ক্ষমতা প্রয়োগের ধরণ বিচারে নেতৃত্বের শ্রেনীবিভাগ হলো-

ক্ষমতা প্রয়োগের ধরণ বিচারে নেতৃত্বের শ্রেনীবিভাগ হলো- সঠিক উত্তর চার প্রকার

ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন বিচারে (Basing on types of using power)একজন নেতা যেভাবে তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেন সেটি পর্যালোচনা করেও নেতৃত্বের ধরন সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করা যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নেতাদের ক্ষমতা প্রয়োগের ধরনে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এরূপ পার্থক্যজেনে নেতৃত্ব নিম্নোক্ত চার ধরনের হতে পারে।        ১. স্বৈরতান্ত্রিক বা প্রভুত্বমূলক নেতৃত্ব (Autocratic leadership) : স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বে সকল ক্ষমতা নেতার হাতে এককভাবে কেন্দ্রীভূত থাকে, নেতাই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এক্ষেত্রে কর্মচারীদের সাথে আলাপ আলোচনার কোন সুযোগ রাখা হয় না। নেতা কর্মচারীদের যে আদেশ দিয়ে থাকেন তা বিনা বাক্যে মানতে হয়। এ ধরনের নেতার দাপটে কর্মচারীরা সবসময় ভীত থাকে।        ২. পিতৃসুলত নেতৃত্ব (Paternalistic leadership) : প্রভুত্বমূলক বা স্বৈরাচারী নেতৃত্বের উন্নত সংস্করণই হল পিতৃথূলত নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে নেতা ও অনুসারীদের মধ্যে গিতা ও সন্তানের সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। নেতা এক্ষেত্রে অনুসারীদের প্রতি সদয় থাকে। অভাব অভিযোগের প্রতি মনোনিবেশ করে এবং হে মমতার মাধ্যমে শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করে কাজ আদায়ের চেষ্টা করে। সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় সামন্ত প্রভুদের মনোভাবের উন্নতির বহিঃপ্রকাশ হতেই এ ধরনের নেতৃত্বের উৎপত্তি। জাপানে পিতৃসুলভ নেতৃত্ব বর্তমানে সফলতার সাথে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।        ৩. গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণমূলক নেতৃত্ব (Democratic participative leadership) : এটি স্বৈরতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিপরীত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ লক্ষ্য করা যায়। নেতা এককভাবে সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তিনি কর্মচারীদের মতামত নিয়ে থাকেন। গণতান্ত্রিক নেতা কর্মচারীদের সাথে একযোগে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে একটি সামাজিক গোষ্ঠী গড়ে ওঠে। তাই এরূপ নেতৃত্বে অধস্তন কর্মীবৃন্দ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করে। Douglas MeGregor এ ধরনের নেতৃত্বকে Theory "Y" বলে আখ্যায়িত করেন।        ৪. মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্ব (Freemen leadership) : মুক্ত বা লাগামহীন নেতৃত্ব এমন এক ধরনের নেতৃত্বের স্টাইল যেখানে নেতা নামমাত্র নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মীরাই মূলত সকল প্রকার কার্যাবলি সম্পাদন করে থাকেন। তারা লক্ষ্য নির্ধারণ, কার্যসম্পাদন কিংবা সমস্যা চিহ্নিত করার ব্যাপারে পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করেন। কর্মীরা নিজেরাই তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন এবং প্রেষণার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন। এরূপ নেতৃত্বে কার্যত কোন সুবিধা নেই। এক্ষেত্রে অধস্তনরা নেতাকে কোন মূল্য দেয় না। প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ সময়ই বিশৃঙ্খলা বিরাজ করে এবং অনুসারীরা স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে এটি হচ্ছে এক ধরনের অরাজক নেতৃত্ব

Related Questions

ক্ষমতা প্রয়োগের প্রেক্ষিতে নেতৃত্বের ধরন কোনটি?
বিশ্বব্যাংকের শ্রেনীবিভাগ অনুযায়ী বাংলাদেশ হচ্ছে ?
কোনটি দৃষ্টিভঙ্গির বিচারে নেতৃত্বের ধরন?
দৃষ্টিভঙ্গি বিচারে নেতৃত্বের ধরন কোনটি?