2 Answers
সাইনাস রোগটাই এমন যে ওষুধে কমানো যায় না সহজে, বরং অনেক সময় ঘরোয়া উপায়গুলো বেশ কাজে আসে। তেমনই কিছু ঘরোয়া টোটকা-
আদা
সাইনাসের সমস্যা কমাতে আদা খুব কার্যকরী। আদার অ্যান্টি-ইনফ্লামাটরি বা প্রদাহ নাশক উপাদান খুব সহজে সাইনাস জনিত সমস্যা কমিয়ে তোলে। আপনাকে যা করতে হবে তা হলো তাজা আদা কেটে টুকরো করে এক কাপ পানিতে করে ১০ মিনিট ফুটিয়ে সেই পানি পান করতে পারেন। আবার আদা সরাসরি কেটে চিবিয়ে খেতে পারেন।
গরম পানি
সাইনাসের সমস্যা সারাতে গরম পানি আরও একটি উপকারি উপাদান। কেবল মাত্র কয়েক গ্লাস গরম পানি নিয়ম করে পান করলেই সাইনাসের সমস্যা অনেকখানি কমে যায়।
দারুচিনি
দারুচিনি সাইনাসের সমস্যা কমাতে ভীষণ উপকারি একটি ভেষজ উপাদান। এক টেবিল চামচ দারুচিনি, এক থেকে দুই টেবিল চামচ চন্দন ও পাই মিশিয়ে একটি পেস্ট বানিয়ে নিন। এবার এই পেস্ট আপনার কপালে লাগিয়ে কয়েক মিনিট অপেক্ষা করুন। দেখবেন সাইনাসের সমস্যা অনেকটাই কমে আসবে।
পুদিনা
সাইনাস জনিত যেকোন শারীরিক সমস্যা কমাতে পুদিনা পাতা ম্যাজিকের মতো কাজ করে। যদি আপনি সাইনাসের মাথা ব্যথা নিয়ে ভুগে থাকেন তাহলে সাধারণভাবে এক কাপ পুদিনা চা পান করে দেখুন। নিমেষেই আপনার মাথার ব্যথা চলে যাবে।
গরম ও ঠান্ডা সেঁক নেয়া
গরম ও ঠাণ্ডা সেঁক নেওয়া সাইনাসের সমস্যার একটি অন্যতম প্রতিষেধক। যা করবেন তা হলো প্রথমে আপনার মাথায় গরম পানি টাওয়েলে ভিজিয়ে মাথায় সেঁক নেওয়ার পর আবার পুনরায় একইভাবে ঠাণ্ডা পানির সেঁক নিতে থাকুন। দেখবেন এতেই আপনার শরীরে ভালো প্রশান্তি অনুভব করবেন।
সাইনের দূরে রাখার জন্য আপনার সবচেয়ে বেশী করণীয় কাজটি হবে ঠাণ্ডা থেকে দূরে থাকা এবং নোংরা পরিবেশ এড়িয়ে চলা।
তাছাড়া নিচের নিয়ম ও ফলো করতে পারেন-
১. স্টিম বাথ: স্টিম বাথ বা বাষ্পীয় প্রশ্বাস গ্রহণ দারুণ কার্যকরি। আর্দ্রতার কারণে নাকে সূক্ষ্ম সিলিয়াগুলো তাদের কার্যক্ষমতা ফিরে পায় ও সাইনাসের মুখ খুলে যায়। দিনে দু বার স্টিম বাথ বা বাষ্পীয় প্রশ্বাস গ্রহণ করা যেতে পারে। বালতি বা গামলায় বাষ্পসুদ্ধ সিদ্ধ পানি নিয়ে ঝুঁকে বসতে হবে, একটা তোয়ালে দিয়ে মাথা ঢেকে ফেলুন যাতে উদ্বায়ী বাষ্প বেরিয়ে যেতে না পারে। এবার শ্বাসের সঙ্গে গরম বাষ্প টেনে নিতে হবে। দিনে দু'বার করতে হবে। পানির সঙ্গে টিংচার আয়োডিন বা ক্রিস্টাল মেন্থল মেশালে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
২. সাইনোসাইটিসের প্রকোপ কমাতে নিয়মিত নাক পরিষ্কার রাখা জরুরি। ঘন শ্লেষ্মা বা সিক্রেশনগুলো বের করে ফেলতে হবে।
৩. সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ পানি বা পানীয় (ঠাণ্ডা এবং গরম দুটোই) গ্রহণ করা উচিৎ। এতে সাইনাসের নিঃসরণ পাতলা হয় এবং সাইনাসের কার্যক্ষমতা সচল থাকে।
৪. দুই নাক একসঙ্গে ঝাড়া যাবেনা। তাতে প্রদাহ বা সংক্রমণ কান পর্যন্ত ছড়িয়ে যাবে।
৫. সাইনাসের নিঃসরণ পাতলা হলে সহজে বেরিয়ে যায়। সেজন্যে খাবারে রসুনের পরিমাণ বাড়াতে পারেন। রসুন ন্যাচারাল ডিকনজেসটেন্ট হিসেবে কাজ করে, ফলে বন্ধ নাক খুলে যায়।
৬. খানিকটা শারীরিক পরিশ্রম করলে সাইনাসের মুখ খুলে যেতে পারে, এতে কিছুটা উপশম পেতে পারেন।
৭. সংশিষ্ট সাইনাসের ওপর চাপ প্রয়োগে ব্যথা অনুভব হতে পারে। এক্ষেত্রে ভেজা হালকা গরম কাপড় কয়েক মিনিটের জন্যে রেখে দিলে ব্যথা কমে আসবে।
৮. সাইনোসাইটিসের ব্যথার সঙ্গে ক্ষুধার সম্পর্ক রয়েছে। ব্যথার সময় খিদে পেলে দ্রুত খেয়ে ফেলবেন, নয়তো ব্যথা বেড়ে যাবে।