বেতের নামাজ সম্পর্কিত হাদিসগুলো জানতে চাই?

বেতের নামাজ সম্পর্কিত হাদিসগুলো জানতে চাই?
বিভাগ: 

1 টি উত্তর

বিতর নামাজের হাদিস ১ঃ

حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ تَوْبَةَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِي بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَقِيلٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ لأَبِي بَكْرٍ ‏"‏ أَىَّ حِينٍ تُوتِرُ ‏"‏ قَالَ أَوَّلَ اللَّيْلِ بَعْدَ الْعَتَمَةِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ فَأَنْتَ يَا عُمَرُ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ آخِرَ اللَّيْلِ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏"‏ أَمَّا أَنْتَ يَا أَبَا بَكْرٍ فَأَخَذْتَ بِالْوُثْقَى وَأَمَّا أَنْتَ يَا عُمَرُ فَأَخَذْتَ بِالْقُوَّةِ ‏"‏ ‏.‏ حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، سُلَيْمَانُ بْنُ تَوْبَةَ أَنْبَأَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سُلَيْمٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ لأَبِي بَكْرٍ ‏.‏ فَذَكَرَ نَحْوَهُ ‏.‏

১/১২০২। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করেন: তুমি কখন বিতরের সালাত (নামায/নামাজ) পড়ো? তিনি বলেন, এশার সালাতের পরে, রাতের প্রথম ভাগে। তিনি বলেনঃ হে উমার! তুমি কখন? তিনি বলেন, রাতের শেষভাগে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ হে আবূ বাকর! তুমি তো মজবুত নীতির উপর আছো। আর হে উমার! তুমি দৃঢ় সংকল্পের উপর আছো।

১/১২০২(১) আবূ দাঊদ সুলাইমান ইবনু তাওবাহ (রহ ), মুহাম্মাদ ইবনু আববাদ, ইয়াহ্ইয়া ইবনু সুলায়ম, উবাঈদুল্লাহ, নাফি, ইবনু উমার থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবূ বাকর (রাঃ) কে বলেনঃ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ।

বিতর নামাজের হাদিস ২ঃ

وَعَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «بَادِرُوا الصُّبْحَ بِالوِتْرِ».رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: حديث حسن صحيح

বাংলা অনুবাদ

ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার আগে ভাগেই বিতির পড়ে নাও।”

[বুখারি ৯৯৫, ৪৭২, নাসায়ি , ৪৭৩, ৯৯১, ৯৯৩, ৯৯৮, ১১৩৭, মুসলিম ৭৪৯, ৭৫১, তিরমিযি ৪৩৭, ৪৬১, নাসায়ি ১৬৬৬, ১৬৬৭, ১৬৬৮, ১৬৬৯, ১৬৭০, ১৬৭১, ১৬৭২, ১৬৭৩, ১৬৭৪, ১৬৮২, ১৬৯২, ১৬৯৪, আবু দাউদ ১৪২১, ১৪৩৮, ইবন মাজাহ ১১৭৪, ১১৭৫, ১১৭৬, ১৩২২, আহমদ ৪৪৭৮, ৪৫৪৫, ৪৬৯৬, ৪৭৭৬, ৪৮৩২, ৪৮৪৫, ৪৯৫১, ৫০১২, মুওয়াত্তা মালিক ২৬১, ২৬৯, ২৭৫, ২৭৬, দারেমি ১৪৫৮]

বিতর নামাজের হাদিস ৩ঃ

وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِي: أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَوْتِرُوا قَبْلَ أَنْ تُصْبِحُوا». رواه مسلم

বাংলা অনুবাদ

আবূ সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ফজর হওয়ার পূর্বেই তোমরা বিতির পড়ে ফেল।”

[মুসলিম ৭৫৪, তিরমিযি ৪৬৮, নাসায়ি ১৬৮৩, ১৬৮৪, ইবন মাজাহ ১১৮৯, আহমদ ১০৭১, ১০৯০৯, ১০৯৩১, ১১২০৮, দারেমি ১৫৮৮]

বিতর নামাজের হাদিস ৪ঃ

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: أَنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي صَلاَتَهُ بِاللَّيْلِ، وَهِيَ مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَ يَدَيْهِ، فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، أَيْقَظَهَا فَأَوْتَرتْ . رواه مسلم

وفي روايةٍ لَهُ: فَإذَا بَقِيَ الوِتْرُ، قَالَ: «قُومِي فَأَوتِرِي يَا عَائِشَة».

