পবিত্র কুরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহ কসম দিয়েছেন। কিন্তুএই কসম দেয়ার ব্যাপারটা বুঝলাম না?

আল্লাহ কেন নিজের সৃষ্টির কসম দিয়েছেন? যেমন- "কসম যুগের (সময়ের)," "শপথ আকাশের এবং রাত্রিতে আগমনকারীর", "শপথ চক্রশীল আকাশের", "শপথ সূর্যের ও তার কিরণের", " শপথ রাত্রির যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে, শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন, তাঁর। শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন, তাঁর, শপথ প্রাণের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন, তাঁর।
2788 views

1 Answers

আল্লাহ তাআলা যেসব জিনিসের শপথ করেন তার গুরুত্ব অপরিসীম। অর্থাৎ মানুষকে সৃষ্টি করার পর অসৎ ও সৎ কর্মের পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর যারা অসৎ কাজ বর্জন করার মাধ্যমে নিজেকে পবিত্র করে নিতে পারল তারাই সফলকাম। পক্ষান্তরে যারা অসৎ কাজে জড়িত হয়ে নিজেকে কলুষিত করে নিয়েছে তারা নিজেদের ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারা আখিরাতে সফলকাম আর কারা ব্যর্থ সে বিষয়টি গুরুত্ব দেয়ার জন্য আল্লাহ তাআলা ধারাবাহিকভাবে তার সাতটি বড় বড় মাখলুক নিয়ে শপথ করেছেন। প্রথমেই আল্লাহ তাআলা সূর্যের শপথ করেছেন। এটা আল্লাহ তাআলার একটি অন্যতম বড় মাখলুক এবং নিদর্শন। ১. শপথ সূর্যের এবং তার কিরণের। ২. শপথ চাঁদের, যখন তা সূর্যের পর আবির্ভূত হয়। ৩. শপথ দিনের, যখন সে সূর্যকে প্রকাশ করে। ৪. শপথ রাতের, যখন সে সূর্যকে আচ্ছাদিত করে। ৫. শপথ আসমানের আর সেটা যিনি বানিয়েছেন তাঁর। ৬. শপথ প্রাণের আর তাঁর যিনি তা সামঞ্জস্যপূর্ণ করেছেন। ৭. শপথ নফসের এবং যিনি তা সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। (সুরা-আশ-শামস) ইমাম ইবনে কাসীর (রহঃ) বলেনঃ শপথ মানুষের এবং তাকে যে সঠিক ফিতরাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত করে সৃষ্টি করেছেন তার। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ অতএব তুমি একনিষ্ঠভাবে নিজেকে দীনের ওপর প্রতিষ্ঠিত রাখ; এটাই আল্লাহর ফিতরাত যার ওপর তিনি মানব সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোন পরিবর্তন নেই। এটাই সরল-সঠিক দীন কিন্তু অধিকাংশ মানুষ জানে না। (সূরা রূমঃ ৩০) রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ প্রত্যেক সন্তান ফিতরাত বা ইসলামের উপর জন্ম গ্রহণ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে হয় ইয়াহূদী বানায় অথবা খ্রিস্টান বা অগ্নিপূজক বানায়। (সহীহ বুখারীঃ ১৩৮৫) আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সৎ কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার তাওফীক দান করুন।

2788 views Answered

Next steps