2 Answers

আমরা মুসলিম হলেও আমাদের মাঝে শিষ্টাচার জনিত আচারন পালনের ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের এই ''ধন্যবাদ'' শব্দটি বহুল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যদিও এটা ইসলামিক রেওয়াজের পরিপন্থি। আমরা স্বাভাবিক ভদ্রতা প্রকাশে এই ধন্যবাদ শব্দটি প্রয়োগ করি। বিবিধ মাত্রায় ছোট খাট উপকার বা সেবা বা আলাপ চারিতার শেষে সৌজন্যতা প্রকাশের প্রয়োজনে বা সন্তুষ্টি প্রকাশের প্রয়োজনে ধন্যবাদ শব্দটি ব্যবহার হয়। কিন্তু কিছু কিছু উপকার বা সেবা এতটাই মুল্যবান যা অনেক সময় আপনজন থেকেও অনেক সময় পাওয়া যায়না। যাহার মূল্যায়ন এতটাই উচ্চ মাত্রায় থাকে, তখন শুধু ধন্যবাদ বলাটা অসৌজন্যমুলক মনে হয়। এমন পরিস্থিতিতেই বলে আপনার উপকারে আমি এতটাই কৃতজ্ঞ যে, আপনাকে ধন্যবাদ বলে ছোট করব না । মূলতঃ যে সৌজন্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রে '' ধন্যবাদ'' বলে। তার চেয়ে অনেক বেশী উচ্চ মাত্রায় সৌজন্যতা প্রকাশের ক্ষেত্রেই বলে ''আপনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ছোট করব না''। স্বাভাবিকের চেয়ে অতি উচ্চ মাত্রা সৌজন্যতা প্রকাশের প্রয়োজনেই এমন করে বলে।

3267 views Answered

অবশ্যই না..! ধন্যবাদ মানুষকে ছোট করে দেয় না..! বরং ধন্যবাদ মানুষকে কৃতজ্ঞতা শেখায়। অপরের প্রতি ছোট হওয়া নয় বরং কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের দুটো মাধ্যম হতে পারে। ১/ জবান বা মুখের মাধ্যমে। ২/ শরীর তথা কর্মের মাধ্যমে। শরীর বা কর্মের মাধ্যমে যেমন-- কেউ আপনার কোন কাজে সহযোগীতা করলো বা কোন ক্ষেত্রে উপকার করল, এর কৃতজ্ঞতা স্বরুপ আপনিও তাকে তার কোন কাজে সাহাজ্য করলেন বা তার কোন উপকার করে দিলেন। আর জবান বা মুখের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা যেমন --- কেউ আপনার কোন উপকার করলো, আপনি তার প্রতি কৃতজ্ঞ হয়ে তাকে বললেন, ভাই, "আপনি আমার বড় উপকার করলেন, আল্লাহ আপনার উপকার করুন"।। এই যে আপনি তাকে এই কথাটা বললেন এটাই হচ্ছে তাঁর প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন! আরবীতে যাকে বলা হয় "শুকরিয়া "। আর "ধন্যবাদ" হচ্ছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের সবচেয়ে সহজ অথচ ওজস্বী মাধ্যম। আর হাদীসেও "মানুষের" প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের তাগিদ এসেছে। হাদীসে এসেছে "তোমরা মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করো। কেননা যে মানুষের কৃতজ্ঞতা আদায় করে না সে আল্লাহরও কৃতজ্ঞতা আদায় করে না"। সুতরাং "ধন্যবাদ" মানুষকে ছোট করে না, বরং কৃতজ্ঞ হতে শেখায়। সর্বোপরি হাদীসের ভাষ্যোনুযায়ী মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা বা শুকরিয়া আদায়ের পবিত্র অভ্যাস গড়ে তোলে।

3267 views Answered

Related Questions

Next steps