1 Answers

শরীরের জন্য অতি প্রয়োজনীয় এক উপাদান লবণ। মূলত লবণে থাকা সোডিয়ামই শরীরে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কন্না সোডিয়াম শরীরের পানি আর খনিজ লবণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তের পিএইচ লেভেল ঠিক রাখে। সোডিয়াম প্রয়োজনীয় শরীরের স্নায়ুর সিগন্যাল পরিবহন আর মাংসপেশির সংকোচন প্রসারণের জন্যও। কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত তা নিয়ে অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়েন। অথচ আমাদের খাবারের অপরিহার্য উপাদান হলো লবণ। লবণ গ্রহণ না করলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। আমাদের দৈনিক সোডিয়াম দরকার ১০০০-৩০০০ মিলিগ্রাম। ‘ডায়েটারি গাইডলাইন্স ফর আমেরিকানস ২০১০’ অনুসারে আমরা প্রতিদিন ২ হাজার ৩শ মিলিগ্রাম (প্রায় এক চা চামচ) লবণ গ্রহণ করতে পারি। শরীরে সোডিয়ামের চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন খাবার লবণ প্রয়োজন বড়দের ক্ষেত্রে মাত্র ছয় গ্রাম বা প্রায় এক চা-চামচ। শিশুদের কিডনি বেশি লবণ সহ্য করতে পারে না। তাদের প্রয়োজন আরও কম। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস অথবা পঞ্চাশের ঊর্ধ্বে বয়স থাকলে দৈনিক লবণ গ্রহণের পরিমাণ ৩/৪ মিলিগ্রামে নেমে আসবে। আর দৈনিক ছয় গ্রামের চেয়ে কম লবণ খেলে উচ্চরক্তচাপ হওয়ার আশঙ্কা কমে। আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষই এর চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করে থাকেন। অতিরিক্ত লবণ গ্রহণের ফলে রক্তচাপ বাড়িয়ে হৃদরোগসহ নানা ধরনের জটিলতার কারণ হতে পারে। অতিরিক্ত লবণ খেলে রক্তচাপ বেড়ে তো যাবেই। সাথে পানি জমে শরীর ভারী হয়ে যাবে। লবণ শরীরে বাড়তি পানি ধরে রাখে। ফলে এতে রক্তের ভলিউম বা পরিমাণ বেড়ে যায় এবং শরীর হয়ে ওঠে ভারী। শরীরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধমনির সংকোচনও বাড়িয়ে দেয় লবণ। এ জন্যও রক্তচাপ বাড়ে। রক্তচাপ বাড়ার কারণে বেড়ে যায় বিভিন্ন হূদরোগ। যেমন—ইস্কেমিক হূদরোগ, হার্ট ফেইলিওর ও স্ট্রোকের ঝুঁকি। তাই কোনো অবস্থাতেই খাবারের সময় বাড়তি লবণ গ্রহণ করা ঠিক নয়। তরকারিতে লবণ দিন পরিমিত। বাড়তি কাঁচা লবণ বা পাতে লবণ খাওয়া পরিহার করুন। লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন লবণাক্ত মাছ, চিপস, ক্রেকার্স, লবণাক্ত বিস্কুট, কেচআপ, লবণ-বাদাম, পনির, বেকিং পাউডার ইত্যাদি খাওয়াও কমাতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে। ফাস্টফুডেও যোগ করা হয় বাড়তি লবণ। ফাস্টফুডও তাই পরিহার করুন। বরই, তেঁতুল, আমলকী, আমড়া, জলপাই এ জাতীয় টক ফল লবণ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস পরিত্যাগ করুন। দেখবেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ আর খাওয়া হচ্ছে না।

3214 views

Related Questions