4 Answers

আমি তো তোমাদের মতো একজন মানুষ। (সূরা কাহাফঃ ১১০) আল্লাহ তায়ালার শ্রেষ্ঠতম সত্তা হলেন হয়রত মুহাম্মাদ (সাঃ) তাকে বিশ্ববাসীর জন্য সুন্দরতম নমুনা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। তিনি শারীরিক গঠন কাঠামোর দিক দিয়েও ছিলেন নজিরবিহীন। তার মতো অঙ্গ সৌষ্ঠবের অধিকারী এত সুন্দর আর কেউ ছিল না, কিয়ামত পর্যন্ত হবেও না। তেমনি আল্লাহ তায়ালা তাকে অনুপম চরিত্র মাধুরী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। চারিত্রিক সৌন্দর্যে তিনি ছিলেন সমস্ত সৃষ্টির সেরা। আল্লাহ তায়ালা তার চরিত্রের প্রশংসা করে বলেছেনঃ নিসন্দেহে আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী। (সূরা কালামঃ ৪) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, আমি দশবছর যাবতকাল ধরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেবা-যত্ন করেছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন সবচাইতে উত্তম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মানুষ। আমি রেশম এবং পশম মিশিয়ে বানানো কাপড়ও নিজ হাতে ছুয়ে দেখেছি এবং খাটি রেশমী কাপড়ও ছুয়েছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতের চেয়ে অধিক নরম ও মসৃন কোন কিছু স্পর্শ করিনি। আমি মৃগনভির গন্ধও গ্রহণ করেছি এবং আতরের গন্ধও গ্রহণ করেছি কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীরের ঘামের চেয়ে অধিক সুগন্ধ কোন কিছুতেই পাইনি। (সূনান আত তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ২০১৫)

2818 views

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি রোজ কিয়ামতে সকল বনী আদমের নেতা হবে। এবং এতে আমি মোটেও কোন প্রকার গর্ববোধ করি না।

-সহীহ বুখারী: হা. ৩৩৪০, সহীহ মুসলিম: হা. ১৯৪, সুনানে  আবু দাউদ: হা. ৪৬৭৩, সুনানে ইবনে মাযা: হা. ৪৩০৮, জাম তিরমিযী: হা. ১৩৪৮

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في دعوة فرفع إليه الذراع وكانت تعجبه فنهس منها نهسة وقال أنا سيد القوم يوم القيامة هل تدرون بم يجمع الله الأولين والآخرين في صعيد واحد فيبصرهم الناظر ويسمعهم. (متفق عليه)

عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : أنا سيد ولد آدم وأول من تنشق عنه الأرض وأول شافع وأول مشفع .

(سنن أبي داود)

عن أبي سعيد قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم : أنا سيد ولد آدم ولا فخر . وأنا أول من تنشق الأرض عنه يوم القيامة ولا فخر . وأنا أول شافع وأول مشفع ولا فخر . ولواء الحمد بيدي يوم القيامة ولا فخر.        (سنن ابن ماجه)

عن أبي نضرة بن سعيد قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم أنا سيد ولد آدم يوم القيامة وبيدي لواء الحمد ولا فخر وما من نبي يومئذ آدم فمن سواه إلا تحت وأنا أول من تنشق عنه الأرض ولا فخر.             (سنن الترمذي)

2818 views


হযরত আনাস রাঃ বলেন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানুষের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর আচরণের অধিকারী ছিলেন।

(2310) حَدَّثَنِي أَبُو مَعْنٍ الرَّقَاشِيُّ زَيْدُ بْنُ يَزِيدَ، أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا عِكْرِمَةُ وَهُوَ ابْنُ عَمَّارٍ، قَالَ: قَالَ إِسْحَاقُ: قَالَ أَنَسٌ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ أَحْسَنِ النَّاسِ خُلُقًا»، فَأَرْسَلَنِي يَوْمًا لِحَاجَةٍ، فَقُلْتُ: وَاللهِ لَا أَذْهَبُ، وَفِي نَفْسِي أَنْ أَذْهَبَ لِمَا أَمَرَنِي بِهِ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَخَرَجْتُ حَتَّى أَمُرَّ عَلَى صِبْيَانٍ وَهُمْ يَلْعَبُونَ فِي السُّوقِ، فَإِذَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ قَبَضَ بِقَفَايَ مِنْ وَرَائِي، قَالَ: فَنَظَرْتُ إِلَيْهِ وَهُوَ يَضْحَكُ، فَقَالَ: «يَا أُنَيْسُ أَذَهَبْتَ حَيْثُ أَمَرْتُكَ؟» قَالَ قُلْتُ: نَعَمْ، أَنَا أَذْهَبُ، يَا رَسُولَ اللهِ


(2310) وَحَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، وَأَبُو الرَّبِيعِ، قَالَا: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: «كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحْسَنَ النَّاسِ خُلُقًا»


