2 Answers
নামাযে হাত বাধা ফরয কিংবা ওয়াজিব নয়।তো এটি অনেকে অনেক ভাবে বেধে থাকে। কেউ নাভির নিচে হানাফিরা।আবার যারা আহলে হাদিস তারা বুকে।আবার কেউ কেউ নাভির উপরে এবং বুকের নিচে।তবে প্রত্যেকে কোনো না কোনো দলিলের ভিত্তিতে আমল টা করে।তো এটি নিয়ে বিতর্ক করা ঠিক নয়।
নাভীর নীচে হাত বাধা সিহাহ সিত্তাহ তথা ছয় খানা সহিহ হাদিস গ্রন্থে বর্নিত হয়েছে তবে তা যঈফ,,
মুহাম্মাদ ইবনু কুদামা, ইবনু জুরাইজ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন আমি আলী (রাঃ) কে নামাযে নাভির উপরে ডান হাত দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরে রাখতে দেখেছি। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, সাঈদ ইবনু জুবাইর থেকে “নাভির উপরে” বর্ণিত আছে। আর আবূ মিজলায বলেছেন, “নাভির নীচে”। (সূনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বরঃ ৭৫৭ হাদিসের মানঃ যঈফ)
মুহাম্মাদ ইবনু মাহবূব আবূ জুহাইফা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। আলী (রাঃ) বলেন, নামাযে রত অবস্থায় নাভির নীচে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত।
(সূনান আবু দাউদ, হাদিস নম্বরঃ ৭৫৬ হাদিসের মানঃ যঈফ) এখানে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু রাখা কথাটি স্পষ্ট।
কুতায়বা (রহঃ) কাবীসা ইবনু হুলব তাঁর পিতা হুলব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন আমাদের ইমামতি করতেন তখন ডান হাত দিয়ে তাঁর বাম হাত ধারণ করতেন।
(তিরমিজীঃ ২৫২ হাদিসের মানঃ হাসান) এখানে ডান হাত দিয়ে তাঁর বাম হাত ধারণ করতেন। কিন্ত কোন অংশে ধরতে হবে কথাটি উল্লেখ নেই।
তাই এই বিষয়ে আলিমগণের মতামতঃ
এই বিষয়ে ওয়াইল ইবনু হুজর, গুতায়ফ ইবনুল হারিছ, ইবনু আব্বাস, ইবনু মাসঊদ ও সাহল ইবনু সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী (রহঃ) বলেনঃ হুলব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটি হাসান। সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তীযুগের আলিমগণ এই হাদিস অনুসারেই আমল করেছেন। তাঁরা সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার অভিমত ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ উভয় হাত নাভির উপর স্থাপন করার আর কেউ কেউ নাভীর নীচে স্থাপন করার অভিমত দিয়েছেন। তবে আলিমগণের নিকট এই উভয় সুরতেরই অবকাশ রয়েছে।
আবু হানিফার মতে হাত নাভীর নীচে স্থাপন করতে হবে। তার হাত বাধার নিয়ম-ও সঠিক। কেননা হাত বাধা কোন ফরজ হুকুম নয়। তা যেখানেই বাধা হোক না কেন এক্ষেত্রে নামাজ হবে ইনশাআল্লাহ!
[স্বল্প জ্ঞানে লেখা ভুল হলে ক্ষমা প্রার্থী।]