2 Answers

এতে সেহেরী খাওয়া কিংবা রোজা রাখার উপর কোনো প্রভাব পড়বেনা। কিন্তু ফজরের নামাজ পড়ার স্বার্থে আপনাকে গোসল করে নিতে হবে।

4407 views

রমজানে রাতের বেলা স্বপ্নদোষ হওয়ার পর অনেক সময় গোসলের সময় থাকে না। যদিও এ অবস্থায় গোসল করা ফরজ। এ ফরজ গোসল না করে যদি সেহরি খাওয়া হয় তাহলে রোজার কোনো ক্ষতি হবে না।

ফিকহবিদদের মতে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও গোসল না করেই সেহরি খেয়ে রোজা রাখলে রোজা সহিহ হবে। তবে ফজরের ওয়াক্ত থাকতেই গোসল করে সময় মতো নামাজ আদায় করে নিতে হবে।

সব সময়ই মনে রাখতে হবে, গোসল ফরজ হওয়া সত্ত্বেও বিনা ওজরে গোসল না করে অপবিত্র অবস্থায় এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গোনাহ। (মুসলিম হাদিস নং ২৫৯২, বাদায়ে, ১/১৫১)।

বিষয়টির প্রমাণ রাসুলের সহধর্মিণী উম্মুল মোমিনীন আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিস হচ্ছে,

রমজান মাসে স্বপ্নদোষ ব্যতীতই অপবিত্র অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুবহে অতিক্রম করতেন। অত:পর তিনি গোসল করে রোজা রাখতেন। (বোখারি : ১৮২৯, মুসলিম : ১১০৯)।

ফরজ গোসল অবস্থায় সূর্যোদ্বয় হয়ে গেলেও রোজার কোন ক্ষতি হবে না।

এমনকি কেউ যদি রাতের মধ্যে স্ত্রী সহবাস করে এবং অপবিত্র অবস্থায় সুবহে সাদিক হয়ে যায় তার রোজা শুদ্ধ হবে; অনুরূপভাবে রাতের বেলা অথবা দিনে ঘুমের মধ্যে কেউ যদি অপবিত্র হয়ে যায় তার রোজাও শুদ্ধ হবে।

বিলম্ব করে ফজর শুরু হওয়ার পরে গোসল করতে দোষের কিছু নেই।

উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন: সহবাসের ফলে নাপাকি অবস্থায় রাসুল সাল্লাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজর করে ফেলতেন। অত:পর গোসল করে রোজা রাখতেন। (সহিহ বুখারি: ১৯২৬)।

আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায (রহঃ) বলেন: রোজাদার যদি জুনুবি বা গোসল ফরজ অবস্থায় ভোর করে অত:পর গোসল করে তাহলে তাতে কোন অসুবিধা নেই। যদি রাতে স্ত্রী সহবাস করার পর সকাল হয়ে যায় এবং ফজর উদিত হওয়ার পর গোসল করে তাহলে তাতে কোন সমস্যা নাই।

তিনি আরও বলেন: এতে অসুবিধা নেই যে, কেউ যদি শেষ রাতে স্ত্রী সহবাস করে, অত:পর সেহরি খায় অত:পর ফজরের আজানের পর গোসল করে। এতে কোন সমস্যা নেই।


4407 views

Related Questions