4 Answers

কলার চারা রোপন -
গর্ত তৈরিঃ ৬০ সে:মি (২ফুট) চওরা এ এ একই পরিমাণ গভির করে গর্ত তৈরি করতে হবে। চারা রোপননের দূরুত্বঃ ২-৩ মি, দূরুত্বে চারা রোপন করা যেতে পারে। আসি চারা চারা লাগানো (ভালো টিকে তবে পানি চারাও নিতে পারেন) আশ্বিন কার্তিক মাসে লাগাতে হয়।
2841 views

পর্যাপ্ত রস থাকলে প্রায় সব ধরনের জমিতে কলার চাষ করা যায়। কলা চাষের জন্য জমি ভালভাবে গভীর করে ৩/৫ বার চাষ দিতে হবে। দুই মিটার দূরে দূরে ২ ফুট গভীর করে গর্ত তৈরি করে নিতে হবে। গর্তে চারা রোপণের সময় কাঁটা অংশ (Cut surface) দক্ষিণমুখী করে লাগাতে হবে। তাহলে কলার কাঁদি উত্তর দিকে পড়বে এতে কলার রঙ সুন্দর হয় এবং ঝড় বাদল ও রোগ থেকে রক্ষা করে।

2841 views
2841 views

কলা চাষের উপযুক্ত মাটি

প্রায় সব ধরনের জমি বা মাটিতে কলার চাষ করা যায়। তবে উর্বর দোআঁশ মাটি ও পানি জমে না এমন উঁচু জমি কলা চাষের জন্য উত্তম।

কলার জাত পরিচিতি

আমাদের দেশে অনেক প্রকার কলার জাত রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য-অমৃত সাগর, সবরী, চাঁপা, মেহের সাগর, বিচিকলা, কাঁচকলা বা আনাজি কলা ইত্যাদি।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ

পর্যাপ্ত রস থাকলে প্রায় সব ধরনের জমিতে কলার চাষ করা যায়। কলা চাষের জন্য জমি ভালভাবে গভীর করে ৩/৫ বার চাষ দিতে হবে। দুই মিটার দূরে দূরে ২ ফুট গভীর করে গর্ত তৈরি করে নিতে হবে। গর্তে চারা রোপণের সময় কাঁটা অংশ (Cut surface) দক্ষিণমুখী করে লাগাতে হবে। তাহলে কলার কাঁদি উত্তর দিকে পড়বে এতে কলার রঙ সুন্দর হয় এবং ঝড় বাদল ও রোগ থেকে রক্ষা করে।

কলার চারা রোপণের সময়

কলার চারা বছরে তিন মৌসুমে রোপণ করা যায়-আশ্বিন-কার্তিক, মাঘ-ফাল্গুন এবং চৈত্র-বৈশাখ।

কলার চারা নির্বাচন

কলার চারা বা সাকার দু´রকমের। অসি চারা ও পানি চারা। অসি চারার পাতা চিকন, গোড়ার দিক মোটা ও সবল। পানি চারার পাতা চওড়া, কাণ্ড চিকন ও দুর্বল। তবে এ চারার মধ্যে অসি চারা রোপণ করাই উত্তম।

কলা চাষে সার ব্যবস্থাপনা

প্রতি গর্তে গোবর ২০ কেজি, টিএসপি সার ৪০০ গ্রাম, এমওপি সার ৩০০ গ্রাম এবং ইউরিয়া সার ৬৫০ গ্রাম প্রয়োগ করতে হবে। সারের ৫০ ভাগ গোবর জমি তৈরির সময় এবং বাকি ৫০ভাগ গর্তে দিতে হবে। এ সময় অর্ধেক টিএসপি গর্তে প্রয়োগ করা দরকার। রোপণের দেড় থেকে দুই মাস পর ২৫ ভাগ ইউরিয়া, ৫০ ভাগ এমওপি এবং বাকি টিএসপি জমিতে ছিটিয়ে ভালভাবে কুপিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এর দুই থেকে আড়াই মাস পর গাছপ্রতি বাকি ৫০ ভাগ ইউরিয়া ও ৫০ ভাগ এমওপি সার প্রয়োগ করতে হবে। ফুল আসার সময় অবশিষ্ট ২৫ ভাগ ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

কলা চাষে সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা

চারা রোপণের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে এবং শুকনো মৌসুমে ১৫-২০ দিন পর সেচ দিতে হবে। তাছাড়া গাছের গোড়া ও নালার আগাছা সব সময় পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। মোচা আসার আগ পর্যন্ত গাছের গোড়ায় কোন তেউড় রাখা উচিত নয়।

কলার রোগ-বালাই ও প্রতিকার

পানামা রোগ

এটি একটি ছত্রাক জাতীয় রোগ। এরোগের আক্রমণে গাছের পাতা হলুদ দেখায়। পাতা বোটার কাছে ভেঙ্গে ঝুলে যায়। আক্রন্ত গাছ আস্তে আস্তে মরে যায়।

প্রতিকার

রোগ মুক্ত গাছ লাগাতে হবে। অথবা আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ উঠিয়ে ফেলতে হবে। আক্রান্ত গাছের তেউড় চারা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া অনুমোদিত ছত্রাকনাশক ব্যবহার করতে হবে।

সিগাটোকা রোগ

এ রোগের আক্রমনে পাতার উপর গোলাকার বা ডিম্বাকৃতির গাঢ় বাদামি রঙের দাগ পড়ে।

প্রতিকার

আক্রান্ত গাছের পাতা পুড়িয়ে ফেলতে হবে। তাছাড়া টিল্ট ২৫০ ইসি প্রতি ১০ লিটার পানিতে ৫ মিলি হারে  মিশিয়ে ১৫/২০ দিন পর পর স্প্রে করে রোগ দমন করতে হবে।

পাতা ও ফলের বিটল পোকা

কলার পাতা ও ফলে বিটল পোকা কচি পাতায় হাটাহাটি করে এবং সবুজ অংশ নষ্ট করে ফেলে। ফলে সেখানে অসংখ্য দাগের সৃষ্টি হয়। কলা বের হওয়ার সময় হলে পোকা মোচার মধ্যে ঢুকে কচি কলার ওপর হাটাহাটি করে এবং রস চুষে খায়। এত কলার গায়ে বসন্ত রোগের মতো দাগ হয়।

প্রতিকার

পোকা আক্রান্ত মাঠে বারবার কলা চাষ করা যাবে না। কলার মোচা বের হওয়ার সময় ছিদ্র বিশিষ্ট পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে এ পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে। আক্রমণ বেশি হলে প্রতি লিটার পানিতে ১ গ্রাম সেভিন ৮৫ ডব্লিউ পি মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর ২ বার গাছের পাতার উপরে স্প্রে করে দিতে হবে।

এছাড়া রাইজোম উইতিল, থ্রিপস পোকার আক্রোমণ হতে পারে। এসব পোকা দমনের জন্য ৫ শতাংশ জমির জন্য ডায়াজিনন ৬০ ইসি ২০মি. লিটার ১০ লিটার পানির সাথে মিশিয়ে ১৫ দিন পর পর স্প্রে করতে হবে।

ফসল সংগ্রহ

চারা রোপণের ১১-১৫ মাসের মধ্যেই কলা সংগ্রহ করা যেতে পারে। 

2841 views