চাকরি করতে চাই না?
চাকরি করতে চাই না এখন কোম্পানির কাছে একটা অব্যহত পত্র লিখতে হবে কিভাবে লেখতে হবে কারও জানা থাকলে জানাবেন???
2646 views
1 Answers
বর্তমান কর্মস্থলের চেয়ে ভালো কোনো স্থানে চাকরির সুযোগ কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে চাকরি ছাড়তে হলে প্রথমেই ভালো পদত্যাগপত্র লিখতে হবে। কারন, ভবিষ্যতে বর্তমান চাকরিদাতার কোনো রেফারেন্স প্রয়োজন হতে পারে আপনার। অথবা প্রতিষ্ঠানটির বসের অধীনেই সামনে কোনো সময় কাজ করতে হতে পারে। তাই একটি চমৎকার পদত্যাগপত্রের মাধ্যমে আপনি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চাকরি ছাড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে মানসম্পন্ন পদত্যাগপত্র লেখার নিয়ম—
পদত্যাগপত্রে যা থাকবে বিশেষজ্ঞদের মতে পদত্যাগপত্রের ভাষা সরল এবং পরিষ্কার হতে হবে। এতে মৌলিক কিছু তথ্য যোগ করতে হবে। সেগুলো হলো : ১. পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার তারিখ ২. পদত্যাগ করার কারণ সংক্ষিপ্ত আকারে। সেটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য। ৩. যে তারিখ থেকে পদত্যাগ করতে চান। ৪. নিজের স্বাক্ষর। তাছাড়া আরো বিষয়গুলো লক্ষ রাখতে হয়-
=কোন স্থায়ী শ্রমিক স্বেচ্ছায় চাকুরী থেকে অব্যাহতি নিতে চাইলে তাকে ৬০ দিন পূর্বে কর্তৃপক্ষকে লিখিত নোটিশ দিতে হয়।
=যদি কোন শ্রমিক বিনা নোটিশে চাকরী থেকে অব্যাহতি দেন তবে উক্ত শ্রমিক বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর নিয়োগ ও চাকরী শর্তাবলী আইনের ২৭ এর ৩ উপধারা অনুযায়ী নোটিশ মেয়াদের মজুরীর সমপরিমান টাকা প্রদান করতে হয়।
=অব্যাহতি প্রাপ্ত শ্রমিককে কোম্পানী কর্তৃক তাকে প্রদত্ত ড্রেস, টেপ কাটার, ববিন সহ অন্যান্য অফিস/কারখানা সংক্রান্ত জিনিসপত্র জমা দিয়ে ফ্লোর ইনচার্জের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে অফিসে জমা দিতে হয়।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত। এছাড়া কর্তৃপক্ষ ও বসকে ধন্যবাদ জানাতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন তার কর্তৃপক্ষ যেন মনে না করে যে আপনি এখানে সময়ের অপচয় করেছেন বলে ভাবছেন। পদত্যাগপত্রে অফিস ও কর্মী-কর্মকর্তাদের প্রশংসা করতে পারেন। পদত্যাগপত্রে যে বিষয়গুলো এড়িয়ে যাবেন : যে উপায়ে কর্মীরা চাকরি ছাড়েন তার ওপর ওই কর্মীর ভবিষ্যৎ অনেকটা নির্ভর করে। বিষয়টা মাথায় রেখে কয়েকটি অংশ এড়িয়ে যেতে হবে। যেমন, পদত্যাগপত্রে চাকরি ছাড়ার প্রকৃত কোনো কারণ উল্লেখ না করাই ভালো। যদি অস্বস্তিকর কোনো কারণে চাকরি ছাড়তে চান, সেটা না উল্লেখ করাই ভালো। এছাড়াও বেতন বাড়ছে না বা অফিস বাসা থেকে দূরে হয়ে যায় এ জাতীয় নেতিবাচক বিষয় এড়িয়ে যাওয়া উচিত। . হতে পারে কর্মক্ষেত্রের কোনো একটি বিষয় আপনি ঘৃণা করেন। তাছাড়া বসের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, কোনো সহকর্মীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া সমস্যা বা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বনিবনা না হওয়া ইত্যাদি কারণ থাকতে পারে। মোটকথা যে বিষয়গুলোকে আপনি ঘৃণা করেন বা অসহ্য মনে হয়, সেগুলো চিঠিতে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। . চিঠির ভাষা অবশ্যই শোভনীয় ও পেশাদার হতে হবে। সেখানে আবেগের তীব্র প্রকাশ থাকবে না। আগ্রাসী বা অনুগ্রহ চাওয়া ধরনের বক্তব্য দেওয়া বড় ধরনের ভুল। পাশাপাশি কোনো বিষয়ে ব্যক্তিগত কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। চাকরি ছাড়ার সঠিক কারণটি তুলে ধরতেই হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। স্বল্প ভাষায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরুন। পদত্যাগপত্র লেখা শেষে অবশ্যই বার বার দেখে নিন।
2646 views
Answered