বাংলা অনুবাদ

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা কর্তৃক বর্ণিত, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাঁর (তাহাজ্জুদ) নামাজ পড়তেন। আর তিনি (আয়েশা) তাঁর সামনে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন। অতঃপর যখন (সব নামাজ পড়ে) বিতির বাকি থাকত, তখন তাঁকে তিনি জাগাতেন এবং তিনি (আয়েশা) বিতির পড়তেন।

অন্য বর্ণনায় আছে, যখন বিতির অবশিষ্ট থাকত, তখন তিনি বলতেন, “আয়েশা! উঠ, বিতির পড়ে নাও।”

[মুসলিম ৭৪৪, বুখারি ৫১২-১৫, ৫১৯, নাসায়ি ১৬৬-৬৮, ৭৫৯, আবু দাউদ ৭১০-১৪, আহমদ ২৪৬৫৮, ২৫১৬৮]

বিতর নামাজের হাদিস ৫ঃ

وَعَنْ عَائِشَة رَضِيَ اللهُ عَنْهَا، قَالَتْ: مِنْ كُلِّ اللَّيْلِ قَدْ أَوْتَرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مِنْ أَوَّلِ اللَّيْلِ، وَمِنْ أوْسَطِهِ، وَمِنْ آخِرِهِ، وَانْتَهَى وِتْرُهُ إِلَى السَّحَرِ . متفقٌ عَلَيْهِ

বাংলা অনুবাদ

আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের প্রতিটি ভাগেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিতির পড়েছেন; রাতের প্রথম ভাগে, এর মধ্য ভাগে ও শেষ ভাগে। তাঁর বিতরের শেষ সময় ছিল ভোরবেলা পর্যন্ত।

(অর্থাৎ এর প্রথম সময় এশার পর পরই শুরু হয় আর শেষ সময় ফজর উদয়কাল অবধি অবশিষ্ট থাকে। এর মধ্যে যে কোন সময় ১,৩,৫,৭, প্রভৃতি বিজোড় সংখ্যায় বিতির পড়া বিধেয়।)

[মুসলিম ৭৪৫, তিরমিযি ৪৫৬, নাসায়ি ১৬৮১, আবু দাউদ ১৪৩৫, ইবন মাজাহ ১১৮৫, আহমদ ২৪৪৫৩, দারেমি ১৫৮৭]

“বিতর নামাজ সম্পর্কীয় হাদীসসমূহ পর্যালোচনা করে ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, বিতর নামাজ ওয়াজিব অর্থাৎ ফরয ও ওয়াজিবের মাঝামাঝি। অন্যদিকে অন্য সকল ইমামদের মত হল বিতির সুন্নত........................ বিতির সময় মত না পড়তে পাড়লে কিংবা ভুলে গেলে তা স্মরণ হওয়ার পরে পড়ে নিতে হবে। অর্থাৎ ফরজ নামাজের ন্যায় বিতির কাযা করতে হবে । এই হাদীস এবং বিতির সম্পর্কে হযরত আলী ও হযরত আইয়ুব আনসারীর হাদীস ইমাম আবু হানীফার মতকেই শক্তিশালী করে , কেননা বিতির যদি অন্যান্য সুন্নত নামাজের ন্যায় সুন্নত হতো তাহলে হুজুর (ছঃ) এ কথাও বলতেন না এবং বিতির কাযা করার নির্দেশ দিতেন না” (মুমতাজুল মোহাদ্দেসীন আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফ, হাদীসের আলোকে মানব জীবন, বিতিরের নামাজ অধ্যায়)

সাম্প্রতিক প্রশ্নসমূহ