1 Answers
ছেলেদের অন্তর্বাস বা জাঙ্গিয়া হতে হবে পরিস্কার, সুতি এবং ঢিলা ঢালা। হাল্কা রঙের অন্তর্বাস ব্যবহার করা ভালো যাতে করে ময়লা হলে সহজেই বোঝা যায়। আন্ডারওয়ার অবশ্যই প্রতিদিন চেন্জ করে পড়া দরকার। বিশেষ করে যারা বেশী ঘামেন কিংবা বেশী সময় বাইরে থাকেন তাদের জন্য প্রতিদিন পরিস্কার আন্ডারওয়ার পড়ে বের হওয়া জরুরী। অপরিস্কার আন্ডারওয়ার ব্যবহারের ফলে ঊরুসন্ধি, পুরুষাঙ্গ এবং অন্ডথলি তে দুর্গন্ধ, ঘা এবং ইনফেকশন হতে পারে। আটসাট জাঙ্গিয়া ব্যবহার করা উচিত নয়, বিশেষত বয়সন্ধি কালের ছেলেদের জন্য। এ সময় শুক্রাশয থেকে টেসটোস্টেরন নামক হরমোন নিসৃত হয় যা পুরুষাঙ্গকে বড় ও সুগঠিত করে এবং পুরুষত্বের বিকাশ ঘটায়। আটসাট জাঙ্গিয়া ব্যবহারের ফলে এই বিকাশ ব্যহত হতে পারে। সম্প্রতি এক গবেষনায় বলা হয়েছে ফরাসি পুরুষদের শুক্রাণু উৎপাদন ক্ষমতা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এমনকি তাদের শুক্রাণুর ডিম্বাণু নিষিক্ত করার সক্ষমতাও কমে গেছে ভয়াবহভাবে। আর এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে- আঁটসাঁট অন্তর্বাস, জীবনযাপন পদ্ধতি, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদি। হিউম্যান রিপ্রডাকশন সাময়িকীতে ২০১২ তে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রতিবেদনে এমটাই দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। গবেষণাটি এ যাবত পুরুষের শুক্রাণুর ওপর পরিচালিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরিপ। গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৮৯ সাল থেকে ২০০৫ সাল এ ১৭ বছরের ব্যবধানে ফ্রান্সে পুরুষদের শরীরে শুক্রাণু উৎপাদন হার কমেছে প্রায় এক- তৃতীয়াংশ। একই সঙ্গে উৎপাদিত শুক্রাণুর সক্ষমতাও কমেছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ৩৫ বছর বয়সী ব্যক্তিদের বীর্যের প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা ৭ কোটি ৩৬ লাখ থেকে ৪ কোটি ৯৯ লাখে নেমে গেছে। শুক্রাণু উৎপাদন কমে যাওয়ার এ হার আশঙ্কাজনক বলে মনে করছেন গবেষকরা। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে সন্তান উৎপাদনে সক্ষম হতে একজন পুরুষের বীর্যে গড়ে প্রতি মিলিলিটারে এক কোটি ৫০ লাখের ওপরে শুক্রাণু থাকতে হয়। তবে প্রজনন বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ পুরুষের স্বাভাবিক শুক্রাণুর পরিমান প্রতি মিলিলিটার বীর্যে ২ কোটি থেকে ১৫ কোটির মধ্যে। আবার আপনি যদি সুতির আন্ডারওয়্যারের বদলে পলেস্টারের অর্থাৎ সিনথেটিক কোন আন্ডারওয়্যার পরেন, তাহলে আপনার পুরুত্বহীনতা ঘটতে পারে। এমনকি সুতি ও পলেস্টারের মিশ্রণের আন্ডারওয়্যারও কিছুটা পুরুত্বহীনতা ঘটায়। এ তথ্যাটি জানাচ্ছেন মিশরের গবেষকরা। তাঁদের মতে, পুরুষত্বহীনতার ওপর একমাত্র ১০০ শতাংশ সুতি আন্ডারওয়্যারের কোন প্রভাব নেই। সিনথেটিক আন্ডারওয়্যার ব্যবহারের ফলে অন্ডথলির ওপর অতিরিক্ত গরমের প্রভাবে শুক্রাণুর সংখ্যা এবং শুক্রাণুর সচলতা কমে যায়। এর ফলে সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতাও কমে যায়। সুতরাং পুরুষদের এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কিশোর এবং তরুনদের জণ্য পরামর্শ রাতে ঘুমানোর সময় আন্ডারওয়ার পড়ে শোবেন না, এবং কখনই খুব আটসাট আন্ডারওয়ার ব্যবহার করবেন না।