অনেকের মুখে শোনা যায় যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ (স:) এর পিতা-মাতা নাকি জাহান্নামী? এ সম্পর্কে কোরান ও হাদীস কী বলে? কোরান ও হাদীসের দলীল সহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব ।
3027 views

2 Answers

নাউজুবিল্লাহ। 

সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সাল্লাম উনাদের পিতা-মাতা কেউ কাফের বা জাহান্নামি নয়। সকলে বুজুর্গ ছিলেন। 


>>>>>>>

(১) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় কিতাবে বর্ণিত হয়েছে-

فلا يـمكن ان يكون كافرا فى سلسلة ابائه صلى الله عليه وسلم.

অর্থ : “ হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পিতা (পূর্ব পুরুষ) উনাদের সিলসিলার মধ্যে কেউই কাফির হওয়া সম্ভব নয়।” (তাফসীরে মাযহারী শরীফ ৪র্থ খ- ৩০৮ পৃষ্ঠা)

>>>>>>

(২) এ সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে-

ان احدا من اجداده ما كان من الـمشركين.

অর্থ : “নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বাপ-দাদাগণ উনারা কেউই মুশরিক ছিলেননা।” (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩ খণ্ড ৩৯ পৃষ্ঠা)



(৩) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন-

لـم ازل انقل من اصلاب الطاهرين الى ارحام الطاهرات

অর্থ : “আমি সর্বদা পূত-পবিত্র নারী ও পুরুষ উনাদের মাধ্যমেই স্থানান্তরিত হয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে কবীর শরীফ- ১৩/৩৯)


(৪) তিনি আরো বলেন-لـم يلتق ابوى قط على سفاح

অর্থ : “আমার পিতা-মাতা (পূর্বপুরুষ) কেউই কখনও কোন অন্যায় ও অশ্লীল কাজে জড়িত হননি।” (কানযুল উম্মাল শরীফ, ইবনে আসাকীর, বারাহিনে  কাতিয়াহ)


★তবে উনাদের কেউ কোনো গুনাহ করলে তার জবাব আল্লাহপাক উনার কাছে দিতে হবে।

3027 views
বিষয়টি বেশ মতবৈচিত্রপূর্ণ। বেশ স্পর্শকাতরও বটে। এ জাতীয় বিষয়ে কথা না বলাটাই সবচেয়ে নিরাপদ। এ বিষয়ে দু ধরনের হাদীস বিদ্যমান।

১।

عن أنس أن رجلا قال يا رسول الله أين أبى قال « فى النار ». فلما قفى دعاه فقال « إن أبى وأباك فى النار ».

অর্থ, আনাস রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, আল্লাহর রাসূল ! আমার পিতা কোথায় অবস্থান করছেন ? জবাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, জাহান্নামে। যখন সে চলে যেতে উদ্যত হলো তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন, আমার পিতা এবং তোমার পিতা উভয়ই জাহান্নামে অবস্থান করছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫২১

২।

 عن أبى هريرة قال زار النبى -صلى الله عليه وسلم- قبر أمه فبكى وأبكى من حوله فقال « استأذنت ربى فى أن أستغفر لها فلم يؤذن لى واستأذنته فى أن أزور قبرها فأذن لى فزوروا القبور فإنها تذكر الموت .

অর্থ, আবু হুরাইরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা মায়ের কবর যিয়ারত করলেন। তখন তিনি কাঁদলেন এবং আশপাশের লোকদেরও কাঁদালেন। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আমার মায়ের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম; কিন্তু আমাকে অনুমতি দেয়া হয় নি। পক্ষান্তরে আমার মায়ের কবর যিয়ারতের অনমতি প্রার্থনা করলে আমাকে তার অনুমতি দান করেন। সুতরাং তোমরা কবর যিয়ারত করো। কারণ কবর মৃত্যুকে স্মরণ করিয়ে দেয়। সহীহ মুসলিম, হাদীস ২৩০৪

এ দুটি হাদীস বিশুদ্ধ। এতে সামান্যতম সন্দেহের অবকাশ নেই। অন্যদিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মাতাপিতা জান্নাতী হওয়ার ব্যাপারে বেশ কিছু হাদীস রয়েছে। কিন্তু হাদীস ও রিজালশাস্ত্রবিদদের মতে সেগুলোর কোনোটিই সহীহ বা শুদ্ধ নয়। সবগুলোই নিতান্ত দুর্বল ও ভঙ্গুর।

দালিলিক এ বৈচিত্রের কারণে তাদের ব্যাপারে বেশ কয়েকটি অভিমত বের হয়ে এসেছে। যথা : ১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতাপিতা জান্নাতবাসী হবেন। ২। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাতাপিতা জাহান্নামবাসী হবেন। ৩। রোজ হাশরে তাদের পরীক্ষা হবে। পরিক্ষার ফল অনুসারে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে। ৪। যেহেতু তারা ইসলামের দাওয়াত পান নি তাই তাদের ব্যাপারে জাহান্নামের ফয়সালা আসবে না। ৫। তারা মিল্লাতে ইবরাহীম তথা ইবরাহীম আ. আনীত ধর্মাদর্শী ছিলেন। তারা মূর্তিপুজা করেছেন বলে কোনো প্রমাণ নেই।

একারণে সবচেয়ে নিরাপদ ও সর্বোত্তম পন্থা হলো, তাদের ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন করা। আল্লাহই ভাল জানেন তিনি তাদের কোন অবস্থায় রেখেছেন কিংবা রাখবেন। বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বনকেই নিরাপদ বলে অভিহিত করেছেন। যদিও দালিলিক বিচারে দ্বিতীয় অভিমতটি প্রতীয়মান বলে পরিগণিত হয়।

3027 views

Related Questions