2818 views

কুরআনের বেশকিছু জায়গায় আল্লাহ তাআলা রাসূল
(সা)কে আমাদের মতো মানুষ বলে উল্লেখ করেছেন।
নিচে আয়াতগুলো তুলে ধরলাম। 
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَىٰ إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَٰهُكُمْ إِلَٰهٌ وَاحِدٌ ۖ
"বলুন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতো মানুষ, আমার উপর আল্লাহর ওহী নাযিল হয় এবং তোমাদের প্রভু একজন" 
(সূরা আল - কাহাফ / ১১০, সূরা আল - হা -মিম - আস-সাসদাহ / ৬)।
উপরোক্ত আয়াত দুটি ছাড়াও কুরআনের আরও অনেক জায়গায় মুহাম্মদ (সা) যে একজন মানুষ ছিলেন তা উল্লেখ করেছেন।
যেমন, "বলুন, পবিত্র মহান আমার প্রভু, আমি একজন মানুষ ছাড়া আর কি?..(সূরা আল - ইসরা /৯৩)।
"মানুষের কাছে কি আশ্চর্য লাগছে যে, আমি ওহী প্রেরণ করেছি তাদের মধ্য হতে একজনের নিকট? ...(সূরা ইউনূস / ২)।
এই ধরনের আয়াতগুলোর শানেনযুল হলো, মুশরিকদের
ধারণা ছিল, মানুষ কখনো নবী রাসূল হতে পারেনা। নবী বা রাসূল হবেন মানুষের চেয়ে উর্ধের কোনো সৃষ্টি, যেমন : ফেরেশতা। (surah isra /93).
উপরোক্ত আয়াতগুলো নাযিল করে আল্লাহ তাদের ভ্রান্ত ধারণা বা বিশ্বাসের জবাব দিয়েছেন।
অর্থাৎ মুহাম্মদ (সা)ও একজন মানুষ।
অতএব, "মুহাম্মদ (সা) মানুষ নয় বরং মানুষ রূপে এসেছেন"
বিদাতিদের এমন কথা ভিত্তিহীন ও কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক।
কুরআনে মুহাম্মদ (সা)কে "আমাদের মতো মানুষ বলেছেন"
উপরোক্ত কথার অর্থ হলো,
আমরা যেমন পিতা ও মায়ের মিলনের ফসল, রাসূল (সা)ও পিতা ও মায়ের মিলনের ফসল।
আমরা যেমন, বিয়ে করি, রাসূল (সা) ও বিয়ে করেছেন।
আমরা যেমন হাটে বাজারে যায়, রাসূল (সা)ও হাটে বাজারে যেতেন।
আমাদের যেমন ক্ষুধা, তৃষ্ণা, তন্দ্রা, নিদ্রা ইত্যাদি আছে, রাসূল (সা) এর ও ক্ষুধা, তৃষ্ণা, তন্দ্রা, নিদ্রা ইত্যাদি ছিল। আমরা যেমন অসুস্থ হয়, রাসূল (সা) তেমনি অসুস্থ হতো।
আমরা যেমন পেশ্রাব, পায়খানা কিংবা যানাবাতের কারণে
অপবিত্র হয় রাসূল (সা) এইসব কারণে অপবিত্র হতেন।
আমরা যেমন ভুল করি রাসূল (সা)ও ভুল করতেন।
আমাদের যেমন মৃত্যু আছে , তারও মৃত্যু হয়েছে।
আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত আয়াতগুলো দ্বারা এইসবে নির্দেশ করেছেন।
এইবার আপনার প্রশ্ন থাকতে পারে, সব দিক থেকে যদি
তিনি আমাদের মতে মানুষ হন তবে পার্থক্য কি?
পার্থক্য হলো,
=>আল্লাহ তাকে ওহী দিয়েছেন যা আমাদের দেয়নি।
=>আল্লাহ তাকে উত্তম চরিত্রের অধীকারী বানিয়েছেন।
=>আল্লাহ তার দ্বারা অনেক অলৌকিক কাজ করেছেন।
=>তার সব কথা ও কাজ মানা আমাদের জন্য ইবাদত
করেছেন।
=>তিনি মিরাজে গিয়েছিলেন।
=>আল্লাহ্ তাকে ইমামুল মুর সালিন বা সকল নবী রাসূলগণের নেতা বানিয়েছেন।
=>আল্লাহ তাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন বানিয়েছেন। 
=>তিনি ছিলেন, মাসুম বা নিস্পাপ।
=>তিনি জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকামের অধিকারী হবেন।
এককথায়, মুহাম্মদ (সা) মানবীয় গুণের দিক থেকে তিনি
অন্যান্য মানুষদের মতো রক্তে মাংসে গড়া মানুষ।
কিন্তু সম্মান, মর্যাদা, জ্ঞান, খ্যাতি, চারিত্রিক মর্যাদা এসব
দিক দিয়ে তিনি (সা) সকল মানুষের উর্ধ্বে।

2818 views

Related Questions