1 Answers

হ্যাঁ,অাছে,  তাদের দৃষ্টিতে।

হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস করে, জীবের মৃত্যুর পর আত্মা পুনরায় জীবদেহ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। হিন্দু ধর্মে মৃত্যু পরবর্তী জীবনে সবাই বিশ্বাসী। ‘জন্মান্তর’ কথাটির মূল অর্থ হল, জীবাত্মা একদেহ পরিত্যাগ করলে কর্মফল ভোগ করার জন্য অন্য দেহ ধারণ করে এ জগতেই পুনরায় জন্মগ্রহণ করে।  গ্রীক ভাষায় এর অর্থ হল আত্মার পরিবর্তন।এক দেহ থেকে অন্য দেহে আত্মার অনুপ্রবেশ।

১. পরকালে অবিশ্বাসীঃ

. হিন্দু পন্ডিতগণ জন্মান্তরবাদের ধারণায় মনে করে, পরকাল বলতে কিছুই নেই; বরং মানুষ তার কৃতকর্মের ফল ভোগ করার জন্য বারবার এ দুনিয়াতে বিভিন্নরূপে, বিভিন্ন বেশে আবির্ভূত হয়ে থাকে। কোন মানুষ যদি অতিশয় ঘৃণিত কুকর্ম করে মারা যায় তাহলে তার আত্মাটি কুকুর-বিড়ালের দেহ ধারণ করে পরজন্মে জন্মগ্রহণ করতঃ অতিশয় ঘৃণিত জীবন যাপন করে মানুষের তিরস্কার ভোগ করবে। আবার এমনও পাপ কাজ আছে, যার কর্মফল ভোগ করার জন্য বৃক্ষলতা হিসাবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করে কুঠারের আঘাতে অথবা জ্বালানিরূপে ব্যবহৃত হয়ে তথা দগ্ধভূত হয়ে পূর্ব-কর্মফলের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করবে। আর এ শাস্তিভোগ করাই হল নরক।  পক্ষান্তরে কোন ব্যক্তি যদি ভাল বা পুণ্যের কাজ করে তাহলে মৃত্যুর পর তার আত্মাটি আরো ধনী, সুখী কিংবা রাজা-বাদশা হয়ে জন্মলাভ করবে। এ সুফল ভোগ করাটা হিন্দুদের দৃষ্টিতে স্বর্গ। এ সম্পর্কে উপনিষদে আছে-  ‘‘পুন্যো বৈ পুন্যোন কর্মনা ভবতি, পাপ; পাপেন।’’  অর্থাৎ পুণ্যের দ্বারা পুণ্যলোক (স্বর্গাদি) লাভ হয়। পাপের দ্বারা পাপলোক (নরকাদি) প্রাপ্তি হয়।

২. জীবাত্মার শূণ্যে বিচরণঃ

 হিন্দু সমাজে এক শ্রেণীর জন্মান্তরবাদী আছে, যারা প্রচলিত কুসংস্কার ত্যাগ করতে না পেরে মানবাত্মা যে মৃত্যুর পর সূক্ষ্ম দেহ ধারণ করে, তা স্বীকার করে বটে; তবে সাথে সাথে তারা আবার একথাও বলে যে, আত্মা একটা দেহ ত্যাগ করে বিচারণ করে। তখন তার অবস্থান কোথায়, কিরূপ থাকে, তা শ্রীমদ ভগবৎ গীতায় বর্ণিত আছে যে, ‘‘আকাশস্থো নিরালাম্বো বায়তুতো নিরাস্ত্রয়।’’ অর্থাৎ আত্মা প্রেতপুরিতে অবলম্বনহীন, নিরাশ্রয় রূপে শূন্যে ভেসে বেড়ায়। তারপর তা শিশিরের রূপ নিয়ে ঘাস, লতা-পাতা, ধান, যব, গম, পানীয়, মানুষ ও কীট-পতঙ্গ খেয়ে থাকে। এ সব খাদ্যের সারভাগ থেকেই শরীরে বীর্যের সৃষ্টি হয় এবং এ থেকেই কর্মানুসারে আত্মা, মানুষ, কীট-পতঙ্গরূপে পুনর্জন্ম লাভ করে এবং তার কৃতকর্মের ফলভোগ করে।

