তওবা করতে চাই?

আমি পূর্বে নানা ধরনের শিরক করেছি এবং কুফরি কথা বলেছি আরো কবীরা গুনাহ করেছি অনেক আমি কি কি শিরক করেছি এবং কুফরি কথা বলেছি আমার মনে নেই এখন কিভাবে কি বলে তওবা করলে আমার শিরক কুফরি কবীরা গুনাহ মাফ হবে দয়া করে জানাবেন

2658 views

3 Answers

বিধর্মী যদি কেউ ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে এবং তওবা করে আল্লাহ তায়ালা তার শিরকসহ যাবতিয় গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তাছাড়া শিরকের গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করেন না। তারপরও আপনি ফরজ নামাযের পর অত্যান্ত কাকুতি মিনতি ভাবে খাস দেলে তওবা করুন যে আর কোন দিন কুফরি করবেন না।আল্লাহ মাফ করে দিতেও পারে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মহান দয়ালু ।

2658 views Answered

আপনি শিরক করেছিলেন এবং কুফরির কথা বলেছিলেন কিন্তু এখন আর শিরক করেন না এবং কুফরির কথা বলেন না এবং কখনো বলবেন না তাই যদি হয় তাহলে এইমমে' গোছল করুন/ভাল ভাবে ওজু করুন এবং দুই রাকাত সালাতুল তওবা নামাজ আদায় করুন তারপর আল্লাহ্‌র কাছে অন্তর থেকে ক্ষমা চান সম্ভব হলে অশ্রু দিয়ে। নিশ্চয় আল্লাহ্‌ ক্ষমাশীল

ক্ষমা প্রার্থনা ও তাওবা করা

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, “আল্লাহ্‌র শপথ, নিশ্চয় আমি দৈনিক সত্তর -এর অধিকবার আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা চাই এবং তাওবা করি।” [১] 

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “হে মানুষ, তোমরা আল্লাহ্‌র কাছে তাওবা কর, নিশ্চয় আমি আল্লাহ্‌র কাছে দৈনিক একশত বার তাওবা করি।” [২] 

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, “যে ব্যক্তি বলবে,

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظيمَ الَّذِي لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَيُّ القَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيهِ

আমি মহামহিম আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা চাই, যিনি ছাড়া আর কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তিনি চিরস্থায়ী, সর্বসত্তার ধারক। আর আমি তাঁরই নিকট তওবা করছি।’

আস্তাগফিরুল্লা-হাল ‘আযীমল্লাযী লা ইলা-হা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কায়্যূমু ওয়া আতূবু ইলাইহি

[১] বুখারী, ফাতহুল বারীসহ, ১১/১০১, নং ৬৩০৭। 

[২] মুসলিম, ৪/২০৭৬, নং ২৭০২। 

[৩] আবূ দাউদ ২/৮৫, নং ১৫১৭; তিরমিযী ৫/৫৬৯, নং ৩৫৭৭; আল-হাকিম এবং সহীহ বলেছেন, তার সাথে ইমাম যাহাবী ঐকমত্য পোষণ করেছেন, ১/৫১১, আর শাইখুল আলবানীও সহীহ বলেছেন। দেখুন, সহীহুত তিরমিযী ৩/১৮২, জামেউল উসূল লি আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪/৩৮৯-৩৯০, আরনাঊত এর সম্পাদনাসহ। 

[৪] তিরমিযী নং ৩৫৭৯, নাসায়ী, ১/২৭৯ নং ৫৭২; হাকেম ১/৩০৯। আরও দেখুন, সহীহুত তিরমিযী, ৩/১৮৩; জামে‘উল উসূল, আরনাউতের তাহকীকসহ ৪/১৪৪। 

