগ থেকে জুন মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত) এ দুমাস গ্রীষ্মকাল। গ্রীষ্মের দিনগুলি উষ্ণ ও শুষ্ক। তবে সাধারণত মার্চের মাঝামাঝি থেকেই গরম পড়তে শুরু করে। (আরো কিছু লিখুন নিজের ভাষায়) #বর্ষাকাল বাংলা বর্ষের দ্বিতীয় ঋতু এবং এর স্থিতি আষাঢ় ও শ্রাবণ (জুন মাসের মাঝামাঝি থেকে আগস্ট মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত) এ দু মাস। প্রকৃতপক্ষে বৈশাখের শেষ থেকে কার্তিকের প্রথম ভাগ (অক্টোবরের মাঝামাঝি থেকে নভেম্বরের মাঝামাঝি) পর্যন্ত বর্ষার ব্যাপ্তি থাকে। (আরো লিখতে পারেন) #শরৎকাল : বর্ষার অবসানে তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভূত হয়। ভাদ্র ও আশ্বিন (আগস্ট মাসের মধ্যভাগ থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত) মিলে শরৎকাল।(ঋতু গুলির ব্যাখ্যা আপনি আরো বাড়াতে পারেন,আমি অল্পকরে লিখলাম) #হেমন্তকাল :বাংলা বর্ষের চতুর্থ ঋতু। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে এর ব্যাপ্তিকাল কার্তিক ও অগ্রহায়ণ (মধ্য অক্টোবর থেকে মধ্য ডিসেম্বর) মাস জুড়ে। মূলত হেমন্তকাল হচ্ছে শরৎ ও শীতকালের মধ্যবর্তী একটি পরিবর্তনশীল পর্যায়। # শীতকাল :ষড়ঋতুর পঞ্চতম এবং উষ্ণতর গ্রীষ্মের বিপরীতে বছরের শীতলতর অংশ। বাংলা বর্ষপঞ্জি অনুসারে পৌষ ও মাঘ (মধ্য ডিসেম্বর থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি) এ দু মাস শীতকাল হলেও বাস্তবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতের ঠান্ডা অনুভূত হয়। #বসন্তকাল : ফাল্গুন ও চৈত্র মাস (ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগ থেকে এপ্রিলের মধ্যভাগ পর্যন্ত) নিয়ে বসন্তকাল হলেও প্রকৃতপক্ষে শুধুমাত্র মার্চ মাসেই ঋতুটির সংক্ষিপ্ত অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। উপসংহার :দক্ষিণে সমুদ্র, উত্তরে হিমালয় পর্বত এবং বিশাল সমভূমির জন্য বাংলাদেশে শীত বা গ্রীষ্ম কোনোটিরই আধিক্য অনুভূত হয় না। বাংলাদেশের এ নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু প্রকৃতির কিছু ব্যতিক্রম বৈরিতা ছাড়া অত্যন্ত আরামপ্রদ। বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যবসাবাণিজ্য, সাহিত্য-সংস্কৃতি তথা সামগ্রিক জীবনধারা ষড়ঋতুর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত।