2 Answers

ভালবাসা হচ্ছে মানুষের অস্তিত্বের একটি অংশ যাকে নিয়েই সে জন্ম গ্রহণ করে এবং সামাজিক বিভিন্ন উপাদানসমূহের প্রভাবে তার রূপ ধারণ করে। যদি এই উপাদানসমূহ ইতিবাচক হয় ভালবাসা স্থায়ী ও দৃঢ় হয় অন্যথায় তার অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে। ধর্ম, মতাদর্শ, চারিত্রিক ও জাতীয় বৈশিষ্ট্য ও সংস্কৃতিক বিশ্বাস আমাদেরকে শিখিয়েছে যে, প্রতিটি মানুষ প্রকৃতিগত ভাবে খোদার পক্ষ হতে পাক ও পবিত্র জন্ম গ্রহণ করে; কিন্তু সামাজিক অবস্থা ও পারিবারিক, সামাজিক, সংস্কৃতিক, চারিত্রিক ও রাজনৈতিক উপদানসমূহ প্রকৃতিগত ও পাক - পবিত্র এই সত্তাকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। পরিবার হচ্ছে সমাজের প্রথম পরিবেশ যা, ভালবাসাকে রূপদান করাতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। শিশু তার পরিবারেই জীবন যাপনের, চরিত্রের, সহমর্মিতার, অন্তরঙ্গতার, বন্ধুত্বের, ও অন্যকে ভালবাসার আইন কানুন ও আদব কায়দার শিক্ষা পায়। তাকে সুযোগ দেয়া উচিত যাতে সে পরক্ষভাবে ও কর্মের মাধ্যমে ভালবাসতে শেখে এবং তার প্রকাশ করে। পরিবারের পর শিক্ষক ও শিক্ষালয়ও শিশু, কিশোর ও যুবকদের ভালবাসার রূপ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখে। একজন শিক্ষক জ্ঞান শিক্ষা ছাড়াও বুদ্ধি ও চিন্তার উন্নতির প্রশিক্ষণে সাহায্য করে থাকেন এবং এই শিক্ষক তার আচার - ব্যবহার ও পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে ছাত্রদের অস্তিত্বে ভালবাসাকে স্থায়ী করতে পারে।কিভাবে ভালবাসতে হয় তার প্রশিক্ষণ দেয়া যায়। অবশ্যই শিশু, কিশোর ও যুবকদেরকে একটি শিক্ষনীয় বিষয় হিসেবে ভালবাসাকে প্রশিক্ষণ দেবে। সমাজের উচিত অবশ্যই যুবকদের অনুভূতির গুরুত্ব দেয়া। যুবকদেরকে সম্মান প্রদর্শন ও মেহেরবানি করাতে তারা সমাজের মূল্যবান কৃষ্টি ও বিশ্বাসের প্রতি আগ্রহী হবে। সমাজ যদি এই প্রয়োজনের প্রতি সঠিক দৃষ্টি না দেয় তারা নিজেদের ভালবাসা ও প্রেমকে গোপণ করবে। সন্তানদের সাথে পরিবারের সম্পর্ক এবং সময় মত প্রেম ও ভালবাসার দিয়ে সন্তানদের পরিচালনা করতে হবে। পরিবারের সদস্যগণ শুধুমাত্র অর্থনৈতিক দিক নিয়ে চিন্তা না করে পিতা - মাতা সময় মত ভালবাসা ও বন্ধুত্ব দিয়ে নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি করতে পারেন এবং পিতা - মাতা বিভিন্ন কাজের চাপে ক্লান্ত, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বিষাদগ্রস্ত না হয়ে মা বাবা সন্তানদের জন্য এবং সন্তানরা মা বাবার জন্য ভালবাসা প্রকাশ করার সুযোগ করে দিতে পারেন। নবী করিম (সা.) বলেছেন: যে পরিবার প্রেম ও ভালবাসায় পরিপূর্ণ থাকে এমন পরিবারের ভিতের মত কোন ভিত’ই আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট এতোটা পছন্দনীয় নয়। অন্য এক হাদীসে বর্ণনা করেন: একজন মুসলমান পুরুষের জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর একজন মুসলমান স্ত্রীর চেয়ে উত্তম কোন কিছু নেই। এমন স্ত্রী, যখন তার দিকে তাকিয়ে দেখে অন্তর থেকে তার মধ্যে খুশি অনুভূত হয়। আর যখনই তার কাছে কোন কিছু চাওয়া হয় সে আনুগত্যতা (হুকুম পালন) করে। আর স্ত্রীও তার স্বামীর অবর্তমানে নিজের সমস্ত সত্তা দিয়ে স্বামীর ধন সম্পদ ও ইজ্জত সম্মানের হেফাজত করে।

2967 views Answered

মানুষ চাক বা না চাক তার জীবনে প্রেম আসবেই। সেক্ষেত্রে প্রেম হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ না, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রেম আসার সময়টা। আর এই প্রেম হবার সময়টা আসলে বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় হয়ে থাকে। আর এখানেই ঘটে বিপত্তি। কলেজ, ইউনিভার্সিটি জীবনে বা অল্প বয়সে প্রেম হলে, নিজের পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার এসব সামলে প্রেমটাকে পরিপূর্ণতা দেয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। আর অল্প বয়সে সঙ্গী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেবার মতো দূরদর্শিতাও থাকে না।সুতরাং, জীবনে প্রেম হবেই, তবে সঠিক সময়ে সেটা হওয়াটাই হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ।

2967 views Answered

Related Questions

Next steps