[৫] মুসলিম, ১/৩৫০; নং ৪৮২। 

[৬] মুসলিম, ৪/২০৭৫, নং ২৭০২। ইবনুল আসীর বলেন, «ليُغان على قلبي»এর অর্থ হচ্ছে, ঢাকা পড়ে যায়, পর্দাবৃত হয়ে যায়। উদ্দেশ্য ভুলে যাওয়া; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বদা যিক্‌র, নৈকট্য ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকতেন। তাই যখন কোনো সময় এ ব্যাপারে সামান্যতম ব্যাঘাত ঘটত অথবা ভুলে যেতেন, তখনি তিনি এটাকে নিজের জন্য গুনাহ মনে করতেন, সাথে সাথে তিনি ইস্তেগফার বা ক্ষমাপ্রার্থনার দিকে দ্রুত ধাবিত হতেন। দেখুন, জামে‘উল উসূল ৪/৩৮৬। 

[৭] বুখারি ৭/১৫০

যদি কোনো বান্দা কোনো পাপ কাজ করে ফেলে, অতঃপর সে উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করে এবং দাঁড়িয়ে যায় ও দু রাক‘আত সালাত আদায় করে, তারপর আল্লাহ্‌র কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তাহলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

আবূ দাউদ ২/৮৬, ১৫২১; তিরমিযী ২/২৫৭, নং ৪০৬; আর শাইখ আলবানী সহীহ আবি দাউদে ১/২৮৩ একে সহীহ বলে মত প্রকাশ করেছেন।

2658 views Answered

# তওবা কিভাবে করতে হবে?তওবা করার জন্য জন্য কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে, তাহলেই আল্লাহ তাআ'লা সেই তওবা কবুল করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ তা'য়লা পরম দয়ালু ও অতিভ ক্ষমাশীল।

১. পাপ কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এখন শুধু মুখে মুখে তওবা করে নেই, কয়েকদিন পর থেকে পাপ কাজটা ছেড়ে দেবো – এরকম হলে তওবা কবুল হবেনা।

২. অতীতের সমস্ত পাপ কাজ ও শিরিক বেদয়াত ভুল ত্রুটি আল্লাহর কাছে স্বীকার করে তাঁর কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।

৩. অন্তরে ঐ কাজগুলোর প্রতি ঘৃণা রেখে সেইগুলোতে আর ফিরে না যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করতে হবে। তব কসম করবেন না, কসম না করে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করবেন।

৪. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে সমস্ত গুনাহ-খাতার জন্য “ইস্তিগফার” করতে হবে (ক্ষমা চাইতে হবে) + “তওবা” করতে হবে (গুনাহ করা বন্ধ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে)।

৫. কারো হক্ক নষ্ট করে থাকলে যে ভাবেই হোক তাকে তার পাওনা ফিরিয়ে দিতে হবে, সামর্থ্য না থাকলে অনুরোধ করে, ক্ষমা চেয়ে তার কাছ থেকে মাফ করিয়েনিতে হবে। উল্লেখ্য, তওবা করলে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি কারো পাপ জমীন থেকে আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। কিন্তু বান্দার কোনো হক্ক নষ্ট করে থাকলে সেটা বান্দা মাফ না করলে আল্লাহও ক্ষমা করবেন না।

৬. অন্তরে আশা রাখতে হবে যে, আমি গুনাহগার কিন্তু আল্লাহ গাফুরুর রাহীম – অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু। সুতরাং আমি যতবড় গুনাহগার হয়ে থাকি না কেনো, তিনি আমার তওবা কবুল করবেন ইন শা’ আল্লাহ।

৭. তওবা করার পরে প্রাণপণে চেষ্টা করতে হবে পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে, এবং সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি করে নেকীর কাজ করার জন্য।

৮. যে পাপ কাজ থেকে তওবা করা হলো (সমস্ত পাপ কাজ থেকেই তওবা করা ফরয), কোনো ভুলে বা কুপ্রবৃত্তির কারণে পাপ কাজটা আবার করে ফেললে সাথে সাথে আবার তওবা করে সেটা থেকে ফিরে আসতে হবে। এইভাবে যখনই কোনো পাপ কাজ সংঘটিত হবে, সাথে সাথেই তওবা করতে হবে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত।--------+ধন্যবাদ

2658 views Answered

Related Questions

Next steps