৩. ঈশ্বরের সান্নিধ্য লাভঃ

 অন্য এক শ্রেণীর জন্মান্তরবাদী আছে, যাদের ধারণা হল- মানুষ বহুজন্ম ও জন্মান্তরে নির্বাণ সাধনায় উন্নীত হয়ে আত্মাকে ঈশ্বরের সাথে মিলিত করে অনন্ত সুখ লাভে সক্ষম হয়। তাদের কামনা-বাসনার রিপুগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যায় না; বরং সেগুলো আত্মার এক কোণে সুপ্ত হয়ে অলক্ষ্যে বিরাজ করে। ঈশ্বরের সান্নিধ্যে গিয়ে কিছুকাল অনন্ত ও অনাবিল সুখ-শান্তি ভোগ করার পর সে সুপ্ত রিপুগুলো আবার জাগ্রত হতে থাকে। কিছুকাল পর আত্মা ব্রহ্মত্বের নীচুস্তরে নেমে আসে এবং অধঃপতিত হয়ে আবার জন্মগ্রহণ করে।


৪. কর্মফল অনুযায়ী পুনঃজন্মঃ

 হিন্দু ধর্মে কর্মবাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে জন্মান্তরবাদের। যেকোন কর্মের মূল্যায়ন হয় তার ভবিষৎ ফলের প্রেক্ষিতে। আর এ ফল ভোগ হয় প্রধানত পরকালে তথা পুনঃজন্মে।কর্মবাদ অনুযায়ী মানুষকে তার কৃতকর্মের ফল অবশ্যই ভোগ করবে। এ কর্মবাদের উপর পুনঃজন্ম প্রতিষ্ঠিত। কর্মের ফলভোগ করার জন্যই দেহ ধারন করে,ইহলৌকিক ও পুনঃজন্ম গ্রহণ করে এবং কৃতকর্মের ফল ভোগ করে।


৫. জীবাত্মার বিনাশ নেইঃ

হিন্দু ধর্মে জন্মান্তরবাদের বিশ্বাস হল জীবাত্মার কোন বিনাশ নেই।মৃত্যুর পর জীবাত্মা একদেহে হতে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়।গীতায় বলা হয়েছে, যে মরেছে তাকে পুনরায় জন্মাতে হবে। 

৬. মানুষের জীবন ক্ষণস্থায়ীঃ

 জন্মান্তরের এটি একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য যে, জন্ম যার হয়েছে মৃত্যু তার একদিন হবেই। আর মৃত্যু যার হবে তারও একদিন জন্ম হবে। তাই মানুষের জন্ম ও মৃত্যু কোন কিছুই ক্ষণস্থায়ী নয়। যে জন্মগ্রহণ করবে তাকে মৃত্যুর জন্য আর যে মৃত্যুবরণ করবে তাকে পুনর্জন্মের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

৭. সৎকর্মের প্রতি উদ্বুদ্বঃ

 হিন্দু ধর্ম মতে, মানুষের কর্মফল বিধাতার নিকট লিপিবদ্ব আছে,যে পর্যন্ত তার পাওনা শোধ না হয় সে পর্যন্ত মানুষের জন্মান্তর হতে থাকে। এ বিশ্বাসের কারনে সৎকর্ম করতে উদ্বুদ্ব হয়।কারণ ভালকর্মের জন্য ভাল ফল হয়।

৮. ভোগাকাংখাকে সংযত করাঃ

হিন্দু ধর্মে বলা হয়, আত্মা আর পরমাত্মা এক ও অভিন্ন।কিন্তু আত্মা যখন দেহের ভিতর প্রবেশ করে তখন তা লিপ্সা ও ভোগ-বিলাসে নিমত্ত হয়ে পড়ে।তাই সেই আত্মা আর কোনভাবেই মুক্তি অর্জন করতে পারে না। তাই ভোগাংখা থেকে সংযত রাখা জন্মাতরবাদের একটি কাজ।

৯. মানব জন্মই কাম্যঃ

অপর একটি দল আছে, যাদের এ সম্পর্কীয় মতবাদ আরো উদ্ভট। তাদের মতে, একটি দুই সংখ্যা লিখে তার পরে একশ দশটি শূন্য যোগ করলে যত বছর হয় তাহল এক কল্প। এমনি আশি লক্ষ কল্প ইতর যোগিতে জন্ম নিয়ে জন্মান্তরে সৎকাজ করলে তবেই আত্মা দিব্জত্ব প্রাপ্ত হয়ে নির্বাণ লাভ করে মানুষরূপে পুনর্জন্ম লাভ করতে পারে।

১০. মোক্ষলাভই উদ্দেশ্যঃ

কেউ কেউ গত জন্মের কথা স্মরণ করতে পারেন। বিশেষ করে যারা মোক্ষ লাভ করেন তারা পরিপূর্ণভাবে স্মরণ করতে পারেন। বেদের মধ্যে কোন কোন অবতারের একাধিকবার জন্মলাভের বিষয় স্মরণে থা

2814 views

Related Questions

ল্যরি কিং কে?
1 Answers 2506 Views