অন্ডকোষ বাদ দেয়া কি জায়েজ?
3 Answers
অাল্লাহ অাপনাকে যৌবন শক্তি দিয়েছে পরীক্ষার জন্য, অার এই যৌবন কালে অাপনি গুনাহ ছেড়ে দিয়ে যদি ইবাদাতে মশগুল থাকতে পারেন, তাহলে অাল্লাহর কাছে অাপনি প্রিয় হয়ে যাবেন। অার যদি তা নষ্ট করে ফেলেন, তাহলে এই নেয়ামতের জন্য অাল্লাহর দরবারে কি জওয়াব দিবেন। তাই অাপনার উচিৎ এই মূহুর্তে বিবাহ করা। তাহলেই এই সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু এটা না করে যৌবন শক্তি নষ্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ নাজায়েজ।
আপনার প্রশ্নটি পড়ে বুঝতে পারলাম যে আপনার
যথেষ্ট পরিমাণ ইচ্ছে শক্তি আছে এবং আপনি একজন
আল্লাহ ভীতু মানুষ ।
এসব বিবেচনা করলে নিঃসন্দেহে অনুমান করা যায় আপনি
যদি তওবা করে সব অপকর্ম ও খারাপ কাজ থেকে
নিজেকে বিরত রাখতে পারেন তাহলে যেনা থেকেও
বিরত থাকতে পারবেন ।
আপনি যদি মহান আল্লাহর অপার দান যৌবন শক্তি
নষ্ট করে দিন তাহলে আপনার নিজের সাথে এবং আল্লাহর
সাথে প্রতারণা করা হবে ।
এবং আপনি আল্লাহর পরীক্ষায় হেরে যাবেন ।
তার চেয়ে বরং আপনি নিজের সাথে জেহাদ ঘোষণা করুন ।
প্রতিজ্ঞা করুন আপনি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই
এমন জগন্য তম অপরাধ থেকে দূরে থাকবেন ।
আপনি যে স্থানে বা যার কাছে গেলে এমন কুকর্ম
হয় সেই ব্যক্তি বা স্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখুন ।
বেশি বেশি আল্লাহর এবাদত করুন, কোরআন পাঠ করুন
এবং মসজিদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলুন ।
এই অবস্থায় আপনার বিবাহ করা ফরজ যদি সামর্থ থাকে
বিবাহ করুন অন্যথায় রোজা রাখতে পারেন ।
কেননা আমাদের নবী রাসূল (সা:) বলেছেন যে
তোমরা যৌবন কালে তোমাদের যৌবন কে হেফাজত কর ।
সামর্থ্য থাকলে বিবাহ করো অন্যথায় রোজা রাখো ।
এতে করে কম ভাব টা কম আসবে ।
অবশেষে আপনার জন্য শুভ কামনা ।
আল্লাহ আপনাকে হেফাজত করুক ।
অন্ডকোষ বাদ দেয়া কি জায়েজ?
আপনার এ প্রশ্নের উত্তর আগেই মহানবী সাল্লালাহু আলাইওসাল্লাম দিয়ে গিয়েছেন । তাই ঈমানকে মজবুত করুন, আল্লাহুর সাহায্য চান নামাজের মাধ্যমে। আল্লাহ্ কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে পানাহ চান। সময়টাকে দীনের মজলিসে কাটানোর চেষ্টা করুন ইনশাআল্লাহ এথেকে মুক্তি পাবেন।
নিন্মে বোখারী শরীফের হাদিসটি পড়ুন:
৪৭০৫ কুতায়বা ইবনুূু সাঈদ (রাঃ) আবদুল্লাহ ইবনুূু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জিহাদে অংশ নিতাম; কিন্তু আমাদের কোন কিছু ছিল না। সুতরাং আমরা রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বললাম, আমরা কী খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে খাসি হতে নিষেধ করলেন এবং কোন মহিলার সাথে একখানা কাপড়ের বিনিময়ে হলেও শাদী করার অনুমতি দিলেন এবং আমাদেরকে এই আয়াত পাঠ করে শোনালেনঃ হে মু’মিনগণ! আল্লাহ যে পবিত্র জিনিসগুলো তোমাদের জন্য হালাল করেছেন তোমরা তা হারাম করো না এবং সীমালংঘন করো না। আল্লাহ সীমালংঘনকারীদের পছন্দ করেন না। আসবাগ (রাঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে বললাম, ইয়া রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমি একজন যুবক। আমার ভয় হয় যে, আমার দ্বারা না জানি কোন গুনাহর কাজ সংঘটিত হয়ে যায়; অথচ আমার শাদী করার মতো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। এই কথা শুনে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ রইলেন। আমি আমার প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করলাম। তিনি চুপ রইলেন। আমি আবারও অনুরূপভাবে বললাম। তিনি চুপ থাকলেন। আবারও অনুরূপভাবে বললে তিনি উত্তর করলেন, হে আবূ হুরায়রা! যা কিছু তোমার ভাগ্যে আছে, তা লেখার পর কলমের কালি শুকিয়ে গেছে। তুমি খাসি হও বা না হও, তাতে কিছু আসে যায় না। [১] ১ খাসি হও বা না হও তোমার ভাগ্যে যা আছে, তা অবশ্যই ঘটবে। সুতরাং খাসি হওয়ার দরকার নেই।
২) মুহাম্মদ ইবনুূুল মূসান্না (রহঃ) ইবনুূু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করি। আমাদের সাথে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না। তাই আমরা বলেছিলাম, ইয়া রাসূলল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমরা কি খাসি হয়ে যাব? তিনি আমাদেরকে তা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিলেন।
উল্লেখিত হাদিস মোতাবেক অন্ডকোষ বাদ দেয়া জায়েজ নেই।