তাওবা করা সম্পর্কে?

কোনো ব্যক্তি যদি জেনে শুনে ইচ্ছাকৃত ভাবে শিরকের গুনাহ করে ফেলে এবং পরে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তাওবা করে তবে কি শিরকের গুনাহ ক্ষমা হবে? [দয়া করে কেউ অনুমানিক নির্ভর উত্তর প্রদান করবেন না। কুরআন ও হদিসের দলিল সহ উত্তর প্রদান করবেন]
2882 views

4 Answers

আল্লাহর সাথে সম্পর্কিত এমন কোনো বিষয়ে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকে শিরক বলে। গুনাহের জগতে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে শিরক। শিরকের গুনাহ বিশুদ্ধ তওবা ছাড়া আল্লাহ ক্ষমা করবেন না।  আল্লাহ তায়ালা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেছেন, "আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তার সব গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন; কিন্তু শিরকের গুনাহ ক্ষমা করবেন্ না এবং আল্লাহর সাথে শরিক করলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হয়"।  অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহর সাথে যে লোক শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন। আর তার আশ্রয়স্থল হবে জাহান্নাম"।  অন্য আয়াতে বলেন, "শিরক করোনা, নিশ্চয়ই শিরক সবচেয়ে বড় জুলুম"।  যদি কেউ ভুলে শিরক করে আর পরে অনুতপ্ত হয়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি কেও ইচ্ছাকৃতভাবে শিরক করে তবে তাকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না বলেই দিয়েছেন, তবে একটি উপায় তো অবশ্যই আছে। যে শিরক করলো সে মুশরিক হয়ে গেল। যদি সে নতুন করে মুসলমান হয়, তবেই তার সব গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। অর্থাৎ তাকে গোসল করে নতুন করে অন্তর থেকে অনুতপ্ত হয়ে নতুন করে "কালিমাহ" পাঠ করতে হবে।  আর শিরক করা থেকে বিরত থাকুন। ভুলেও যেন শিরক না হয় সেদিকে অবশ্যই লক্ষ রাখুন। 

2882 views Answered

দলিল আমার কাছে এইমুহুর্তে নেই তবে একটা কথা বলি যেটা আপনার জানা থাকতে পারে। জাহেলিয়াতের যুগে এক নারীদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল এটা সবার জানা। এক ব্যাক্তি তার মেয়ে হয়েছে বলে সমাজের হাসিরপাত্র হয় তো একসময় তার কন্যাকে পাথর মেরে মেরে ফেলে তারপর রাসূল সা: এর দরবারে যায় আর বলে এটার ক্ষমা আছে কিনা। রাসূল সা: বলেন তুমি ইসলাম কবুল করলে আল্লাহ তোমার যাবতীয় গুনা মাফ করে দিবে। এখন কথা হচ্ছে সে কিন্তু জানত মানুষ মারা কতবড় গুনা তারপরও মেরেফেলেছে এবং ক্ষমা পেয়েছিল। আর আল্লাহ কুরআনে বলেছেন বান্দার পাপ কাজ করতে ভালবাসে আর আমি ক্ষমা করতে। রাসূল আর বলেছেন যে মায়ের কাছে সন্তান যত বড় অপরাধ করুক মা বলে ডাকদিলে সব ভূলে সন্তানকে বুকে জরিয়ে নেয় তেমনি আল্লাহ বান্দা তওবা করলে আল্লাহও ক্ষমা করে দেন। দলিল ছাড়া এগুলা সচরাচর সবার জানা কথা কিন্তু। আশা করি বুজতে পেরেছেন।

2882 views Answered

শিরক দু প্রকার। ১। শিরকে আকবার বা বড় শিরক। ২। শিরকে আসগার তথা ছোটো শিরক। বড় শিরক হলো যে শিরকের কারণে কাফের মুশরিক হয়ে যায়। এ শিরকের তো ক্ষমা নেই। কারণ কাফের মুশরিকের ক্ষমা হয় না। তার জন্য প্রথমে মুসলিম হতে হবে। তারপর এর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা হলে ক্ষমা পাওয়া যাবে। আর শিরকে আসগারের কারণে কাফের মুশরিক হয় না ঠিক তবে কবিরা গুনাহ হয়। এ শিরক অনুতপ্ত হয়ে তাওবা করার দ্বারা মাফ হয়।

2882 views Answered

 আপনার প্রশ্নের উউত্তর ক্ষমাপ্রার্থনা ও তাওবা করা প্রসংগে মনযোগ সহকারে পড়ুন>>>>> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,  “আল্লাহ্‌র শপথ, নিশ্চয় আমি দৈনিক সত্তর -এর অধিকবার আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবা করি।”[1] ২৪৯-(২) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “হে মানুষ, তোমরা আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা কর, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্‌র কাছে দৈনিক একশত বার তাওবা করি।”[2] ২৫০-(৩) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি বলবে, «أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيّوُمُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ». (আস্তাগফিরুল্লা-হাল ‘আযীমল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি)। ‘আমি মহামহিম আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।’ আল্লাহ তাকে মাফ করে দিবেন যদিও সে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়নকারী হয়।”[3] ২৫১-(৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “রব একজন বান্দার সবচেয়ে বেশি নিকটবর্তী হয় রাতের শেষ প্রান্তে, সুতরাং যদি তুমি যদি সে সময়ে আল্লাহ্‌র যিক্‌রকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে সক্ষম হও, তবে তা-ই হও।”[4]   ২৫২-(৫) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “একজন বান্দা তার রবের সবচেয়ে কাছে তখনই থাকে, যখন সে সিজদায় যায়, সুতরাং তোমরা তখন বেশি বেশি করে দো‘আ কর।”[5] ২৫৩-(৬) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “নিশ্চয় আমার অন্তরেও ঢাকনা এসে পড়ে, আর আমি দৈনিক আল্লাহ্‌র কাছে একশত বার ক্ষমা প্রার্থনা করি।”[6] [1] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১০১, নং ৬৩০৭। [2] মুসলিম, ৪/২০৭৬, নং ২৭০২। [3] আবূ দাউদ ২/৮৫, নং ১৫১৭; তিরমিযী ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৭; আল-হাকিম এবং সহীহ বলেছেন, তার সাথে ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ১/৫১১, আর শাইখুল আলবানীও সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮২, জামেউল উসূল লি আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাঊত এর সম্পাদনাসহ। [4] তিরমিযী নং ৩৫৭৯, নাসায়ী, ১/২৭৯ নং ৫৭২; হাকেম ১/৩০৯। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৮৩; জামে‘উল উসূল, আরনাউতের তাহকীকসহ ৪/১৪৪। [5] মুসলিম, ১/৩৫০; নং ৪৮২। [6] মুসলিম, ৪/২০৭৫, নং ২৭০২। ইবনুল 

2882 views Answered

Related Questions

Next steps