1 Answers
বিয়েবাড়ীতে আয়েশ করে ভোজন করছেন, হঠাৎ 'হিক' করে শব্দ করে উঠলেন! উফ! কি বিব্রতকর অবস্থা! একরাশ বিরক্তি নিয়ে মনকে বললেন,"ধুর! কেন যে হেঁচকি ওঠে!"
আজকে সেই বিব্রতকর হেঁচকি ওঠার গল্প নিয়েই আপনাদের বলবো ।
হেঁচকির গল্পের আগে আমাদের জানতে হবে আমরা শ্বাস নেই কীভাবে। আচ্ছা বলুন তো, বাতাস ঢুকলে ফুসফুস ফোলে নাকি ফুসফুস ফুললে বাতাস ঢুকে? অনেকেই হয়তো প্রশ্নটা শুনে হেসে দিয়েছেন এমন বোকার মত প্রশ্ন দেখে, আবার অনেকেই হয়তো এখন বুক ফুলিয়ে টেস্ট করা শুরু করছেন। এভাবে বুক ফুলিয়ে আসলে বোঝা যাবেনা ব্যাপারটা। সংক্ষেপে বলে দিচ্ছি- আমরা আগে ফুসফুসটা ফোলাই , এতে ফুসফুসের ভেতর একটা নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় এবং ফলশ্রুতিতে বাতাস বায়ুমন্ডল থেকে আমাদের ফুসফুসে ঢোকে।
এখন এই ফুসফুস ফোলানোর জন্য কাজ করে বুকের বিভিন্ন পেশী ও শরীরের মধ্যভাগে থাকা এক মাংসল পর্দা আছে যা ডায়াফ্রাম (Diaphragm) নামে পরিচিত । এটি মূলত হৃদপিন্ড ও ফুসফুস তথা বক্ষ গহ্বরকে উদর গহ্বর থেকে পৃথক করে রেখেছে । এটি যখন সংকুচিত হয় তখন ফুসফুস প্রসারিত হয়। এই পর্দা যেই স্নায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় তার নাম 'ভেগাস স্নায়ু' যা পাকস্থলীরও নিয়ন্ত্রক । কোনো কারণে (গরম খাবার, অতিরিক্ত ঝাল বা মশলাদার খাবার) যদি এই স্নায়ু অযথা উদ্দীপিত হয় তবে ডায়াফ্রামের সংকোচন-প্রসারণের ছন্দেও বাধার সৃষ্টি হয়। হঠাৎ তীব্র সংকোচনের সময় আমাদের ভোকাল কর্ড দ্রুত বন্ধ হয়ে 'হিক' জাতীয় শব্দের সৃষ্টি করে!
সেটা কেন ?
আমাদের গলায় পাশাপাশি থাকা খাদ্যনালী ও শ্বাসনালীর মধ্যে আছে একটি জিহ্বা , নাম এপিগ্লটিস । আমরা যখন খাই তখন এই জিহ্বা শ্বাসনালির পথ বন্ধ করে দেয় যেন খাদ্যকণা শ্বাসনালিতে ঢুকতে না পারে । কিন্তু হেঁচকির সময় ডায়াফ্রাম ও বুকের পেশিগুলো আকস্মিকভাবে মাংসপেশির সংকোচন ঘটে । যা এই এপিগ্লটিসকে বোকা বানিয়ে দেয় ও বাতাস ভেতরে ঢুকে যায় । বাতাস যখন সজোরে ভোকাল কর্ড পার হয়ে যায় তখনই হেঁচকির 'হিক' শব্দটার সৃষ্টি হয় ।
এজন্যই ডাক্তারী ভাষায় হেঁচকি মানে Synchronous Diaphragmatic Flutter (SDF) !
সবশেষে হেঁচকি থেকে রেহাই পেতে একটা টিপস :
অন্তত ১০ সেকেন্ড শ্বাস নেয়া বন্ধ রাখুন অথবা হাতের কাছে কোন প্যাকেট, ঠোঙ্গা টাইপের কিছু থাকলে সেটা মুখের সামনে ধরে শ্বাস-প্রশ্বাস নেবেন । আর কিছু না থাকলে দুই হাত বন্ধ মুখের সামনে ধরে সেখানে ৩০-৪০ সেকেন্ড শ্বাস নিলেও বন্ধ হয়ে যায় এটা ।
মোদ্দাকথা আপনার দেহে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বাড়িয়ে দিতে হবে , এতে মস্তিষ্ক ব্যাস্ত হয়ে পরবে দেহ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বের করে দিতে ।
ব্যস ! আপনার হেচকিও বন্ধ !